
হাজার হাজার দর্শকের চিৎকারে স্টেডিয়াম তখন কাঁপছে, কিন্তু দিবু মার্তিনেস গোলপোস্টের সামনে দাঁড়িয়ে এমনভাবে হাসছেন, যেন পুরো মাঠের সবচেয়ে মজার গোপন কথাটা শুধু তিনিই জানেন। প্রতিপক্ষ খেলোয়াড় বলটা পেনাল্টি স্পটে রেখে কয়েক পা পেছনে যায়। একবার ডান দিকে তাকায়, আবার বাঁ দিকে, তারপর দিবুর চোখের দিকে তাকিয়েই যেন সব পরিকল্পনা গুলিয়ে ফেলে। দিবু একটু কাঁধ নাচান, গ্লাভস দুটো ঠুকঠুক করে বাজান আর গোললাইনে ছোট্ট পায়ে এদিক ওদিক চলেন। শট এখনো নেওয়া হয়নি, অথচ গোলরক্ষক যেন খেলার অর্ধেকটা জিতে ফেলেছেন। এই দুষ্টু হাসি, সাহস আর রহস্যময় ভঙ্গি নিয়েই এসেছে দিবু মার্তিনেসের বিশ্বকাপ ২০২৬ স্টিকার, যেটি শিশুরা প্রিন্ট করে নিজের পছন্দের রঙে সাজাতে পারে।
কাগজে দিবু তৈরি হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন, কিন্তু তাঁর সামনে কে বল মারবে, মাঠে কী স্কোর চলছে কিংবা ম্যাচটি কোথায় হচ্ছে, তার কিছুই ঠিক করা নেই। হয়তো এটি বিশ্বকাপের ফাইনাল, যেখানে শেষ পেনাল্টিটি বাঁচাতে পারলেই আর্জেন্টিনা জিতে যাবে। হয়তো এটি বিকেলের পাড়ার ম্যাচ, যেখানে স্কুলব্যাগ দিয়ে গোলপোস্ট বানানো হয়েছে আর পাশের বাসার বিড়ালটি সাইডলাইনে বসে খেলা দেখছে। চাইলে ম্যাচটি চাঁদেও হতে পারে। সেখানে বল এত ধীরে উড়বে যে দিবু বল ধরার আগে একবার ঘুরে দাঁড়িয়ে গ্লাভস ঠিক করে নিতে পারবেন। গল্পের মাঠ, প্রতিপক্ষ আর ফলাফল সবই ঠিক করবে যে শিশু ছবিটা রং করছে।
অনেকেরই প্রথমে চোখ যাবে দিবুর বড় বড় গোলকিপার গ্লাভসে। একটি গ্লাভস সবুজ, অন্যটি নীল হতে পারে। আঙুলগুলো আলাদা আলাদা রঙে ভরানো যায়। লাল আঙুল দ্রুত শট আটকাবে, হলুদ আঙুল ওপরের কোণের বল ধরবে আর বেগুনি আঙুল পেনাল্টির সময় জাদুর মতো কাজ করবে। হাতের তালুতে ছোট্ট একটি তারা, সিংহ, হৃদয় কিংবা নিজের নামের প্রথম অক্ষর আঁকা যেতে পারে। সেই চিহ্নটি দিবুর গোপন সৌভাগ্যের প্রতীক হবে, যার মানে শুধু ছোট্ট শিল্পীই জানবে।
জার্সির ক্ষেত্রেও কোনো বাধা নেই। কেউ চাইলে আর্জেন্টিনার কথা মনে করিয়ে দেওয়া হালকা নীল, সাদা আর সোনালি রং ব্যবহার করতে পারে। আবার কেউ দিবুকে কমলা হাতাওয়ালা বেগুনি জার্সি পরাতে পারে। জার্সির ওপর ছোট ফুটবল, বিদ্যুৎ, মেঘ, তারা কিংবা মজার মুখ আঁকা যায়। এক পায়ের বুট লাল আর অন্যটি সবুজ হলেও সমস্যা নেই। এই মাঠে পোশাকের নিয়ম বানায় শিশুরাই। কোনো ফ্যাশন রেফারি এসে বাঁশি বাজাবে না।
দিবুর পেছনে গোলপোস্ট আঁকা হলে ছবির ভেতর মুহূর্তেই খেলা শুরু হয়ে যায়। গোলের জালটি সোজা ঘর দিয়ে তৈরি করা যায়, আবার ঢেউয়ের মতো বাঁকিয়েও আঁকা যায়। জালের এক কোণে একটি মাকড়সা বসে থাকতে পারে, যে অনেক দিন ধরে বলের অপেক্ষায় আছে, কিন্তু দিবু সব বল বাঁচিয়ে দেওয়ায় তার কাছে কিছুই পৌঁছায় না। গোলপোস্টের পাশে পানির বোতল, তোয়ালে বা ছোট্ট সৌভাগ্যের খেলনা রাখা যায়। ওপরের বারে একটি পাখি বসে থাকবে, তবে জোরে শট এলে সে যে তড়িঘড়ি উড়ে যাবে, তা নিশ্চিত।
স্টেডিয়ামের দর্শকদের নিয়ে আলাদা মজা করা যায়। কেউ আর্জেন্টিনার পতাকা নাড়ছে, কেউ স্কার্ফ দিয়ে চোখ ঢেকেছে, আবার কেউ শট হওয়ার আগেই লাফিয়ে উদযাপন শুরু করে দিয়েছে। একটি শিশুর হাতে লেখা থাকতে পারে, “দিবু, বলটা ধরো।” অন্য পোস্টারে থাকতে পারে, “এই গোল বন্ধ।” স্কোরবোর্ডে সমতা আর ম্যাচের শেষ কয়েক সেকেন্ড দেখালে উত্তেজনা বেড়ে যাবে। চাইলে স্কোর দশ নয়ও লেখা যায়, কারণ কল্পনার ম্যাচে অদ্ভুত ফলাফল একদম স্বাভাবিক।
পেনাল্টির সময় দিবুর আচরণ দেখলে মনে হয়, গোলপোস্টের সামনে ছোট্ট একটি নাটক চলছে। তিনি শুধু দাঁড়িয়ে থাকেন না। কথা বলেন, হাততালি দেন, গ্লাভস বাজান আর কাঁধ নাড়ান। প্রতিপক্ষ বলের দিকে তাকাতে চাইলেও বারবার দিবুর দিকে চোখ চলে যায়। শিশুরা তাঁর কাঁধের পাশে গানের চিহ্ন আঁকতে পারে, যেন দিবু নিজের গোপন সুরে নাচছেন। পেনাল্টি নেওয়া খেলোয়াড়ের মাথার ওপর তিনটি ভাবনার বুদবুদ আঁকা যায়। একটিতে ডান কোণ, একটিতে বাঁ কোণ আর আরেকটিতে গোলের মাঝখান থাকবে। এত ভাবতে ভাবতে সে হয়তো ভুলেই যাবে কী করতে এসেছিল।
বলটিকেও চরিত্র বানানো যায়। বড় বড় চোখ আর ছোট্ট মুখ আঁকলেই মনে হবে, বল নিজেও দিবুকে দেখে ভয় পেয়েছে। শটের আগে তার মুখ চিন্তিত, বাঁচানোর পরে অবাক, আর পোস্টের বাইরে চলে গেলে একটু লজ্জিত হতে পারে। একটি বল গোল করতে মরিয়া, আরেকটি দিবুর গ্লাভসের বন্ধু হতে চায়। শিশুর কল্পনায় ফুটবল কথা বলতে, হাসতে আর বুটের সঙ্গে তর্ক করতে পারে।
ছবির পাশে চারটি ছোট ঘর আঁকলে তৈরি হয়ে যাবে মজার কমিক। প্রথম ঘরে রেফারি পেনাল্টি স্পট দেখাচ্ছে। দ্বিতীয়টিতে দিবু গ্লাভস ঠিক করছেন। তৃতীয় ঘরে খেলোয়াড় দৌড় শুরু করেছে। চতুর্থ ঘরে থাকবে চমক। বল দিবুর হাতে আটকে যেতে পারে, পোস্টে লেগে ফিরে আসতে পারে কিংবা এত উঁচুতে উড়তে পারে যে গোলের পেছনে বসা ফটোগ্রাফারের টুপি ফেলে দেয়। “ধাম”, “শুঁইই”, “ধরে ফেলেছে” কিংবা “কী সেভ” লিখলে কাগজের খেলাতেও শব্দ শোনা যাবে।
দিবু নামটির গল্পটাও যেন শিশুদের বই থেকে উঠে এসেছে। তাঁর আসল নাম এমিলিয়ানো মার্তিনেস (Emiliano Martínez)। ছোটবেলায় তাঁর হালকা চুল, মুখের ছোপ ছোপ দাগ আর চঞ্চল চেহারা দেখে বন্ধুরা মনে করত, তিনি আর্জেন্টিনার এমন একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানের চরিত্রের মতো, যেখানে সত্যিকারের মানুষ আর কার্টুনের জগৎ একসঙ্গে দেখা যেত। বন্ধুরা তাঁকে দিবু বলে ডাকতে শুরু করল। নামটি এমনভাবে থেকে গেল যে আজ সারা বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীরা তাঁকে এমিলিয়ানোর চেয়ে দিবু নামেই বেশি চেনে।
মজার ব্যাপার হলো, কার্টুন চরিত্রের সঙ্গে মিল থাকার কারণে যে শিশুর নাম হয়েছিল দিবু, সেই শিশুই বড় হয়ে এখন রং করার ছবির নায়ক। ছোট্ট শিল্পী চাইলে ছবির অর্ধেক অংশ বাস্তব স্টেডিয়ামের মতো আঁকতে পারে আর অন্য অর্ধেককে কার্টুনের জগৎ বানাতে পারে। এক পাশে থাকবে ক্যামেরা, দর্শক আর রেফারি। অন্য পাশে থাকবে কথা বলা বুট, হাসতে থাকা বল আর চোখওয়ালা গোলপোস্ট। দিবুর পাশে তাঁর মতো গ্লাভস পরা একটি ছোট কার্টুন বন্ধু দাঁড়াতে পারে।
আজ দিবুকে বড় ম্যাচে দেখে মনে হতে পারে, তিনি বুঝি শুরু থেকেই বিখ্যাত ছিলেন। আসলে তাঁর পথটা ছিল অনেক দীর্ঘ। অল্প বয়সে তিনি আর্জেন্টিনা ছেড়ে ইউরোপে গিয়েছিলেন। নতুন দেশে গিয়ে সঙ্গে সঙ্গেই বড় দলের মূল গোলরক্ষকের জায়গা পাননি। এক ক্লাব থেকে আরেক ক্লাবে গেছেন, ধারেও খেলেছেন এবং বহু ম্যাচ বেঞ্চে বসে দেখেছেন। অন্য গোলরক্ষকরা মাঠে নামলেও তিনি অনুশীলন চালিয়ে গেছেন।
উঁচু বল ধরা, গোললাইনে দ্রুত পা চালানো, সঠিক সময়ে সামনে এগিয়ে আসা আর শক্ত শট ঠেকানোর কাজ তিনি বারবার করেছেন। তাঁর বড় সুযোগ কখন আসবে, সেটি কেউ বলে দিতে পারেনি। তিনি শুধু নিজেকে তৈরি রাখতেন। যখন সুযোগটি এল, তখন বহু বছরের অদেখা পরিশ্রম একসঙ্গে দেখা গেল। অল্প পরিচিত গোলরক্ষক থেকে তিনি আর্জেন্টিনার গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হয়ে উঠলেন।
এই গল্প রং করার সময়ও মনে রাখা যায়। একটি ছবি কয়েক মিনিটেই শেষ করতে হবে এমন কোনো কথা নেই। আজ গ্লাভস আর জার্সি রং করা যেতে পারে, কাল গোলপোস্ট আর দর্শক আঁকা যাবে। মুখের অংশে একটু ধীরে কাজ করা যায়। জালের প্রতিটি ঘরে আলাদা রং দিতে চাইলে সময় লাগবে। ছবি মাঝপথে রেখে পরে আবার শুরু করলে নতুন নতুন ভাবনাও আসে।
রং পেনসিল লাইনের বাইরে চলে গেলেও ভয় পাওয়ার কিছু নেই। সেই দাগ বলের গতিপথ হয়ে যেতে পারে। স্কেচপেনের কালির ফোঁটা জার্সির কাদা, আকাশে ওড়া কাগজ কিংবা নতুন নকশায় বদলে যেতে পারে। ভুল জায়গায় আঁকা গোল দাগটি দূরের ক্যামেরা হতে পারে। বাঁকা লাইন ঘাসের ওপর পিছলে যাওয়া খেলোয়াড়ের চিহ্ন হতে পারে। ভুলকে মুছে ফেলার বদলে গল্পের কাজে লাগানোই বেশি মজার।
মোম রং দিয়ে বড় অংশ দ্রুত ভরানো যায়। রং পেনসিল দিয়ে মুখ, চুল, দাড়ি আর গ্লাভসে নরম ছায়া তৈরি করা যায়। স্কেচপেন পতাকা, স্কোরবোর্ড আর জার্সির নকশাকে উজ্জ্বল করবে। জলরং দিয়ে আকাশ, মাঠ কিংবা স্টেডিয়ামের আলো রাঙানো যায়। রঙিন কাগজের ছোট টুকরো কেটে পতাকা বা কনফেটি হিসেবে লাগালে দিবু মার্তিনেসের প্রিন্ট করা স্টিকারটি রং করা, আঁকা আর হাতের কাজের সুন্দর মিশ্রণ হয়ে উঠবে।
দিবু শুধু শরীরের অনুশীলন করেননি, নিজের মনকেও প্রস্তুত করতে শিখেছেন। বড় ম্যাচের চাপ বিখ্যাত খেলোয়াড়দেরও নার্ভাস করে দিতে পারে। হাজার হাজার দর্শকের শব্দ, অসংখ্য মানুষের চোখ আর একটি শটেই ম্যাচ বদলে যাওয়ার সম্ভাবনা খুব সহজ বিষয় নয়। এমিলিয়ানো নিজের উদ্বেগ সামলাতে এবং কঠিন মুহূর্তে মন শান্ত রাখতে সাহায্য নিয়েছিলেন। তিনি বুঝেছিলেন, মাথার ভেতরের ভাবনাগুলোর যত্ন নেওয়াও গ্লাভস আর পায়ের অনুশীলনের মতো জরুরি।
শিশুরা বিশ্বকাপের ফাইনালে না খেললেও এমন অনুভূতি চেনে। ক্লাসের সামনে পড়তে যাওয়ার আগে, নতুন স্কুলে প্রথম দিন কিংবা প্রথম ফুটবল অনুশীলনে যোগ দেওয়ার সময় পেটের ভেতর কেমন যেন লাগে। সাহসী হওয়ার মানে কখনো ভয় না পাওয়া নয়। ভয় লাগলেও চেষ্টা করা, বিশ্বস্ত কারও সঙ্গে কথা বলা আর ধীরে শ্বাস নেওয়াও সাহসের অংশ।
ছবিতে দিবুর জন্য একটি গোপন প্রস্তুতির অভ্যাস বানানো যায়। ম্যাচের আগে তিনি দুই গোলপোস্ট ছুঁয়ে দেখেন। তিনবার গ্লাভস বাজান। তারপর পরিবারের কথা ভাবেন। তাঁর কবজিতে একটি ছোট চিহ্ন থাকতে পারে, যা তাঁকে শান্ত থাকতে মনে করিয়ে দেয়। সেটি হৃদয়, তারা, সূর্য, বাঘ কিংবা ছোট্ট হাতি হতে পারে। এই চিহ্নের মানে শুধু ছবির শিল্পী জানবে।
দিবুর সবচেয়ে বিখ্যাত সেভগুলোর একটি হয়েছিল ২০২২ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে। ম্যাচের খুব গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ফ্রান্সের একজন খেলোয়াড় আর্জেন্টিনার গোলের সামনে থেকে বিপজ্জনক শট নিয়েছিলেন। বলটি জালে ঢুকবে বলেই মনে হচ্ছিল। দিবু খুব তাড়াতাড়ি মাটিতে ঝাঁপ দেননি। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থেকে শরীর বড় করে পা বাড়িয়ে বলটি ঠেকিয়ে দেন। ঘটনাটি কয়েক মুহূর্তের ছিল, কিন্তু ফুটবলপ্রেমীদের মনে সেটি অনেক দিন ধরে রয়ে গেছে।
শিশুকে সেই দৃশ্য হুবহু নকল করতে হবে না। বলের পেছনে লম্বা গতির রেখা আঁকা যায়। শট নেওয়া খেলোয়াড়ের বুট থেকে ঘাস উড়তে পারে। আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা হাত তুলে দিবুর দিকে ছুটে আসবে। গোলের পেছনের ফটোগ্রাফার ক্যামেরা প্রায় ফেলে দেবে। ওপরের বারে বসা পাখিটি চমকে ডানা মেলে উড়ে যাবে।
কল্পনার ম্যাচে শট নেওয়া খেলোয়াড় সাধারণ মানুষ না হলেও চলে। তিন পায়ের রোবট পেনাল্টি নিতে পারে। বুট পরা ডাইনোসর শক্ত শট মারতে পারে। বরফের ওপর পিছলে আসা পেঙ্গুইন গোল করার চেষ্টা করতে পারে। বলটি বরফ, আলো কিংবা রঙিন জেলির তৈরি হতে পারে। গোলপোস্ট জলদস্যুদের জাহাজে, সমুদ্রের নিচে অথবা চাঁদের মাটিতে বসানো যেতে পারে।
চাঁদের ম্যাচে বল অনেক ধীরে উড়বে। দিবু বল ধরার আগে একবার ঘুরে দাঁড়িয়ে গ্লাভস ঠিক করতে পারবেন। জলদস্যুদের জাহাজে দুই মাস্তুলের মাঝখানে গোলের জাল বাঁধা থাকবে আর রেফারির কাঁধে বসে থাকবে টিয়া পাখি। সমুদ্রের নিচের ম্যাচে খেলোয়াড়রা বুটের বদলে পাখনা পরবে এবং ছোট মাছগুলো জালের ফাঁক দিয়ে খেলা দেখবে।
যারা বাস্তব ফুটবলের পরিবেশ পছন্দ করে, তারা রাতের স্টেডিয়াম আঁকতে পারে। গাঢ় নীল আকাশের নিচে উজ্জ্বল বাতি জ্বলছে। হাজার ছোট বিন্দু দিয়ে দর্শক তৈরি হয়েছে। গোলপোস্টের পাশে পানির বোতল, জালের পেছনে তোয়ালে আর কয়েকটি ক্যামেরা থাকবে। স্কোরবোর্ডে শেষ কয়েক সেকেন্ড দেখা যাচ্ছে। দিবু হাঁটু একটু বাঁকিয়ে পরের শটের অপেক্ষা করছেন।
তাঁর সতীর্থদেরও ছবিতে জায়গা দেওয়া যায়। দিবু লিওনেল মেসি এবং আর্জেন্টিনা দলের সঙ্গে অনেক স্মরণীয় মুহূর্ত ভাগ করেছেন। একজন গোলরক্ষক বল বাঁচালে শুধু নিজের কাজই করেন না। তিনি পুরো দলের পরিশ্রম রক্ষা করেন। কেউ মাঠজুড়ে দৌড়েছে, কেউ পাস দিয়েছে, কেউ বল কেড়ে নিয়েছে।
শিশু মেসিকে দিবুর দিকে ছুটে আসতে আঁকতে পারে। অন্য খেলোয়াড়রা এসে সবাইকে জড়িয়ে ধরবে। সবাই মিলে কাপ তুলতে পারে। জার্সির পেছনে আসল খেলোয়াড়দের বদলে বন্ধু, ভাইবোন কিংবা কাজিনদের নাম লেখা যায়। প্রত্যেকের আলাদা প্রতিভা থাকবে। কেউ খুব দ্রুত দৌড়ায়, কেউ দারুণ কর্নার মারে আর কেউ ড্রেসিংরুমে সবাইকে হাসায়।
মাঠের বাইরে এমিলিয়ানো মার্তিনেসকে অনেকেই মজার, আন্তরিক এবং পরিবারপ্রেমী মানুষ হিসেবে চেনেন। পেনাল্টির সময় প্রতিপক্ষকে নার্ভাস করার চেষ্টা করা গোলরক্ষক ম্যাচ শেষে হাসেন, মজা করেন আর নিজের প্রিয় মানুষদের কথা ভাবেন। তাঁর এই নরম দিকটিও ছবিতে রাখা যায়।
গ্লাভসে একটি হৃদয় আঁকা যেতে পারে। জার্সির হাতায় প্রিয় কারও নামের প্রথম অক্ষর লেখা যায়। গ্যালারিতে পরিবারের সদস্যরা হাতে বানানো পোস্টার ধরে থাকবে। তৈরি ছবিটি এমন কাউকে উপহার দেওয়া যায়, যিনি শিশুকে খেলতে নিয়ে যান, তার সঙ্গে মাঠে বল মারেন কিংবা পাশাপাশি বসে ফুটবল দেখেন।
দিবু মার্তিনেসের স্টিকারটি বৃষ্টির দিনে, ফুটবল থিমের জন্মদিনে অথবা পরিবারের সবাই মিলে ম্যাচ দেখার আগে প্রিন্ট করা যায়। কয়েকটি কপি ছাপালে প্রতিটি শিশু আলাদা দিবু তৈরি করবে। একটিতে তিনি আর্জেন্টিনার রঙে থাকবেন। অন্যটিতে রুপালি গ্লাভস পরা মহাকাশের গোলরক্ষক হবেন। তৃতীয়টিতে বিশাল খেলনা ব্লক দিয়ে বানানো গোল রক্ষা করবেন।
সব ছবি পাশাপাশি রাখলে বোঝাই যাবে না যে একই নকশা থেকে শুরু হয়েছিল। এক মাঠে বৃষ্টি আর কাদা। অন্যটিতে সোনালি কাগজ উড়ছে। আরেকটিতে রঙিন টুপি আর স্কার্ফ পরা মজার দানবরা দর্শক। কোনটি সবচেয়ে সুন্দর, সেটি বেছে নেওয়ার দরকার নেই। প্রতিটি ছবির ম্যাচের গল্প শোনাই বেশি আনন্দের।
এমন কয়েকটি ফুটবল ছবি জুড়ে ঘরে তৈরি বিশ্বকাপ ২০২৬ অ্যালবাম বানানো যায়। প্রতিটি দেশের জন্য আলাদা পাতা থাকবে। পতাকা আঁকা হবে, খেলোয়াড়ের নাম লেখা হবে এবং রং করা স্টিকার লাগানো হবে। আর্জেন্টিনার পাতায় দিবুকে ঘিরে গ্লাভস, বল, তারা আর ট্রফি আঁকা যায়। পাশে তাঁর ডাকনামের গল্প কিংবা শিশুর বানানো অসাধারণ সেভের বিবরণ লেখা যায়।
এই অ্যালবাম দোকানের অ্যালবামের মতো হতে হবে না। এতে রোবট দল, ডাইনোসর দল, ভাসমান স্টেডিয়াম আর বিশেষ কার্ড থাকতে পারে। ড্রাগনের শট বাঁচানোর জন্য দিবু সোনালি কার্ড পাবেন। মজার কাঁধ নাচের জন্য থাকবে রুপালি কার্ড। সবচেয়ে রঙিন গ্লাভসের জন্য বানানো যাবে রংধনু কার্ড।
ছবি শেষ হওয়ার পর দিবুর সেভের একটি নাম দিতে হবে। “তারার বৃষ্টির শট”, “দিবু বনাম রোবট দল” কিংবা “জাদুর গ্লাভসের সেভ” হতে পারে মজার নাম। নিচে লেখা যাবে বলটি হাতে ধরা পড়েছে, পা দিয়ে ঠেকানো হয়েছে নাকি উড়ে স্টেডিয়ামের বাইরেই চলে গেছে। দিবু প্রস্তুত, প্রতিপক্ষ দৌড় শুরু করছে আর রং পেনসিলগুলো টেবিলে অপেক্ষা করছে। প্রথম রংটি কাগজে ছোঁয়া মাত্রই নতুন ম্যাচের বাঁশি বাজবে।

