
আজ রঙের বাক্সে বেশ তর্ক বেঁধেছে। লাল পেন্সিল বলছে, জেসির টুপিতে প্রথমে তাকেই লাগবে। হলুদ পেন্সিলের দাবি, শেরিফের পোশাক তার ঝলমলে রং ছাড়া জমবেই না। নীল আবার চুপচাপ বসে আছে, কারণ সে জানে জেসির জিনস রং করার সময় তাকে কেউ ভুলতে পারবে না। টয় স্টোরি ৫-এর জেসি (Jessie) রং করার এই ছবিটি প্রিন্ট করার পর সেই রঙিন তর্কের বিচারক হবে শিশুই। কোন অংশ আগে রং হবে, পোশাকটি সিনেমার পরিচিত রঙে থাকবে নাকি একেবারে নতুন সাজ পাবে, সব সিদ্ধান্ত তার হাতে।
জেসিকে দেখলেই মনে হয় তিনি বেশিক্ষণ এক জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকার চরিত্র নন। চওড়া কাউগার্ল টুপি, লম্বা লাল বেণি, নকশা করা জামা আর শক্ত বুট পরে তিনি যেন এখনই ছুটে যাবেন কোনো কাজে। তাই এই ছবিকে শুধু একটি সাধারণ কালারিং পেজ হিসেবে না দেখে ছোট্ট গল্পের শুরু হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। জেসি কোথায় যাচ্ছেন, কাকে ডাকছেন এবং তাঁর নতুন শেরিফের দায়িত্ব কী, এসব কাগজের খালি জায়গায় আঁকা যেতে পারে।
রং শুরু করার আগে ছবিটি ভালো করে দেখার একটি মজার খেলা আছে। শিশুকে বলুন, জেসির পোশাকে পাঁচটি জিনিস খুঁজে বের করতে হবে। এগুলো হলো টুপি, বেণির শেষের ফিতা, জামার বড় বোতাম, কোমরের বাকল এবং গরুর ছোপের মতো নকশা। প্রতিটি জিনিস পাওয়া গেলে পাশে ছোট একটি গোল দাগ আঁকা যায়। এতে রং করার তাড়া কমে, আর ছবির ছোটখাটো অংশগুলোও চোখে পড়ে।
জেসির কাউগার্ল টুপি ছবির সবচেয়ে বড় ও পরিচিত অংশগুলোর একটি। সিনেমার মতো সাজাতে চাইলে টুপিতে উজ্জ্বল লাল রং ব্যবহার করা যায়। একই লাল পেন্সিল হালকা ও জোরে চেপে ব্যবহার করলেই দুটো আলাদা শেড পাওয়া যাবে। মাঝের অংশ হালকা রেখে কিনারার কাছে গাঢ় লাল দিলে টুপিটি সমতল না থেকে একটু বাঁকানো মনে হবে।
টুপির চারপাশে সাদা সেলাইয়ের মতো ছোট ছোট দাগ আছে। সেগুলোকে একটি ঘুরতে থাকা পথ ভাবা যায়। ছোট শিশুরা প্রতিটি দাগ সাদা, ক্রিম বা হালকা হলুদে ঢেকে দিতে পারে। একটু বড়রা রঙের ক্রম বানাতে পারে, যেমন একটি সাদা, একটি হলুদ, তারপর আবার সাদা। কোথাও একটি দাগ বেশি মোটা হয়ে গেলে সেটিকে ছোট তারা বা ফুলে বদলে দেওয়া যায়।
একটি বাড়তি কপি প্রিন্ট করলে টুপির জন্য সিনেমার রং মানার দরকার নেই। গাঢ় নীল টুপিতে সাদা তারা এঁকে জেসিকে রাতের পাহারায় পাঠানো যায়। সবুজ টুপিতে ছোট পাতা দিলে মনে হবে তিনি খেলনার বাগান ঘুরতে যাচ্ছেন। বেগুনি টুপিতে কমলা সূর্য বা চাঁদ আঁকা যায়। শিশুর নামের প্রথম অক্ষরটি সামনে বসালে এটি জেসির বিশেষ দলের টুপি হয়ে উঠবে।
লাল বেণিটি রং করার ধরন টুপির চেয়ে আলাদা হতে পারে। জেসির চুল দেখতে উলের মোটা সুতা দিয়ে বানানো মনে হয়। তাই এদিক-সেদিক পেন্সিল চালানোর বদলে বেণির বাঁক অনুসরণ করে লম্বা দাগ টানলে বেশি সুন্দর দেখাবে। লালের সঙ্গে কমলা, ইটের মতো লাল এবং সামান্য বাদামি মেশালে আলাদা আলাদা সুতার অনুভূতি পাওয়া যায়।
এই বেণি দিয়ে কাগজের কাজও করা যায়। বড় কেউ পরিষ্কার লাল উলের সুতা ছোট করে কেটে দিতে পারেন। শিশু সেগুলো ছবির বেণির ওপর অল্প আঠা দিয়ে বসাবে। নিচের হলুদ ফিতাটি রঙিন কাগজ, পুরোনো পরিষ্কার রিবন বা কাপড়ের ছোট টুকরা দিয়ে বানানো যায়। আঠা ব্যবহার করলে ছবিটি একটু মোটা কাগজে প্রিন্ট করা ভালো, যাতে পৃষ্ঠা সহজে কুঁচকে না যায়।
শুধু রং পেন্সিল বা মোম রং ব্যবহার করলে সাধারণ প্রিন্টারের কাগজই যথেষ্ট। স্কেচপেনের রং কাগজ ভেদ করতে পারে, তাই নিচে আরেকটি কাগজ রাখা সুবিধাজনক। জলরং বা পোস্টার কালার দিয়ে আঁকতে চাইলে মোটা ড্রয়িং পেপার বেছে নেওয়া ভালো। বড় তুলি দিয়ে টুপি ও প্যান্ট রং করা যায়, আর পাতলা তুলি রাখা যায় জামার নকশা ও কোমরের বাকলের জন্য।
জেসির মুখে রং করার সময় খুব জোরে পেন্সিল চাপার প্রয়োজন নেই। হালকা ত্বকের রং ধীরে ধীরে বসালে ফল নরম দেখাবে। গালে সামান্য গোলাপি ব্যবহার করা যেতে পারে। চোখে ছোট একটি সাদা বিন্দু রেখে দিলে আলো ঝলমল করার মতো লাগে। শিশুটি চাইলে কয়েকটি ছোট ফ্রেকলস যোগ করতে পারে অথবা মুখের অভিব্যক্তি বদলে দিতে পারে, যেন জেসি হঠাৎ মজার কিছু দেখে ফেলেছেন।
তাঁর সাদা জামাটি পুরোপুরি ফাঁকা রাখতেই হবে এমন নয়। জামার ভাঁজ ও সেলাইয়ের পাশে খুব হালকা নীল বা ধূসর রং দিলে সাদা কাপড়টি কাগজ থেকে আলাদা হয়ে দেখা যায়। কাঁধ ও হাতার প্রান্তে হলুদ রং ব্যবহার করা যায়। এক জায়গায় উজ্জ্বল হলুদ এবং অন্য জায়গায় একটু সোনালি বা কমলা মেশালে পোশাকটি আরও প্রাণবন্ত হবে।
জামার লাল বাঁকানো নকশাগুলো ছোট লতাপাতার মতো। ভালোভাবে কাটা রং পেন্সিল দিয়ে রেখাগুলো অনুসরণ করা সহজ। কোনো দাগ বাইরে চলে গেলে সেটি মুছে ফেলার বদলে লম্বা করে ফুল, পাতা বা তারা বানিয়ে নেওয়া যায়। দুই পাশের নকশা একদম একই হতে হবে না। এক হাতে ফুলের নকশা আর অন্য হাতে ছোট ছোট নক্ষত্র থাকলেও পোশাকটি সুন্দর দেখাবে।
দুটি বড় সাদা বোতাম ছোট গোল ক্যানভাসের মতো ব্যবহার করা যায়। একটির ভেতরে শেরিফের তারা, অন্যটিতে ঘোড়ার খুরের ছাপ আঁকা যেতে পারে। খুব ছোট ছবি আঁকা কঠিন হলে একটি বোতামে J এবং অন্যটিতে B লেখা যায়, যা জেসি ও বনি (Bonnie) নামের প্রথম অক্ষর। বোতামের এক পাশে ধূসর ছায়া দিলে মাঝের সাদা অংশটি চকচকে মনে হবে।
কোমরের গাঢ় বাদামি বেল্টের মাঝখানে সোনালি রঙের বড় বাকল রয়েছে। ষাঁড়ের মাথার মতো আকৃতির এই অংশটি ছবির ছোট হলেও চোখে পড়ার মতো জায়গা। হলুদ, হালকা বাদামি ও কমলা রং একসঙ্গে ব্যবহার করলে সোনার মতো আভা তৈরি হয়। ধাতব রঙের পেন্সিল থাকলে শুধু বাকলেই ব্যবহার করা যায়, তাহলে সেটি আরও আলাদা করে ঝলমল করবে।
বেল্টের পাশে শিশুটি একটি গোপন পকেট আঁকতে পারে। জেসি সেখানে কী রাখবেন? বনির ঘরের মানচিত্র, খেলনার বাক্সের চাবি, বাজ লাইটইয়ারকে (Buzz Lightyear) দেওয়ার একটি চিঠি, নাকি বুলসআইকে ডাকার ছোট বাঁশি? এই জিনিসগুলো সিনেমার কোনো নিশ্চিত দৃশ্য নয়। এগুলো শিশুর নিজের গল্পের অংশ, তাই প্রতিটি ছবিতে উত্তর আলাদা হতে পারে।
জেসির নীল জিনস বড় একটি অংশ, যেখানে মোম রং দিয়ে আরামে হাত চালানো যায়। প্রথমে হালকা নীল রং করা যেতে পারে, তারপর ভাঁজ ও কিনারার পাশে গাঢ় নীল দাগ যোগ করা যায়। একই দিকে ছোট ছোট রেখা টানলে কাপড়টি জিনসের মতো দেখাবে। হাঁটুর কাছে তারা, মেঘ বা ঘোড়ার নালের আকারে একটি প্যাচও আঁকা যেতে পারে।
পায়ের ওপরের গরুর ছোপের মতো নকশাগুলোতে সবচেয়ে বেশি স্বাধীনতা আছে। পরিচিত পোশাকে সাদা জায়গার ওপর অনিয়মিত কালো ছোপ থাকে। কোনো ছোপ গোল, কোনোটি লম্বা, আবার কোনোটি মেঘ বা ছোট দ্বীপের মতো হতে পারে। সব দাগ একই মাপের করার দরকার নেই, তাই ছোট শিশুদের জন্য এই অংশটি বেশ আরামদায়ক।
এক পাশ কালো ও সাদা রেখে অন্য পাশ পুরো রঙিন করা যায়। গোলাপি, বেগুনি, সবুজ ও নীল ছোপ মিলে খেলনার উৎসবের পোশাক তৈরি করতে পারে। কয়েকটি ছোপের মধ্যে ছোট চিহ্ন লুকানোও যায়। একটি হৃদয়, দুটি তারা, তিনটি বিন্দু এবং একটি ছোট অক্ষর আঁকা থাকলে ছবি শেষ হওয়ার পর পরিবারের অন্য কেউ সেগুলো খুঁজবে।
বাদামি কাউগার্ল বুটগুলোকে একেবারে নতুনও দেখানো যায়, আবার অনেক পথ পেরিয়ে আসা বুটও বানানো যায়। নতুন বুটের জন্য সমান বাদামি রং ও গাঢ় তলা ভালো লাগবে। ভ্রমণ করা বুটের সামনের দিকে হালকা মাটির রঙের দাগ যোগ করা যায়। পাশে হলুদ তারা, লাল আগুনের রেখা বা রঙিন সেলাই এঁকে জেসির জন্য বিশেষ বুট বানানো সম্ভব।
ছবিটিকে একটু নড়াচড়ার অনুভূতি দিতে বুটের পাশে দু-একটি বাঁকানো রেখা আঁকা যায়। এতে মনে হবে জেসি মাত্র দৌড়ে এসে থেমেছেন। বেণিটি এক পাশে দুলতে পারে, আর মেঝেতে পড়ে থাকতে পারে একটি ভাঁজ করা মানচিত্র। খুব অল্প কিছু রেখা দিয়েই দাঁড়িয়ে থাকা চরিত্রকে চলমান গল্পের অংশ বানানো যায়।
টয় স্টোরি ৫-এ জেসি বনির ঘরের নতুন শেরিফ। বনিকে বন্ধু তৈরি করতে সাহায্য করার একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজে তিনি খেলনাদের নেতৃত্ব দেন। এ সময় লিলিপ্যাড (Lilypad) নামের ব্যাঙের মতো দেখতে একটি স্মার্ট ট্যাবলেট বনির নতুন পছন্দ হয়ে ওঠে। পরিচিত খেলার ধরন বদলে যেতে থাকলে জেসি তাঁর বিশ্বস্ত ঘোড়া বুলসআইকে (Bullseye) নিয়ে বেরিয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে তাঁরা অন্য খেলনাদের থেকে আলাদা হয়ে যান এবং নতুন কিছু বন্ধুর সাহায্যে বনির কাছে ফিরে যাওয়ার পথ খোঁজেন।
এই গল্পের সূত্র ধরে ছবির চারপাশে নতুন দৃশ্য আঁকা যায়, তবে সিনেমার কোনো দৃশ্য হুবহু নকল করার দরকার নেই। কাগজের এক পাশে কাঠের ব্লক, ছোট গাড়ি, পুতুল, বই ও নরম খেলনা আঁকা যেতে পারে। অন্য পাশে ব্যাঙের চোখের মতো নকশাসহ লিলিপ্যাডের পর্দা থাকবে। মাঝখানে দাঁড়িয়ে জেসি এমন একটি খেলা ভাবছেন, যেখানে সবাই অংশ নিতে পারে।
লিলিপ্যাড আর সাধারণ খেলনাদের সব সময় প্রতিপক্ষ হিসেবেও দেখাতে হবে না। শিশুটি এমন একটি গল্প আঁকতে পারে, যেখানে লিলিপ্যাড পর্দায় মানচিত্র দেখায় এবং জেসি বাস্তব খেলনাগুলো নিয়ে সেই পথ তৈরি করেন। ট্যাবলেট গান বাজাতে পারে, আর বুলসআই সেই সুরে খেলনার প্যারেডে হাঁটতে পারে। প্রযুক্তি, আঁকা ছবি এবং হাতে ধরা খেলনা মিলিয়ে বনির নতুন খেলা তৈরি হতে পারে।
বুলসআইকে পুরো আঁকা কঠিন মনে হলে শুধু দুটি কান খেলনার বাক্সের পেছন থেকে দেখা যেতে পারে। মেঝেতে খুরের ছাপ আঁকলেও বোঝা যাবে ঘোড়াটি সেখান দিয়ে গেছে। জেসির কাছের ছাপগুলো বড় এবং দূরেরগুলো ছোট করলে ছবিতে দূরত্বের অনুভূতি আসে।
খুরের ছাপ ব্যবহার করে ছোট গোলকধাঁধা বানানো যায়। জেসির সামনে থেকে তিনটি পথ শুরু হবে। একটি বইয়ের স্তূপের মাঝ দিয়ে যাবে, দ্বিতীয়টি বালিশের পেছনে ঘুরবে এবং তৃতীয়টি কম্বলের নিচে ঢুকবে। একটি পথের শেষে বুলসআই অপেক্ষা করবে। অন্য দুটির শেষে রেক্স ঝুড়িতে লুকিয়ে থাকতে পারে বা হ্যাম রং পেন্সিলের বাক্সের পেছন থেকে উঁকি দিতে পারে।
খেলনার চোখে বনির সাধারণ ঘরটিও বিশাল অভিযানের জায়গা। একটি বালিশ পাহাড় হয়ে যেতে পারে, স্কেল হতে পারে সরু সেতু এবং কুঁচকে থাকা চাদর হতে পারে ঢেউ খেলানো উপত্যকা। খাড়া করে রাখা বইগুলো বড় বাড়ির মতো দেখাবে। পাশাপাশি রাখা পেন্সিলগুলো দিয়ে বেড়া বানানো যায়, যার ফাঁক দিয়ে জেসি ও বুলসআইকে যেতে হবে।
এসব আঁকার জন্য খুব নিখুঁত ছবি জানা দরকার নেই। পাহাড়ের জন্য দুটি গোল রেখা, সেতুর জন্য একটি লম্বা আয়তক্ষেত্র এবং খেলনার বাক্সের জন্য ঢাকনাসহ একটি চৌকো আকারই যথেষ্ট। রং ও ছোট কিছু চিহ্ন যোগ হলে সাধারণ আকারগুলো নিজেরাই গল্পের জায়গা হয়ে উঠবে।
জেসি প্রথম দেখা দেন টয় স্টোরি ২-এ। তিনি উডির (Woody) পুরোনো টেলিভিশন অনুষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত একটি কাউগার্ল পুতুল ছিলেন। একসময় তিনি এমিলি নামের একটি মেয়ের খেলনা ছিলেন। এমিলি বড় হয়ে গেলে জেসি অনেক দিন একটি বাক্সের মধ্যে পড়ে থাকেন। সেই অভিজ্ঞতার কারণে বন্ধ ও ছোট জায়গা তাঁকে অস্বস্তিতে ফেলতে পারে।
শিশুকে বিষয়টি সহজভাবে বলা যায়। জেসি সাহসী, চঞ্চল এবং বন্ধুদের সাহায্য করতে প্রস্তুত, কিন্তু তাঁরও কিছু ভয় আছে। সাহসী হওয়ার অর্থ কখনো ভয় না পাওয়া নয়। ভয় লাগলেও বন্ধুর সাহায্য নেওয়া, নিরাপদ পথ খোঁজা এবং আবার চেষ্টা করাও সাহসের অংশ।
জেসির পাশে এমন কিছু আঁকা যেতে পারে, যা তাঁকে স্বস্তি দেয়। সেটি হতে পারে বুলসআই, খোলা খেলনার বাক্স, উষ্ণ আলো জ্বলা একটি বাতি অথবা তাঁর বন্ধুদের কয়েকটি ছোট ছবি। শিশুকে জিজ্ঞেস করা যায়, কোন রং তার কাছে শান্ত মনে হয়। কারও পছন্দ নীল, কারও সবুজ, হলুদ বা গোলাপি হতে পারে।
জেসি তাঁর প্রাণবন্ত স্বভাব, দ্রুত কাজ করার অভ্যাস এবং আনন্দের ইয়োডেলের জন্যও পরিচিত। তাঁর মুখের পাশে একটি কথার বেলুন আঁকা যায়। তিনি হয়তো বুলসআইকে ডাকছেন, খেলনাদের এক জায়গায় জড়ো করছেন অথবা নতুন দায়িত্ব ঘোষণা করছেন। যারা লিখতে পারে, তারা ছোট একটি বাক্য যোগ করবে। ছোটরা বেলুনের ভেতর মানচিত্র, হৃদয়, তারা বা বিস্ময়সূচক চিহ্ন আঁকতে পারে।
একই ছবি দুবার প্রিন্ট করে রঙের পরীক্ষা করা যায়। প্রথম কপিতে জেসির পরিচিত রং ব্যবহার হবে, যেমন লাল টুপি, সাদা ও হলুদ জামা, নীল জিনস এবং বাদামি বুট। দ্বিতীয় কপির জন্য আগে থেকেই মাত্র চারটি রং বেছে নিতে হবে। বেগুনি, সবুজ, কমলা ও গোলাপি দিয়ে পুরো ছবিটি সাজালে একেবারে নতুন জেসি তৈরি হবে।
দুটি ছবি পাশাপাশি রাখলে বোঝা যাবে, একই রেখা শুধু রং বদলেই কত আলাদা অনুভূতি তৈরি করতে পারে। একটি ছবি সিনেমার পরিচিত চরিত্রের মতো দেখাবে, অন্যটি খেলনার মেলা, মহাকাশ অভিযান বা কল্পনার শহরের শেরিফ হতে পারে। কোনোটিই ভুল নয়, কারণ প্রতিটি ছবির গল্প আলাদা।
দুই শিশু একসঙ্গে এই খেলাটি করলে তারা একে অন্যের ছবি না দেখে রং করতে পারে। কাজ শেষ হলে দুটি পৃষ্ঠা খুলে তিনটি মিল ও তিনটি অমিল খুঁজতে হবে। হয়তো দুজনেই বেণি লাল করেছে, কিন্তু একজন টুপি নীল এবং অন্যজন সবুজ করেছে। এই খেলায় জেতা-হারা নেই; শুধু ভিন্ন পছন্দগুলো খুঁজে দেখাই আনন্দ।
ক্লাসরুমে একই ছবির কয়েকটি কপি প্রিন্ট করে প্রতিটি দলকে আলাদা জায়গা আঁকতে দেওয়া যায়। একটি দল বনির ঘর বানাবে, আরেকটি কার্টনের তৈরি কাউগার্ল শহর এবং তৃতীয়টি বাজ লাইটইয়ারের মহাকাশ ঘাঁটি। সব ছবি পাশাপাশি সাজালে জেসির দীর্ঘ এক ভ্রমণ তৈরি হবে।
ছবির নিচে তিনটি ছোট ঘর এঁকে কমিকের মতো গল্পও বানানো যায়। প্রথম ঘরে জেসি শেরিফের দায়িত্ব পান। দ্বিতীয় ঘরে বুলসআইয়ের খুরের ছাপ দেখতে পান। তৃতীয় ঘরে তিনি বন্ধুকে খুঁজে পান অথবা নতুন কোনো বিস্ময় আবিষ্কার করেন। লম্বা লেখা প্রয়োজন নেই। তীরচিহ্ন, মুখের ভাব ও ছোট কথার বেলুনই যথেষ্ট।
সাদা মোম রং ও জলরং দিয়ে একটি চমক তৈরি করা যায়। প্রথমে সাদা মোম রং দিয়ে টুপির ওপর তারা, বিন্দু বা অক্ষর আঁকতে হবে। সাদা কাগজে সেগুলো খুব একটা দেখা যাবে না। ওপর দিয়ে লাল জলরং লাগালে মোমের অংশে রং বসবে না এবং লুকানো নকশা বেরিয়ে আসবে। মোটা কাগজ ও অল্প পানি ব্যবহার করলে কাজটি পরিষ্কার থাকবে।
ছবিটি পুরো শুকিয়ে গেলে বড় কারও সাহায্যে জেসির আকৃতি কেটে নেওয়া যায়। কালো রেখার চারপাশে সামান্য সাদা অংশ রাখা ভালো। এরপর শক্ত কার্ডে লাগিয়ে পেছনে ভাঁজ করা কাগজ বসালে জেসি দাঁড়িয়ে থাকতে পারবেন। জুতার বাক্স হবে বনির ঘর, কাপড়ের টুকরা হবে কার্পেট এবং ব্লক দিয়ে তৈরি হবে আসবাব।
আরও চরিত্র যোগ হলে ছোট একটি টয় স্টোরি পুতুলনাট্য করা যায়। জেসি সবাইকে ডেকে কাজ ভাগ করবেন, বুলসআই খুরের ছাপ অনুসরণ করবে এবং বাজ বইয়ের উঁচু স্তূপ থেকে পথ দেখবে। শিশুরা নিজের কণ্ঠে চরিত্রগুলোর সংলাপ বলতে পারে। বাক্সের জিনিসগুলোর জায়গা বদলালেই প্রতিবার নতুন দৃশ্য তৈরি হবে।
এই জেসি রং করার ছবিটি বাড়িতে তৈরি বইয়ের প্রথম পাতাও হতে পারে। ওপরে বড় করে জেসি নামটি লেখা হবে। অক্ষরের ভেতরে তারা, সেলাইয়ের দাগ ও গরুর ছোপের নকশা ভরা যায়। পরের পাতায় বুলসআই, উডি, বাজ এবং অন্য খেলনারা থাকবে। প্রত্যেকের পাশে একটি করে ছোট দায়িত্ব বা গল্প আঁকা যেতে পারে।
রঙের বাক্সের তর্ক এখনো পুরোপুরি মেটেনি। লাল পেন্সিল এখনও টুপির দাবি করছে, হলুদ জামার নকশার দিকে তাকিয়ে আছে, আর নীল জিনসের পাশে অপেক্ষা করছে। তবে শেষ সিদ্ধান্ত শিশুর। জেসি পরিচিত পোশাকে বনির ঘর পাহারা দেবেন, নাকি রঙিন নতুন সাজে বুলসআইকে নিয়ে অজানা পথে যাবেন, সেই উত্তর তৈরি হবে ছবিটি প্রিন্ট করে প্রথম রংটি বসানোর সঙ্গে সঙ্গে।

