
“বল কি সত্যিই ভবিষ্যতে পাঠানো যায়?” প্রশ্নটা শুনে প্রথমে হাসি পেতে পারে, কিন্তু এনজো ফার্নান্দেজের খেলা দেখলে মনে হয় উত্তরটা হয়তো হ্যাঁ। তিনি অনেক সময় এমন জায়গায় পাস দেন, যেখানে তখনও তাঁর সতীর্থ পৌঁছায়নি। বলটা আগে ছুটে যায়, তারপর খেলোয়াড় দৌড়ে এসে ঠিক সেখানে হাজির হয়। যেন এনজো কয়েক সেকেন্ড আগেই দেখে ফেলেছেন, মাঠে পরের মুহূর্তে কী ঘটতে চলেছে। এই মজার ফুটবল রহস্য থেকেই এনজো ফার্নান্দেজ (Enzo Fernández) স্টিকার রং করার অভিযান শুরু হতে পারে। ছবি ছাপিয়ে সামনে রাখো, রঙের বাক্স খোলো, তারপর ভাবো, এনজোর পরের পাসটা কোন দিকে যাবে।
ছবিতে এনজো একা দাঁড়িয়ে থাকলেও তার চারপাশের গল্পটা এখনো তৈরি হয়নি। হয়তো বিশ্বকাপ ২০২৬ এর একটি জমজমাট ম্যাচ চলছে। স্কোর সমান, সময় প্রায় শেষ, আর গ্যালারির সবাই চিৎকার করছে। একজন সতীর্থ গোলের দিকে দৌড় দিচ্ছে, দুইজন ডিফেন্ডার পথ আটকে দাঁড়িয়েছে, আর এনজো মাথা তুলে মাঠটা দেখছেন। শিশুরা চাইলে তাঁর পায়ের পাশে বল আঁকতে পারে, সামনে গোলপোস্ট বসাতে পারে কিংবা পেছনে হাজারো দর্শকে ভরা বিশাল গ্যালারি তৈরি করতে পারে।
আর্জেন্টিনার পরিচিত আকাশি ও সাদা জার্সি দিয়ে রং করা শুরু করলে ছবিটা বেশ বাস্তব দেখাবে। ছোট ছোট অংশে রঙিন পেনসিল ব্যবহার করা যায়, আর বড় জায়গাগুলো মোম রং দিয়ে ভরাট করলে কাজ দ্রুত এগোয়। জার্সির ওপরে থাকা তিনটি তারায় সোনালি, হলুদ কিংবা রুপালি রং দারুণ মানাবে। তারাগুলোর মাঝখান একটু হালকা আর চারপাশ গাঢ় করে দিলে মনে হবে সেগুলো স্টেডিয়ামের আলোয় ঝিকমিক করছে।
সবাইকে অবশ্য আসল জার্সির রং মানতেই হবে এমন কোনো নিয়ম নেই। এই খেলায় রেফারি নেই, তাই ভুল রং বলে কিছুই নেই। কেউ চাইলে এনজোর জার্সি বেগুনি করতে পারে, হাতায় সবুজ বজ্র আঁকতে পারে, আর দুই পায়ের বুটে দুই রকম রং দিতে পারে। একটি বুট লাল, অন্যটি নীল। মোজায় ছোট ছোট ফুটবল, তারা, মেঘ কিংবা হাসিমুখও আঁকা যায়। বিশ্বকাপ ২০২৬ এর জন্য একেবারে নতুন আর্জেন্টিনা জার্সি বানানোর দায়িত্ব ছোট ডিজাইনারের হাতে।
এনজোর নামের মধ্যেও ফুটবলের গল্প লুকিয়ে আছে। তাঁর বাবা ছিলেন রিভার প্লেটের ভীষণ ভক্ত। তিনি ক্লাবটির বিখ্যাত খেলোয়াড় এনজো ফ্রান্সেসকোলিকে এত পছন্দ করতেন যে ছেলের নাম রাখেন এনজো। তখন কেউ জানত না, সেই ছোট্ট ছেলেই একদিন রিভার প্লেটের ফুটবল শেখার দলে যোগ দেবে এবং পরে বড় দলের জার্সি পরবে। মনে হয় যেন তার নামের ভেতর খুব ছোট করে ভবিষ্যতের একটা সংকেত লেখা ছিল।
শুধু বিখ্যাত একজনের নামে নাম হলেই তো বড় ফুটবলার হওয়া যায় না। এনজোকে নিয়মিত অনুশীলন করতে হয়েছে, ভুল করতে হয়েছে, আবার চেষ্টা করতে হয়েছে। বল থামানো, দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানো, সঠিক সময়ে পাস দেওয়া এবং শক্ত প্রতিপক্ষের সামনে শান্ত থাকা, সবকিছুই ধীরে ধীরে শিখেছেন তিনি। রং করার সময়ও এমনটা হয়। প্রথম দাগ সব সময় নিখুঁত হয় না, কিন্তু একটার পর একটা রং বসতে থাকলে সাদা কাগজ ধীরে ধীরে চমৎকার ছবিতে বদলে যায়।
কখনো পেনসিল দাগের বাইরে চলে যেতে পারে। স্কেচ পেন থেকে হঠাৎ একটু বেশি কালি বের হতে পারে। সাদা রাখার কথা ছিল এমন জায়গায় নীল দাগ পড়ে যেতে পারে। তখন কাগজ ফেলে দেওয়ার দরকার নেই। সেই দাগকে কনফেটি বানিয়ে দাও, নতুন নকশা বানাও অথবা স্টেডিয়ামের আলো থেকে তৈরি ছায়া হিসেবে আঁকো। বাইরে চলে যাওয়া রেখা লম্বা করে দিলে সেটাই আর্জেন্টিনার পতাকা হয়ে যেতে পারে। ছোট ভুল থেকে বড় মজার ভাবনা বেরিয়ে আসাই তো আঁকার আসল আনন্দ।
রিভার প্লেটের তরুণ দলে খেলার সময় থেকেই এনজোর চারপাশ দেখার ক্ষমতা সবার নজরে পড়ে। অন্য কেউ শুধু বলের দিকে তাকিয়ে থাকলে তিনি দেখতেন মাঠের কোন অংশ ফাঁকা, সতীর্থ কোন দিকে দৌড়াচ্ছে এবং প্রতিপক্ষ কখন জায়গা ছেড়ে দিচ্ছে। এই গুণটাকে ছবির মধ্যে দারুণ একটি খেলা বানানো যায়। এনজোর পা থেকে তিনটি পথ আঁকো। প্রথম পথটি ডান পাশের খেলোয়াড়ের কাছে যাবে, দ্বিতীয়টি গোলের সামনে থাকা স্ট্রাইকারের দিকে, আর তৃতীয়টি যাবে এমন ফাঁকা জায়গায়, যেটা এখনো কেউ খেয়াল করেনি।
এরপর ছোট শিল্পী ঠিক করবে, কোন পাসটি সবচেয়ে বুদ্ধিমান। বলের পথ সোজা হতে হবে না। রেখাটা ডিফেন্ডারের পাশ দিয়ে বাঁক নিতে পারে, দুই খেলোয়াড়ের মাঝখান দিয়ে ছুটতে পারে কিংবা তারার মতো ঝলমলে হয়ে গোলের দিকে যেতে পারে। চাইলে প্রতিটি পথে আলাদা রং দেওয়া যায়। লাল পথ বিপজ্জনক, নীল পথ নিরাপদ, আর সোনালি পথটি হতে পারে গোল বানানোর গোপন রাস্তা।
এনজোর চারপাশে একটি কল্পনার ফুটবল রাডারও আঁকা যায়। বড় কয়েকটি গোল বৃত্ত মাঠের বিভিন্ন অংশ দেখাবে। আকাশি বিন্দুগুলো আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়, লাল বিন্দুগুলো প্রতিপক্ষ, আর সোনালি তারাটি হবে সবচেয়ে ভালো পাস দেওয়ার জায়গা। কোনো সতীর্থ একদম ফাঁকা হয়ে গেলে রাডারটি টিং টিং শব্দ করছে বলে ভাবা যায়। শিশুরা এর নাম দিতে পারে “সুপার পাস খোঁজার যন্ত্র” কিংবা “ফাঁকা মাঠ ধরার চোখ”।
এনজোর ফুটবল যাত্রা সব সময় এক পথ ধরে এগোয়নি। বড় দলে ওঠার পর তাঁর আরও বেশি ম্যাচ খেলার প্রয়োজন ছিল। তাই রিভার প্লেট তাঁকে কিছু সময়ের জন্য ডিফেন্সা ই জুস্তিসিয়ায় পাঠায়। নিজের পরিচিত দল ছেড়ে নতুন জায়গায় যাওয়া নিশ্চয়ই সহজ ছিল না। নতুন কোচ, নতুন সতীর্থ এবং বড় খেলোয়াড়দের বিপক্ষে কঠিন ম্যাচ অপেক্ষা করছিল। এনজো সেই সময়টাকে মন খারাপ করে নষ্ট করেননি। তিনি খেলেছেন, শিখেছেন এবং দলের গুরুত্বপূর্ণ সাফল্যে ভূমিকা রেখেছেন।
পরে রিভার প্লেটে ফিরে আসার সময় তিনি আগের চেয়ে বেশি আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। প্রতিপক্ষ কাছে চলে এলেও সহজে ঘাবড়ে যেতেন না। বল পেলে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতেন এবং মাঝমাঠ থেকে পুরো দলকে খেলাতে পারতেন। কখনো যে পথটা মূল রাস্তা মনে হয় না, সেটাই সবচেয়ে দরকারি শিক্ষা দিয়ে দেয়। রং করা ছবিতেও পরিকল্পনা বদলে যেতে পারে। শুরুতে শুধু জার্সি রং করার কথা থাকলেও পরে হয়তো পুরো স্টেডিয়াম, স্কোরবোর্ড এবং আনন্দে লাফানো দর্শক আঁকার ইচ্ছা হবে।
রিভার প্লেটে ভালো খেলার পর এনজোর ক্যারিয়ার খুব দ্রুত এগোয়। তিনি পর্তুগালের বেনফিকায় যান এবং অল্প সময়ের মধ্যেই আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের সুযোগ পান। এখানেই তাঁর গল্পে আসে এমন এক ঘটনা, যা শুনলে যে কোনো ফুটবলপাগল শিশু অবাক হবে। কিশোর বয়সে তিনি লিওনেল মেসিকে একটি আবেগভরা বার্তা লিখেছিলেন। মেসি তখন জাতীয় দল ছাড়ার কথা ভেবেছিলেন, আর পনেরো বছরের এনজো তাঁকে থেকে যাওয়ার অনুরোধ করেছিলেন।
কয়েক বছর পর সেই কিশোর মেসির পাশেই অনুশীলন করছিলেন। যে খেলোয়াড়কে আগে কেবল দূর থেকে দেখতেন, তিনি এখন এনজোর নাম ধরে বল চাইছেন। প্রথমবার মেসিকে পাস দেওয়ার সময় এনজোর কেমন লেগেছিল, সেটা কল্পনা করলেই গল্পটা আরও মজার হয়ে ওঠে। হয়তো পুরোনো বার্তাটার কথা মনে পড়েছিল। হয়তো খেলায় এত মন ছিল যে পরে বসে বুঝেছেন, তাঁর জীবনে কী অসাধারণ ঘটনা ঘটে গেছে।
শিশুদেরও পছন্দের মানুষ থাকে। কেউ ফুটবলারকে ভালোবাসে, কেউ কার্টুন আঁকেন এমন শিল্পীকে, কেউ শিক্ষককে, আবার কেউ পরিবারের বড় ভাই কিংবা বোনকে দেখে নতুন কিছু শিখতে চায়। আজ যে শিশু খেলোয়াড়ের ছবি রং করছে, সে বড় হয়ে ফুটবল খেলতেই হবে এমন নয়। সে জার্সি ডিজাইন করতে পারে, খেলার ছবি তুলতে পারে, ধারাভাষ্য দিতে পারে, শিশুদের বই আঁকতে পারে কিংবা নিজের হাতে নতুন ফুটবল গেম বানাতে পারে।
২০২২ সালের বিশ্বকাপে এনজো শুরু থেকেই দলের সবচেয়ে বড় তারকা ছিলেন না। আর্জেন্টিনা প্রথম ম্যাচ হেরে যাওয়ার পর চারদিকে চিন্তা ছড়িয়ে পড়ে। মেক্সিকোর বিপক্ষে পরের খেলাটি খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। মাঠে চাপ ছিল, দর্শকেরা দুশ্চিন্তায় ছিল, আর প্রতিটি পাসের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়ছিল। এনজো মাঠে নেমে মাঝখানের খেলায় গতি এবং শান্ত ভাব দুটোই যোগ করেন।
একসময় পেনাল্টি এলাকার কাছে তাঁর কাছে বল আসে। এনজো বল নিয়ন্ত্রণ করেন, একটু জায়গা বের করেন, তারপর গোলের ওপরের কোণের দিকে শট নেন। গোলকিপার পুরো শরীর ছুড়ে দিয়েও বলের নাগাল পাননি। গ্যালারি আনন্দে ফেটে পড়ে। ঘরে বসে খেলা দেখা মানুষ সোফা থেকে লাফিয়ে ওঠে। অনেক শিশু নিশ্চয়ই দৌড়ে গিয়ে সেই শট নকল করার চেষ্টা করেছিল, আর পাশের ঘরে থাকা মানুষও শব্দ শুনে ছুটে এসেছিল।
এই গোলের মুহূর্তটি স্টিকারের পেছনে আঁকা যায়। কাগজের এক কোণে গোলপোস্ট, জালের কাছে ছুটে যাওয়া বল এবং বাতাসে ঝাঁপ দেওয়া গোলকিপার থাকবে। দর্শকদের হাজার হাজার মুখ আলাদা করে আঁকার দরকার নেই। ছোট ছোট গোল দাগ, রঙিন বিন্দু, ওপরে ওঠা হাত এবং পতাকা দিয়েই জমজমাট গ্যালারি বানানো যায়। স্কোরবোর্ডে শিশু নিজের পছন্দের ফল লিখতে পারে।
কেউ চাইলে গোল হওয়ার পরের আনন্দ না এঁকে, শট নেওয়ার আগের নিঃশব্দ মুহূর্তটি বানাতে পারে। একজন ডিফেন্ডার কাছে আসছে, গোলকিপার জায়গা বদলাচ্ছে, এনজো লক্ষ্য ঠিক করছেন, আর পুরো গ্যালারি যেন শ্বাস আটকে অপেক্ষা করছে। বলের পাশে ছোট কয়েকটি গতির রেখা দিলে মনে হবে সেটি এখনই ছুটে যাবে। ছবির এই অংশটি রং করতে করতে শিশুরা নিজেরাই ধারাভাষ্য বলতে পারে।
মেক্সিকোর বিপক্ষে সেই ম্যাচের পর এনজো আরও বেশি খেলার সুযোগ পান। তিনি শুধু আক্রমণ সাজাতেন না, বল কেড়ে নিতে সাহায্য করতেন এবং দলকে আবার সামনে এগিয়ে দিতেন। প্রতি ম্যাচে গোল না করেও একজন খেলোয়াড় কতটা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারেন, এনজো তার ভালো উদাহরণ। কখনো তাঁর একটি সঠিক পাসেই অন্য খেলোয়াড় গোল করার সুযোগ পেয়ে যেত।
মাঝমাঠে তাঁকে ব্যস্ত মোড়ের ট্রাফিক সামলানো কারও সঙ্গে তুলনা করা যায়। চারদিকে সবাই ছুটছে, কিন্তু এনজো দেখছেন কোন পথটা খুলছে। কখনো ছোট পাস দিয়ে খেলা শান্ত করেন, আবার কয়েক সেকেন্ড পর অনেক দূরে লম্বা বল পাঠিয়ে দেন। এই ভাবনাকে ছবিতে দেখাতে পুরো মাঠের একটি মানচিত্র আঁকা যায়। আলাদা জায়গায় নম্বর বসিয়ে, সেরা পথটিকে সোনালি রং দিয়ে চিহ্নিত করা যায়।
আর্জেন্টিনা শেষ পর্যন্ত বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়, আর এনজো টুর্নামেন্টের সেরা তরুণ খেলোয়াড়ের পুরস্কার পান। তিনি শুধু দ্রুত দৌড়ানো বা গোল করার জন্য এই সম্মান পাননি। তাঁর ঠান্ডা মাথা, সাহস, পরিশ্রম এবং নিখুঁত পাস সবাইকে মুগ্ধ করেছিল। যে তরুণ শুরুতে বেঞ্চ থেকে সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন, তিনিই কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বিশ্বজয়ী দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হয়ে ওঠেন।
জার্সির তিন তারার একটি সেই বিশ্বজয়ের স্মৃতি বহন করে, যেখানে এনজোর বড় অবদান ছিল। রং করার সময় তারাগুলোর চারপাশে আলো, ছোট বিন্দু কিংবা ঝিকিমিকি রেখা যোগ করা যায়। কেউ চাইলে একটি তারা থেকে লম্বা আলোর পথ নামিয়ে বল পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারে। মনে হবে তারাটি এনজোর পাসকে পথ দেখাচ্ছে।
ছোট জায়গার জন্য রঙিন পেনসিল বেশ সুবিধার। মুখ, চুল, জার্সির চিহ্ন এবং ছোট নকশা ধীরে ধীরে রং করা যায়। মোম রং দিয়ে বড় অংশ দ্রুত ভরাট হয়। স্কেচ পেন ছবিকে উজ্জ্বল করে, তবে নিচে বাড়তি কাগজ রাখলে টেবিলে দাগ পড়বে না। যারা তুলি দিয়ে রং করতে ভালোবাসে, তারা একটু মোটা কাগজে অল্প পানি ব্যবহার করতে পারে। পাশে কোনো বড় মানুষ থাকলে কাজটা আরও আরামে করা যায়।
একই ছবি কয়েকবার প্রিন্ট করলে এনজো ফার্নান্দেজের পুরো সংগ্রহ বানানো সম্ভব। প্রথম ছবিতে থাকবে আসল আর্জেন্টিনা জার্সি। দ্বিতীয়টিতে শিশু বিশ্বকাপ ২০২৬ এর নতুন জার্সি ডিজাইন করবে। তৃতীয়টি হবে সোনালি বর্ডারের বিরল স্টিকার। চতুর্থ ছবিতে ম্যাচ হতে পারে পানির নিচে, যেখানে মাছেরা আর্জেন্টিনার স্কার্ফ পরে আছে, অক্টোপাস আট হাতে আটটি পতাকা ধরেছে, আর বিশাল কচ্ছপ গোলকিপার হয়েছে।
ভাইবোন, বন্ধু কিংবা কাজিনরা একসঙ্গে বসে নিজের নিজের কপি রং করতে পারে। শেষে সবচেয়ে সুন্দর ছবি বেছে নেওয়ার বদলে সবচেয়ে মজার ব্যাপারটি খোঁজা যায়। কে ডাইনোসরকে গোলকিপার বানিয়েছে? কোন ছবিতে বিড়াল কোচের চেয়ারে বসে আছে? কে বলটাকে আগুন ছোড়া উল্কার মতো এঁকেছে? একই স্টিকার থেকে এত আলাদা গল্প বের হওয়াটাই এই খেলাটির সবচেয়ে মজার অংশ।
রং করা স্টিকারটি কোনো বড় মানুষের সাহায্যে কেটে ঘরে বানানো ফুটবল অ্যালবামে লাগানো যায়। পাশে এনজো ফার্নান্দেজ (Enzo Fernández), আর্জেন্টিনা এবং তাঁর গল্পের একটি ছোট তথ্য লেখা যেতে পারে। শিশুরা গেমের মতো নিজেরাই নম্বর বানাতে পারে। পাস ৯৯, শট ৯৪, আর গোপন মাঠ রাডার ২৫০। এগুলো সত্যিকারের হিসাব হতে হবে না, কারণ অ্যালবামের নিয়ম ছোট সংগ্রাহক নিজেই বানাবে।
এনজোর জন্য কল্পনার শক্তিও তৈরি করা যায়। “ভবিষ্যতের পাস” বলকে সেই জায়গায় পাঠাবে যেখানে কয়েক সেকেন্ড পর সতীর্থ পৌঁছাবে। “ঈগল চোখ” ডিফেন্ডারদের মাঝখানে লুকিয়ে থাকা সরু পথ খুঁজে নেবে। “কোণ শিকারি” শটকে গোলকিপারের নাগালের বাইরের জায়গায় পৌঁছে দেবে। প্রতিটি শক্তির জন্য আলাদা চিহ্ন আঁকা এবং রং করা যেতে পারে।
স্কুলে এই ছাপানোর মতো রং করার ছবি আর্জেন্টিনা, ফুটবল এবং বিশ্বকাপ নিয়ে আনন্দের কাজ হতে পারে। শিশুরা মানচিত্রে আর্জেন্টিনা খুঁজবে, দেশের পতাকার রং দেখবে এবং এনজোর ফুটবল যাত্রা সম্পর্কে জানবে। পরে সবাই একই ছবি পেলেও তৈরি কাজগুলো একেবারেই আলাদা হবে। দেয়ালে পাশাপাশি লাগালে পুরো ক্লাসটি বিশাল ফুটবল স্টিকার অ্যালবামের মতো দেখাবে।
ফুটবল থিমের জন্মদিনেও ছবিটি কাজে লাগানো যায়। কয়েকটি প্রিন্ট, রঙিন পেনসিল, মোম রং এবং একটি খালি টেবিল হলেই হলো। দৌড়ঝাঁপের খেলার ফাঁকে শিশুরা একটু বসে রং করতে পারবে। কাজ শেষ হলে পেছনে নিজের নাম লিখে বাড়ি নিয়ে যাবে অথবা বন্ধুর সঙ্গে বদল করবে। রুপালি জার্সির স্টিকার বদলে পাওয়া যেতে পারে মহাকাশের স্টেডিয়াম আঁকা স্টিকার।
যারা কমিক আঁকতে পছন্দ করে, তারা অন্য কাগজে ম্যাচের পরের অংশ বানাতে পারে। প্রথম ঘরে এনজো বল পেলেন। দ্বিতীয় ঘরে তিনি গোলের দিকে দৌড়ানো সতীর্থকে দেখলেন। তৃতীয় ঘরে পাস বের হলো। চতুর্থ ঘরে পুরো দল গোলের আনন্দ করছে। কথার বুদবুদে খেলোয়াড়দের সংলাপ লেখা যায়, আর বড় অক্ষরে গ্যালারির চিৎকার দেখানো যায়।
প্রতিপক্ষকে সত্যিকারের কোনো দেশ হতে হবে না। আর্জেন্টিনা রোবট, জলদস্যু কিংবা এগারোটি দ্রুত খরগোশের দলের সঙ্গে খেলতে পারে। লম্বা গলার জিরাফ গোলকিপার হয়ে উঁচু সব বল ধরে ফেলবে। খুব গম্ভীর একটি পেঙ্গুইন রেফারি হবে, যে বারবার ঘাসে পিছলে পড়ে। এনজোর সত্যিকারের গল্প ম্যাচটি শুরু করে দেয়, এরপর খেলাটি কোথায় যাবে তা ঠিক করে শিশুর কল্পনা।
এনজো ফার্নান্দেজের বিশ্বকাপ ২০২৬ স্টিকার এখন পরের চালের অপেক্ষায় আছে। স্কোর সমান, দর্শকের শব্দ বাড়ছে, এক সতীর্থ গোলের দিকে ছুটছে, আর একজন ডিফেন্ডার পাসের পথ বন্ধ করতে চাইছে। এনজো মাথা তুলে এমন একটি ফাঁকা জায়গা দেখলেন, যা আর কেউ এখনো খেয়াল করেনি। বল কোন দিকে যাবে, জার্সিতে কী রং হবে এবং গ্যালারিতে কোন মজার চরিত্র বসবে, সব সিদ্ধান্ত এখন ছোট শিল্পীর হাতে।

