
ফুটবল মাঠে সবচেয়ে চালাক খেলোয়াড় কে, যে সবার চেয়ে জোরে দৌড়ায়, নাকি যে বল আসার আগেই বুঝে ফেলে সেটি কোথায় যাবে? মিকেল ওয়ারসাবাল (Mikel Oyarzabal) দ্বিতীয় দলের খেলোয়াড়। তিনি সব সময় ঝড়ের গতিতে ছুটে ডিফেন্ডারদের পেছনে ফেলেন না। কখনো একটু থামেন, চারপাশ দেখেন, তারপর এমন জায়গায় পৌঁছে যান যেখানে কয়েক সেকেন্ড আগেও কেউ তাঁকে খেয়াল করেনি। বল এলেই টুক করে গোল। এই শান্ত অথচ দারুণ বুদ্ধিমান খেলোয়াড়কে ঘিরেই তৈরি হয়েছে ২০২৬ বিশ্বকাপের মিকেল ওয়ারসাবাল স্টিকার রং করার ছবি। শিশুরা এটি প্রিন্ট করে জার্সিতে রং করতে পারবে, বিশাল ফুটবল বুট সাজাতে পারবে, পাশে নতুন খেলোয়াড় আঁকতে পারবে এবং পুরো কাগজটাকে নিজেদের বানানো বিশ্বকাপ ম্যাচে বদলে দিতে পারবে।
ছবিটি হাতে পাওয়ার পর প্রথমেই জার্সি রং করতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। কেউ চাইলে চুল দিয়ে শুরু করতে পারে, কেউ ফুটবল বুট থেকে, আবার কেউ মিকেলের চারপাশে বিশাল স্টেডিয়াম এঁকে তারপর মূল ছবিতে ফিরতে পারে। এই স্টিকারের সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো, এখানে শিশুই কোচ, ডিজাইনার আর ম্যাচের ধারাভাষ্যকার। কোন দল খেলছে, কত গোল হয়েছে, দর্শকেরা কী চিৎকার করছে এবং পরের পাসটি কোথায় যাবে, সব সিদ্ধান্ত তার।
মিকেল স্পেনের পরিচিত লাল আর হলুদ রঙের জার্সি পরতে পারেন। আবার শিশুর ইচ্ছে হলে তাঁর জন্য একেবারে নতুন পোশাক বানানো যায়। বেগুনি জার্সির ওপর সাদা তারা, নীল শর্টসের পাশে বজ্রপাত, আর সবুজ মোজায় ছোট ছোট ফুটবলের নকশা কেমন হবে? বুকের কাছে একটি নতুন দলের প্রতীকও আঁকা যায়। সেটি হতে পারে বল হাতে সিংহ, আগুন ছোড়া ড্রাগন, মুকুট পরা গোলপোস্ট অথবা বিশাল এক ফুটবল বুট।
বুটের কথা যখন উঠল, তখন মিকেলের সবচেয়ে অবাক করা মজার তথ্যটি জানা যাক। তিনি ৪৭ মাপের ফুটবল বুট পরেন। ভাবো তো, এমন জুতা যদি স্কুলের ব্যাগে ঢোকাতে হয়, তাহলে খাতা, পেনসিল বক্স আর টিফিনের জায়গা থাকবে কোথায়? হয়তো ব্যাগের চেইন আটকে গিয়ে বলবে, “আর না, এবার আমাকে ছেড়ে দাও।” শিশুরা ছবির পাশে এমন একটি ফুলে ওঠা ব্যাগ আঁকতে পারে, যেখান থেকে বই, মোজা আর জুতার ফিতা বাইরে বের হয়ে আছে।
বড় বুট দুটি রং করার জন্যও অনেক মজার। একটি বুট হতে পারে লাল, অন্যটি নীল। দুটোর গায়ে তারা, আগুন, বিদ্যুৎ বা রঙিন ঢেউ আঁকা যায়। বুটের নিচে ছোট রকেট লাগিয়ে দিলে কেমন হয়? একটি রকেট দ্রুত দৌড়ানোর জন্য, আরেকটি লাফ দেওয়ার জন্য এবং তৃতীয়টি এমন শট মারার জন্য, যাতে বল গোলরক্ষকের পাশ দিয়ে রংধনুর মতো বাঁক নিয়ে জালে ঢুকে যায়।
বাস্তব খেলায় অবশ্য মিকেলের বুটে কোনো রকেট নেই। তাঁর আসল শক্তি হলো বল নিয়ন্ত্রণ আর সঠিক সময় বেছে নেওয়া। তিনি প্রতিটি শটে শুধু জোর ব্যবহার করেন না। কখনো বলটিকে এমনভাবে ঠেলে দেন, যেন সেটি আগে থেকেই জানে কোন কোণায় যেতে হবে। গোলরক্ষক ডান দিকে ঝাঁপ দিলে বল বাম দিকে গড়িয়ে যায়। গোলরক্ষক অপেক্ষা করলে মিকেলও তাড়াহুড়া না করে ঠিক মুহূর্তটি খুঁজে নেন।
পেনাল্টির এমন দৃশ্য স্টিকারের চারপাশে আঁকা যেতে পারে। সামনে থাকবে বড় গোলপোস্ট, জালে থাকবে নানা রঙের ঘর, আর গোলরক্ষকের হাতে থাকবে বিশাল গ্লাভস। পেছনের দর্শকদের মধ্যে কেউ চোখ ঢেকে রেখেছে, কেউ স্কার্ফ উঁচু করেছে, কেউ আবার বন্ধুকে বলছে, “দেখিস, এবার বাঁ দিকেই যাবে।” বল কোন দিকে যাবে, সেই সিদ্ধান্ত নেবে ছবিতে রং করা ছোট শিল্পী।
একটি ছোট খেলাও বানানো যায়। বলের সামনে থেকে তিনটি পথ আঁকতে হবে। প্রথম পথটি গোলরক্ষকের হাতে গিয়ে শেষ হবে। দ্বিতীয়টি পোস্টে ধাক্কা খাবে। তৃতীয় পথটি পৌঁছে যাবে জালের ভেতর। তারপর পরিবারের কাউকে জিজ্ঞেস করতে হবে, কোন পথে গোল হবে। সঠিক পথটি উজ্জ্বল রঙে ভরিয়ে দিলে ছবির মধ্যে ফুটবলের ধাঁধাও তৈরি হয়ে যাবে।
মিকেল মাঠে সব সময় শুধু নিজে গোল করার কথা ভাবেন না। তিনি সতীর্থদের অবস্থান দেখেন এবং কোথায় খালি জায়গা তৈরি হচ্ছে, সেটি বোঝার চেষ্টা করেন। একজন ডিফেন্ডার সামনে এগিয়ে এলে তার পেছনে ফাঁকা জায়গা হয়। মিকেল তখন সেই জায়গায় বল পাঠিয়ে দেন। দেখে মনে হয়, তিনি সবুজ মাঠের ওপর চলতে থাকা এক বিশাল ধাঁধা সমাধান করছেন।
শিশুরা মিকেলের পা থেকে কয়েকটি তীর আঁকতে পারে। একটি তীর গোলের দিকে যাবে, একটি ডান পাশের সতীর্থের কাছে, আরেকটি দুই ডিফেন্ডারের মাঝের ছোট ফাঁক দিয়ে চলে যাবে। পথের মধ্যে ট্রেনিংয়ের কোন, পানির গর্ত, ঘুমিয়ে থাকা বিড়াল কিংবা ভুল করে মাঠে ঢুকে পড়া রোবট রাখা যায়। বলকে সব বাধা পেরিয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে হবে।
মিকেলের ক্যারিয়ারে ৮৬ সংখ্যাটি খুবই বিশেষ। ইউরোপের বড় এক ফাইনালে স্পেন ও ইংল্যান্ড মুখোমুখি হয়েছিল। মিকেল শুরুতে মাঠে ছিলেন না। তিনি বেঞ্চে বসে ম্যাচ দেখছিলেন, খেলোয়াড়দের চলাফেরা লক্ষ্য করছিলেন এবং নিজের সুযোগের অপেক্ষা করছিলেন। মাঠে নামার পর তাঁর হাতে খুব বেশি সময় ছিল না।
ম্যাচের ৮৬ মিনিটে স্পেন আক্রমণে উঠল। বল সামনে এগিয়ে এল, আর মিকেল ঠিক জায়গায় পৌঁছে গেলেন। তিনি বলটি জালে পাঠাতেই সতীর্থরা তাঁর দিকে ছুটে এলেন। গ্যালারিতে স্পেনের পতাকা দুলতে লাগল, সমর্থকেরা আসন ছেড়ে লাফিয়ে উঠল, আর কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে পুরো স্টেডিয়ামের চেহারা বদলে গেল।
এই ৮৬ সংখ্যাটি রং করার ছবির মধ্যে লুকিয়ে রাখা যায়। এটি স্কোরবোর্ডে থাকতে পারে, দর্শকের টুপিতে, একজন ফটোগ্রাফারের ক্যামেরায় অথবা বলের নকশায়। ছবি শেষ হওয়ার পর মা, বাবা, ভাই, বোন বা বন্ধুকে সংখ্যাটি খুঁজতে বলা যাবে। কাজটি কঠিন করতে পাশে ৬৮, ৮০, ৮৯ আর ৯৬ লিখে দিলে বেশ মজা হবে।
গোলের আনন্দটাও নিজের মতো করে আঁকা যায়। বাতাসে রঙিন কাগজ উড়ছে, খেলোয়াড়েরা দৌড়ে মিকেলের কাছে আসছে, আর দর্শকেরা পতাকা নাড়ছে। একজন সমর্থকের টুপি আনন্দে মাথা থেকে উড়ে গেছে। আরেকজন ঢোল বাজাচ্ছে। একটি টিয়া পাখি মাইক্রোফোন নিয়ে ধারাভাষ্য দিচ্ছে, আর স্পেনের স্কার্ফ পরা একটি হাতি তাল মিলিয়ে শুঁড় নাড়ছে।
মিকেল রিয়াল সোসিয়েদাদের হয়ে ১০ নম্বর জার্সি পরেছেন। ফুটবলে ১০ নম্বর জার্সি সাধারণত এমন খেলোয়াড়ের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে, যিনি আক্রমণ তৈরি করেন, সুন্দর পাস দেন এবং কঠিন সময়ে দলের দায়িত্ব নেন। এই জার্সিটি তাঁর আগে পরতেন ক্লাবের খুব প্রিয় একজন খেলোয়াড়। তাই মিকেলের জন্য ১০ শুধু একটি সংখ্যা ছিল না, এর সঙ্গে ছিল সমর্থকদের ভালোবাসা আর অনেক পুরোনো স্মৃতি।
ছবির পেছনে বড় করে ১০ আঁকা যায়। সংখ্যাটির ভেতরে ছোট বল, তারা, ঢেউ, রঙিন ঘর অথবা ঘাসের নকশা করা যেতে পারে। পাশে শিশুটি নিজের পছন্দের নম্বর লিখতে পারে। সেটি তার বয়স, জন্মদিনের তারিখ বা একেবারে মন থেকে বেছে নেওয়া কোনো সংখ্যা হতে পারে। তারপর নিজের নামসহ একটি নতুন জার্সি এঁকে মিকেলের পাশে আরেকজন খেলোয়াড় দাঁড় করিয়ে দেওয়া যাবে।
বড় বড় ক্লাব মিকেলকে নিজেদের দলে নিতে চাইলেও তিনি রিয়াল সোসিয়েদাদের সঙ্গে দীর্ঘ সম্পর্ক ধরে রেখেছেন। এই দলেই তিনি বড় হয়েছেন, পরিচিত মানুষ পেয়েছেন এবং সমর্থকদের ভালোবাসা অর্জন করেছেন। শিশুদের কাছে বিষয়টি অনেকটা পাড়ার দলের মতো। বড় স্টেডিয়াম না থাকলেও বন্ধুদের সঙ্গে পরিচিত মাঠে খেলার আনন্দ আলাদা।
মিকেল স্পেনের বাস্ক অঞ্চলের এইবার শহরে বড় হয়েছেন। বিখ্যাত ফুটবলার হওয়ার পরও তিনি ছোটবেলার বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন। তাদের সামনে তাঁকে বড় তারকার মতো আচরণ করতে হতো না। তিনি গল্প করতে পারতেন, হাসতে পারতেন এবং পুরোনো দিনের মতো সময় কাটাতে পারতেন। এই গল্পটি স্টিকারের পেছনে পাড়ার মাঠ আঁকার দারুণ সুযোগ দেয়।
দুটি স্কুলব্যাগ দিয়ে গোলপোস্ট বানানো যায়। এক পাশে সাইকেল রাখা, আরেক পাশে পানির বোতল। একটি কুকুর বল মুখে নিয়ে দৌড়াচ্ছে, সবাই তার পেছনে ছুটছে। কেউ বলছে আগের গোলটি হয়নি, আবার কেউ নিশ্চিত যে বল লাইন পেরিয়েছে। কোনো আসল রেফারি নেই, তাই একজন শিশু নিজের হাতে কাগজের বাঁশি এঁকে নিজেই রেফারি হয়ে গেছে।
মাঠের পাশে টিফিনের বাক্সও থাকতে পারে। ভেতরে ফল, বিস্কুট আর জুস রাখা। একজন খেলোয়াড় জুতার ফিতা বাঁধছে, আরেকজন গোলরক্ষকের গ্লাভস খুঁজছে, তৃতীয়জন হাত তুলে পাস চাইছে। মিকেল বল হাতে সেখানে পৌঁছাতেই সবাই বলতে পারে, “চলো, এবার জমবে!”
ফুটবল খেলার পাশাপাশি মিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যবসা পরিচালনা নিয়ে পড়াশোনা করেছেন। প্রশিক্ষণ, ভ্রমণ, ম্যাচ, ক্লাস আর পরীক্ষা একসঙ্গে সামলানো নিশ্চয়ই সহজ ছিল না। একদিন হাজার হাজার দর্শকের সামনে খেলা, আরেকদিন বই খুলে পরীক্ষার প্রস্তুতি, ব্যাপারটা যেন দুই রকম জীবনের মজার মিশ্রণ।
এই অংশটি ছবিতে আঁকতে শিশুরা মিকেলের পাশে বই আর ফুটবল রাখা একটি টেবিল বানাতে পারে। এক পাতায় থাকবে পড়ার হিসাব, অন্য পাতায় ম্যাচের ছক। স্কেল দিয়ে গোলপোস্টের দূরত্ব মাপা যাবে, রাবার ছোট বলে বদলে যাবে, আর রঙিন পেনসিলগুলো কর্নার ফ্ল্যাগের কাজ করবে।
মিকেলের গল্প দেখায়, ফুটবল ভালোবাসলে পড়াশোনা বা অন্য শখ ছেড়ে দিতে হয় না। একজন শিশু মাঠে খেলতে পারে, আবার গল্পের বই পড়তে, ছবি আঁকতে, খেলনা বানাতে কিংবা ধাঁধা সমাধান করতেও ভালোবাসতে পারে। মিকেলও মাঠে শুধু পা ব্যবহার করেন না। তাঁকে চারপাশ দেখতে হয়, খেলোয়াড়দের অবস্থান মনে রাখতে হয় এবং কয়েক মুহূর্তের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে হয়।
রিয়াল সোসিয়েদাদের হয়ে মিকেল একটি বিশেষ কাপ ফাইনাল খেলেছিলেন অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের বিপক্ষে। ম্যাচটির জন্য সমর্থকদের অনেক দিন অপেক্ষা করতে হয়েছিল। খেলা শুরু হওয়ার পর মিকেল একটি গুরুত্বপূর্ণ পেনাল্টি নেওয়ার সুযোগ পান। চারপাশে চাপ থাকলেও তিনি শান্ত ছিলেন, গোল করেছিলেন এবং দলকে ট্রফি জিততে সাহায্য করেছিলেন।
শিশুরা সেই ট্রফিটি নিজের মতো করে আঁকতে পারে। এটি আসল কাপের মতো হতে পারে, আবার ৪৭ নম্বর বুটের আকারেরও হতে পারে। কেউ ট্রফির মাথায় ফুটবল বসাবে, কেউ সেটিকে মিষ্টিতে ভরে দেবে। চারপাশে রঙিন ফিতা, পতাকা এবং আনন্দে নাচতে থাকা খেলোয়াড় আঁকলে ছবিটি একেবারে উৎসবে বদলে যাবে।
ক্রেয়ন দিয়ে বড় অংশ সহজে রং করা যায়। রঙিন পেনসিল দিয়ে জার্সিতে ছোট নকশা যোগ করা যায়। স্কেচ পেন পতাকা আর স্কোরবোর্ডকে ঝকঝকে করে তুলতে পারে। বড়দের সাহায্য নিয়ে জলরং ব্যবহার করলে আকাশ, মাঠ আর দর্শকসারি আলাদা সুন্দর দেখাবে। একই ছবি কয়েকবার প্রিন্ট করে প্রতিবার নতুন রং ব্যবহার করলেও প্রত্যেকটি আলাদা লাগবে।
মিকেলের ফুটবল জীবনে কঠিন সময়ও এসেছে। ২০২২ সালে হাঁটুতে গুরুতর চোট পাওয়ার পর তাঁকে দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছিল। বিশ্বকাপে খেলার সুযোগও তিনি হারিয়েছিলেন। প্রতিদিন ফুটবল খেলা একজন মানুষের জন্য দূর থেকে অন্যদের ম্যাচ দেখা নিশ্চয়ই খুব কষ্টের ছিল। তাঁকে ধীরে ধীরে শরীর ঠিক করতে এবং ফিরে আসার জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছিল।
রং করার সময়ও সবকিছু পরিকল্পনা মতো হয় না। পেনসিল লাইনের বাইরে চলে যেতে পারে, রং গাঢ় হয়ে যেতে পারে বা কাগজে দাগ পড়তে পারে। তাই বলে ছবি ফেলে দিতে হবে না। দাগটি ঘাস, ছায়া, ছোট বল, পতাকা অথবা নতুন দলের প্রতীকে বদলে দেওয়া যায়। কখনো ভুল জায়গায় পড়া একটি রঙই পুরো ছবির সবচেয়ে মজার অংশ হয়ে ওঠে।
মিকেলও থেমে থাকেননি। তিনি অনুশীলন করেছেন, মাঠে ফিরেছেন এবং পরে স্পেনের হয়ে বড় ফাইনালে জয়সূচক গোল করেছেন। যে খেলোয়াড়কে একসময় বাইরে বসে ম্যাচ দেখতে হয়েছিল, তিনিই আবার একদিন হাজারো মানুষের আনন্দের মাঝখানে দাঁড়িয়েছিলেন। তাঁর গল্পটি শিশুদের নতুন করে চেষ্টা করার সাহস দেয়, কিন্তু সেটি কোনো কঠিন উপদেশের মতো শোনায় না। বল, গোল, বন্ধু আর রঙের মধ্যেই কথাটি সহজে বোঝা যায়।
মিকেল ওয়ারসাবালের এই স্টিকার প্রিন্ট করে ২০২৬ বিশ্বকাপের ঘরোয়া অ্যালবামে রাখা যায়। রং করা শেষ হলে বড় কারও সাহায্যে ছবিটি কেটে শক্ত কাগজে লাগানো যেতে পারে। পাশে তাঁর নাম, দেশ, জার্সি নম্বর এবং কয়েকটি বানানো শক্তি লেখা যায়। “৪৭ নম্বর সুপার বুট”, “শান্ত পেনাল্টি” আর “গোপন পাস” তাঁর বিশেষ ক্ষমতা হতে পারে।
আরও ফুটবলারের ছবি প্রিন্ট করলে পুরো দল বানানো যাবে। প্রত্যেক খেলোয়াড়কে শট, পাস, গতি, সাহস এবং দলীয় খেলার নম্বর দেওয়া যায়। তারপর কয়েন বা ছক্কা ব্যবহার করে নিজেদের টুর্নামেন্ট শুরু করা সম্ভব। খেলার ফল খাতায় লেখা হবে, বিজয়ীরা পরের রাউন্ডে যাবে এবং সেরা দুই দল খেলবে কল্পনার বিশ্বকাপ ফাইনাল।
বৃষ্টির দিন, স্কুলের ছুটি, ফুটবল থিমের জন্মদিন বা পরিবারের সঙ্গে শান্ত বিকেলে এই রং করার ছবিটি বেশ জমবে। ছোট শিশুরা ক্রেয়ন দিয়ে বড় জায়গাগুলো রঙে ভরতে পারে। একটু বড়রা জার্সির কাপড়, মুখ, চুল, ঘাস আর দর্শকদের ছোট ছোট অংশে নকশা যোগ করতে পারে। মা বাবারাও স্কোরবোর্ড, স্টেডিয়াম বা ২০২৬ বিশ্বকাপের একটি কল্পিত মাসকট এঁকে খেলায় যোগ দিতে পারেন।
পেছনের জায়গাটি সাধারণ স্টেডিয়ামেই রাখতে হবে, এমন নয়। মিকেল সমুদ্রসৈকতে, পাহাড়ের ওপরে বা চাঁদে ফুটবল খেলতে পারেন। বলটি ছোট গ্রহের মতো হতে পারে। গোলরক্ষকের ছয়টি হাত থাকতে পারে। মাঠ অনেক বড় বলে রেফারি স্কুটারে ঘুরতে পারে। দর্শকের সারিতে রোবট, ডাইনোসর, খরগোশ আর স্পেনের স্কার্ফ পরা বিড়াল বসে থাকতে পারে।
একবার প্রিন্ট করা ছবিতে মিকেল পেনাল্টি মারবেন। পরের কপিতে তিনি এইবারের বন্ধুদের সঙ্গে ছোট মাঠে খেলবেন। তৃতীয়টিতে তিনি মহাকাশের রোবট দলের বিপক্ষে বিশ্বকাপ ফাইনালে নামবেন। মূল রেখাগুলো একই থাকবে, কিন্তু নতুন রং, চরিত্র আর আঁকা অংশ প্রতিবার গল্পটি বদলে দেবে।
২০২৬ বিশ্বকাপের মিকেল ওয়ারসাবাল (Mikel Oyarzabal) স্টিকার রং করার ছবি একটি সত্যিকারের ফুটবল তারকাকে শিশুদের কল্পনার মাঠে নিয়ে আসে। তাঁর বড় বুট, ১০ নম্বর জার্সি, শান্ত পেনাল্টি আর সঠিক সময়ে গোলের সামনে পৌঁছে যাওয়ার দক্ষতা গল্পের শুরু তৈরি করে। এরপর ম্যাচের দায়িত্ব চলে যায় ছোট শিল্পীর হাতে। সে জার্সিতে রং করবে, দর্শক আঁকবে, মাঠ সাজাবে এবং ঠিক করবে বলটি কোন পথ দিয়ে জালে ঢুকবে। তৈরি ছবিটি অ্যালবামে লাগানো, ঘরে সাজানো অথবা বন্ধুদের দেখিয়ে নতুন ফুটবল গল্প শুরু করা যাবে।

