
রং পেন্সিলের বাক্স খুলতেই যেন ফর্কি (Forky) অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে। তার মনে হয়তো নতুন প্রশ্ন এসেছে, “আমার শরীর যদি সাদা হয়, তাহলে আমাকে রং করবে কীভাবে?” প্রশ্নটা শুনতে মজার হলেও এই ছবির আসল খেলাটা সেখানেই। টয় স্টোরি ৫-এর ফর্কির এই রং করার ছবি প্রিন্ট করে শিশুরা তার মুখ, হাত, চোখ ও ছোট ছোট কারুকাজ আলাদা করে সাজাতে পারে। চাইলে পরিচিত রং ব্যবহার করা যাবে, আবার চাইলে এমন এক নতুন ফর্কিও আঁকা যাবে, যার মতো আর কোনো খেলনা আগে দেখা যায়নি।
ছবির দিকে তাকালে প্রথমেই চোখ দুটো নজরে পড়ে। একটি বড়, অন্যটি ছোট। তারা একই দিকে তাকিয়ে থাকবে, এমন কোনো নিয়ম নেই। একটি চোখ ওপরের দিকে আর অন্যটি পাশে তাকালে মনে হবে, ফর্কি একসঙ্গে দুটো রহস্য বোঝার চেষ্টা করছে। দুই চোখ নিচের দিকে দিলে সে যেন মেঝেতে পড়ে থাকা কোনো অদ্ভুত জিনিস দেখছে। শুধু চোখের মণির অবস্থান বদলেই তার মুখের ভাব পাল্টে যায়, তাই রং শুরু করার আগে শিশুরা ঠিক করে নিতে পারে ফর্কি আজ অবাক, চিন্তিত, আনন্দিত নাকি একটু বিভ্রান্ত।
দুটি কপি প্রিন্ট করলে এই মুখভঙ্গির খেলাটা আরও মজার হয়। প্রথম ছবিতে চোখ দুটি একই দিকে রাখা যায়। দ্বিতীয়টিতে তারা বিপরীত দিকে তাকাবে। এরপর দুটো ছবি পাশাপাশি রেখে দেখা যায়, মাত্র কয়েকটি ছোট দাগ বদলে পুরো চরিত্রটি কত আলাদা লাগছে। মুছে আবার আঁকার দরকার হয় না, ফলে শিশুরা নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে নিশ্চিন্তে কাজ করতে পারে।
চোখের ওপরে থাকা লাল ভ্রুটিও মুখের ভাব তৈরি করে। ভ্রুর মাঝখানটা বেশি বাঁকানো হলে ফর্কিকে দুশ্চিন্তায় পড়েছে বলে মনে হতে পারে। একটু মোলায়েম বাঁক দিলে সে কৌতূহলী দেখাবে। ছোটরা শুধু ভেতরের অংশ লাল রং করে দিতে পারে। যারা আঁকতে স্বচ্ছন্দ, তারা দ্বিতীয় কপিতে ভ্রুর আকার সামান্য বদলে নতুন অভিব্যক্তি তৈরি করতে পারে। এই পরিবর্তন শিশুর নিজের কল্পনার অংশ, সিনেমায় দেখানো নতুন কোনো চেহারা নয়।
নীল মুখটি সাদা শরীরের মাঝখানে বেশ উজ্জ্বলভাবে ফুটে ওঠে। রং পেন্সিল দিয়ে ধীরে ধীরে কিনারা থেকে ভেতরের দিকে রং করলে কালো রেখা পরিষ্কার থাকে। স্কেচপেন ব্যবহার করলে একবার রং করাই যথেষ্ট, বিশেষ করে কাগজ পাতলা হলে। একই জায়গায় বারবার স্কেচপেন চালালে কালি অন্য পাশে চলে যেতে পারে। মুখের চারপাশে খুব হালকা আকাশি ছায়া দিলে সেটি একটু উঁচু হয়ে আছে বলে মনে হবে, তবে এই ছায়া শুধু ছবি সাজানোর কৌশল।
ফর্কির গোলাপি গাল দুটি ছোট জায়গা, তাই অল্প সময়ের রং করার কাজেও এগুলো বেছে নেওয়া যায়। মাঝখানে গাঢ় গোলাপি এবং কিনারায় হালকা রং দিলে গাল দুটো নরম ও গোল দেখাবে। মোম রং ব্যবহার করলে ছোট গোল গোল টানে অংশটি ভরানো যায়। দুই গাল একেবারে একই রকম না হলেও কোনো সমস্যা নেই। ফর্কির নিজের চেহারাতেই এমন অসমান, হাতে বানানো মজা রয়েছে।
তার শরীরের প্রধান অংশটি একটি সাদা প্লাস্টিকের স্পোর্ক দিয়ে তৈরি। স্পোর্ক এমন একটি খাবার খাওয়ার উপকরণ, যার মধ্যে চামচ ও কাঁটার বৈশিষ্ট্য একসঙ্গে থাকে। টয় স্টোরি ৪ ছবিতে বনি তাকে একটি হাতের কাজের প্রকল্প হিসেবে তৈরি করে। ফর্কি নিজেকে খেলনা না ভেবে আবর্জনা মনে করে, আর উডি তাকে বোঝানোর চেষ্টা করে যে বনির কাছে সে বিশেষ হয়ে উঠেছে।
শরীরটি সাদা হওয়ায় পুরো অংশ রং দিয়ে ঢেকে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। কাগজের সাদা রংই তার শরীর হতে পারে। এক পাশে খুব হালকা ধূসর পেন্সিল চালালে শরীরের রেখা পেছনের সাদা অংশ থেকে আলাদা হয়ে উঠবে। অন্য পাশে হালকা আকাশি দাগ প্লাস্টিকের চকচকে ভাব দেখাতে পারে। পেন্সিল জোরে চাপার দরকার নেই। হালকা হাতে দুই বা তিনবার রং করলেই যথেষ্ট।
ছয় বছরের কাছাকাছি বয়সের শিশুরা শরীরের অংশ একেবারেই সাদা রেখে দিতে পারে। এতে ছবি অসম্পূর্ণ দেখাবে না, কারণ সাদাই ফর্কির পরিচিত রং। যারা একটু বড় এবং ছায়া আঁকতে ভালোবাসে, তারা কল্পনা করতে পারে আলো কোন পাশ থেকে আসছে। আলো বাঁ দিক থেকে এলে ডান পাশের কিনারা ধূসর হবে। এই ছোট সিদ্ধান্তটি আঁকা ও পর্যবেক্ষণ দুটোই শেখায়, কিন্তু কাজটিকে কঠিন ক্লাসের অনুশীলন বানায় না।
মাথার ওপরের গোলাকার কাঁটার অংশগুলো একবারে রং না করে একটি একটি করে দেখা ভালো। কাগজ একটু ঘুরিয়ে নিলে হাত সহজে প্রতিটি বাঁক অনুসরণ করতে পারে। লম্বা এক টানে পুরো অংশ শেষ করার চেষ্টা না করে ছোট ছোট টানে কাজ করলে রেখার মধ্যে থাকা সহজ হয়। কোনো দাগ সামান্য বাইরে চলে গেলেও ভয় পাওয়ার কিছু নেই। ফর্কির চেহারা এমনিতেই হাতে তৈরি, তাই ছোটখাটো অসমান দাগ তার সঙ্গে মানিয়ে যায়।
তার লাল হাত দুটি শেনিল স্টিক বা নরম ক্রাফট তার পেঁচিয়ে বানানো বলে মনে হয়। ছোটরা একটি লাল রং দিয়েই পুরো হাত ভরতে পারে। একটু বড় শিশুরা হাতের বাঁক অনুসরণ করে ছোট ছোট গোল দাগ আঁকতে পারে। এতে নরম ও লোমশ গঠন ফুটে ওঠে। নিচের দিকে গাঢ় লাল আর ওপরের দিকে হালকা লাল দিলে হাতটি চ্যাপ্টা না থেকে গোল দেখাবে।
মোম রং দিয়ে আগে লাল একটি ভিত্তি তৈরি করা যায়। তার ওপর গাঢ় লাল রং পেন্সিল দিয়ে কয়েকটি বাঁকা রেখা আঁকলে পেঁচানো তারের মতো দেখাবে। দুই হাত একেবারে একইভাবে রং করার দরকার নেই। একটি হাত একটু গাঢ়, অন্যটি হালকা হলেও ফর্কির হাতে বানানো চেহারার সঙ্গে ভালোভাবে মিশে যাবে।
পায়ের অংশগুলো ভাঙা আইসক্রিমের কাঠির মতো। হালকা বাদামি, বেইজ ও মধুরঙা পেন্সিল এখানে ব্যবহার করা যায়। কাঠের দাগ দেখাতে লম্বালম্বি কয়েকটি সরু রেখা আঁকাই যথেষ্ট। প্রতিটি ফাঁকা জায়গায় অসংখ্য রেখা বসানোর দরকার নেই। তিন বা চারটি অসমান দাগেই কাঠের ভাব তৈরি হবে।
শরীর ও পা ধরে রাখা সাদা মাটির মতো ভিত্তিটি রং না করেও রাখা যায়। নিচের কিনারায় হালকা ধূসর ছায়া দিলে সেটি কাগজের সঙ্গে মিশে যাবে না। ছবিতে ছোট রংধনুর স্টিকার থাকলে ভালো করে ছোলা রং পেন্সিল দিয়ে সরু রঙিন অংশগুলো আলাদা করে ভরানো যাবে। আরেকটি কপিতে শিশুরা রংধনুর বদলে শাপলা, ঘুড়ি, ফুটবল, তারা বা নিজের নামের প্রথম অক্ষর আঁকতে পারে।
এই নতুন স্টিকারটি ফর্কির কোনো সরকারি নকশা নয়। এটি শুধু শিশুর নিজের ছবির জন্য তৈরি সাজসজ্জা। এমন কথা স্পষ্ট থাকলে কল্পনা ও সিনেমার সত্য ঘটনা গুলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে না। শিশুরাও বুঝতে পারে, একটি চরিত্রকে নিজের মতো সাজানো যায়, কিন্তু সেই সাজ সিনেমার অংশ বলে ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
ফর্কির চারপাশের সাদা জায়গাটি পুরোপুরি ভরতেই হবে, এমন নয়। পাশে একটি পেন্সিল বক্স, একটি খাতা আর একটি রাবার আঁকলেই ছোট একটি স্কুলের দৃশ্য তৈরি হয়ে যাবে। বাংলাদেশের অনেক শিশুর কাছেই এই জিনিসগুলো পরিচিত, তাই কঠিন কোনো পটভূমি না এঁকেও গল্প শুরু করা যায়। ফর্কি রাবারটির দিকে তাকিয়ে ভাবতে পারে, সেটি এত ব্যবহার করার পর কোথায় হারিয়ে যায়।
চাইলে জানালার বাইরে বর্ষার দৃশ্য আঁকা যায়। কাঁচে বৃষ্টির ফোঁটা, নিচে ছোট জলকাদা আর দূরে একটি ছাতা থাকলে ছবিতে বাংলাদেশের বর্ষার পরিচিত অনুভূতি আসবে। ফর্কির পাশে একটি কথার বুদ্বুদ এঁকে লেখা যেতে পারে, “মেঘ এত পানি কোথায় রাখে?” এটি শিশুর বানানো প্রশ্ন, কোনো চলচ্চিত্রের সংলাপ নয়।
আরেকটি পটভূমিতে স্কুলের টিফিনের সময় দেখানো যেতে পারে। পাশে টিফিন বক্স, পানির বোতল আর একটি কলা আঁকা থাকবে। ফর্কি হয়তো জানতে চাইবে, “টিফিন বেল বাজলেই সবার এত ক্ষুধা লাগে কেন?” এমন সহজ প্রশ্ন শিশুদের দৈনন্দিন অভিজ্ঞতার সঙ্গে ছবিকে জুড়ে দেয়। একই সঙ্গে পটভূমি আঁকার কারণও তৈরি হয়।
ফর্কির প্রশ্ন করার স্বভাবকে কেন্দ্র করে Pixar Forky Asks a Question নামে দশটি ছোট পর্বের একটি সিরিজ তৈরি করেছে। সিরিজটি ২০১৯ সালে প্রকাশিত হয় এবং বব পিটারসন এটি পরিচালনা করেন। সেখানে ফর্কি ভালোবাসা, সময় ও পনিরের মতো বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করে।
এই তথ্য থেকে একটি সহজ লেখার খেলা বানানো যায়। ফর্কির মাথার পাশে বড় একটি কথার বুদ্বুদ আঁকতে হবে। তারপর ঘর, স্কুল বা খেলার মাঠের কোনো বিষয় নিয়ে প্রশ্ন লিখতে হবে। “রং পেন্সিল ছোট হয়ে যায় কেন?”, “একটি মোজা সব সময় হারায় কোথায়?”, “স্কুলব্যাগ ছুটির দিনে কী করে?” কিংবা “ঘুড়ি কি আকাশে গিয়ে ভয় পায়?” এমন প্রশ্ন ভালো মানাবে।
যারা এখনো বড় বাক্য লিখতে পারে না, তারা মা, বাবা, শিক্ষক বা অন্য কোনো বড় মানুষকে প্রশ্নটি বলে দিতে পারে। বড়রা সেটি লিখে দেবেন, আর শিশু অক্ষরগুলো রং করতে পারবে। যারা নিজে লিখতে পারে, তারা প্রথমে সাধারণ পেন্সিলে হালকা করে শব্দগুলো বসিয়ে দেখতে পারে। বাক্যটি বড় হলে দুটি বুদ্বুদ আঁকা যাবে, যেন ফর্কি একটি প্রশ্ন শেষ করেই আরেকটি শুরু করেছে।
প্রশ্নের সঙ্গে মিলিয়ে পটভূমি আঁকলে পুরো ছবিটি ছোট গল্পের মতো হয়ে ওঠে। ঘুড়ির প্রশ্ন হলে আকাশ, মেঘ ও ছাদের ওপর একটি লাটাই আঁকা যায়। বৃষ্টির প্রশ্ন হলে ছাতা ও পানি জমা রাস্তা থাকবে। বই নিয়ে প্রশ্ন হলে পাশে ছোট বুকশেলফ বা কয়েকটি গল্পের বই রাখা যায়। পটভূমি শিশুর নিজের কল্পনা থেকে আসবে, তাই সেটিকে সিনেমার দৃশ্য হিসেবে দেখানো হবে না।
যারা বড় দৃশ্য আঁকতে ভালোবাসে, তারা স্কুলের জিনিসপত্রকে বিশাল এক শহরে বদলে দিতে পারে। স্কেল হবে সেতু, রাবার হবে পাহাড়, খোলা খাতা হবে মাঠ এবং দাঁড় করানো রং পেন্সিলগুলো হবে উঁচু দালান। মাঝখানে ছোট্ট ফর্কি দাঁড়িয়ে ভাববে, সব জিনিস হঠাৎ এত বড় হলো কীভাবে।
এ ধরনের দৃশ্য আঁকার সময় আগে বড় আকারগুলো বসানো সুবিধাজনক। খাতা, স্কেল ও পেন্সিল বক্স আঁকার পর ফর্কিকে রং করা যায়। শেষে ছোট দাগ, ছায়া ও কথার বুদ্বুদ যোগ করলে ছবি অতিরিক্ত ভিড় হয়ে যাবে না। সাদা শরীরটি রঙিন পটভূমির মাঝে স্পষ্ট রাখার জন্য তার চারপাশে সামান্য ফাঁকা জায়গা রাখা ভালো।
দুটি কপি প্রিন্ট করে রঙের তুলনাও করা যায়। প্রথম কপিতে ফর্কির পরিচিত রং ব্যবহার করা হবে। শরীর সাদা, হাত ও ভ্রু লাল, মুখ নীল, গাল গোলাপি এবং পায়ে কাঠের রং থাকবে। দ্বিতীয় কপিতে শিশুর নিজের পছন্দের একটি বিষয় বেছে নেওয়া যাবে।
মহাকাশের ফর্কির শরীরে ছোট তারা, বেগুনি হাত এবং পায়ে গ্রহের স্টিকার থাকতে পারে। বর্ষার ফর্কির চারপাশে মেঘ, বৃষ্টির ফোঁটা ও কাগজের নৌকা আঁকা যাবে। পহেলা বৈশাখ থেকে অনুপ্রাণিত একটি কল্পিত সংস্করণে লাল, সাদা ও রঙিন আলপনার নকশা যোগ করা যায়। এগুলো কোনো সরকারি পোশাক নয়, শুধু আঁকা ও রং করার নতুন ভাবনা।
চারটি ছোট কপি প্রিন্ট করে মুখভঙ্গির খেলাও বানানো যায়। প্রথমটিতে ফর্কি খুশি, দ্বিতীয়টিতে অবাক, তৃতীয়টিতে চিন্তিত এবং চতুর্থটিতে কৌতূহলী হবে। চোখ, ভ্রু ও মুখের অবস্থান ছাড়া আর কিছু বদলাতে হবে না। পরিবারের অন্যরা দেখে অনুমান করবে কোন মুখটি কোন অনুভূতি দেখাচ্ছে।
ক্লাসে একই ছবি দিয়ে আলাদা আলাদা কাজ করা যায়। একটি দল শুধু মুখের ভাব তৈরি করবে। আরেক দল প্রশ্ন লিখবে। তৃতীয় দল ফর্কি কোথায় দাঁড়িয়ে আছে, সেই পটভূমি আঁকবে। সব ছবি পাশাপাশি টাঙালে একই ছাপা ছবি থেকে অনেক ভিন্ন গল্প তৈরি হয়েছে দেখা যাবে।
কোন ছবি সবচেয়ে পরিষ্কার বা সুন্দর, সেটি ঠিক করাই এই কাজের লক্ষ্য নয়। শিশু কেন চোখ একদিকে এঁকেছে, কেন বৃষ্টির পটভূমি বেছে নিয়েছে অথবা কেন হাতের রং বদলেছে, সে কথা শুনলেই ছবির বিশেষত্ব বোঝা যাবে। এতে যারা ধীরে রং করে এবং যারা দ্রুত কল্পনা করে, দুজনেই নিজের কাজ দেখানোর সুযোগ পায়।
বাড়িতে দুজন মিলে ছবিটি সম্পূর্ণ করা যায়। একজন চোখের দিক ঠিক করবে, অন্যজন মুখের আকার বেছে নেবে। তারপর দুজন অনুমান করবে ফর্কি কী ভাবছে। পরের কপিতে কাজ বদলানো যাবে। আলাদা খেলনা বা দামি উপকরণ ছাড়াই একটি রং করার ছবি কথাবার্তার খেলায় পরিণত হবে।
ছবির অংশ খোঁজার খেলাও করা যায়। একজন বড় মানুষ বলবেন, “আমি নীল এবং মুখের ভাব বদলাই।” শিশুকে মুখ দেখাতে হবে। “আমরা দুজন, কিন্তু একই আকারের নই” বললে চোখ খুঁজতে হবে। “আমরা লাল, লম্বা এবং পেঁচানো” বললে হাত দেখাতে হবে। বড় শিশুরা নিজেরাই নতুন ধাঁধা বানাতে পারে।
টয় স্টোরি ৫ এর Pixar চরিত্র পরিচিতিতে ফর্কি এখন খেলনা হতে ভালোবাসে। সেখানে জানানো হয়েছে, সে প্লাস্টিকের ছুরি থেকে তৈরি খেলনা ক্যারেন বেভারলিকে বিয়ে করতে যাচ্ছে এবং তাকে আবর্জনা, জীবন ও খেলনা হওয়া সম্পর্কে নিজের শেখা বিষয়গুলো বোঝায়। বনি প্রয়োজন হলে তাকে আবার হাতের কাজের কায়দায় ঠিক করে দেয়।
এই নিশ্চিত তথ্য থেকে একটি অভিনন্দনের কার্ড আঁকার ধারণা নেওয়া যায়, কিন্তু সিনেমার বিয়ের দৃশ্য কেমন হবে তা বানিয়ে বলার দরকার নেই। ফর্কির চারপাশে কাগজের হৃদয়, ফুল, রঙিন বিন্দু, ফিতা ও ছোট আলপনা আঁকা যেতে পারে। ছবিটি তখন শিশুর বানানো শুভেচ্ছা কার্ড হবে, প্রকাশিত কোনো সিনেমার দৃশ্যের অনুকরণ নয়।
বনির মেরামতের বিষয়টি আরেকটি খেলার সুযোগ দেয়। দ্বিতীয় কপিতে ফর্কির হাতে আঁকা কাগজের প্যাচ, পায়ে নতুন স্টিকার বা শরীরে রঙিন টেপ যোগ করা যায়। এরপর এক বাক্যে বলতে হবে কেন মেরামত করতে হয়েছিল। হয়তো ফর্কি বইয়ের মাঝখানে আটকে গিয়েছিল অথবা স্কুলব্যাগের ভেতর পড়ে গিয়েছিল। এগুলো কেবল শিশুর বানানো ঘটনা।
রং করার জন্য সাধারণ রং পেন্সিল, মোম রং ও স্কেচপেনই যথেষ্ট। রং পেন্সিল চোখ, স্টিকার ও হালকা ছায়ার জন্য ভালো। মোম রং হাত ও গালের অংশ দ্রুত ভরতে সাহায্য করে। স্কেচপেন মুখ ও ভ্রুর রং উজ্জ্বল করে। পাতলা কাগজে স্কেচপেন ব্যবহার করলে নিচে একটি পুরোনো খাতা বা ফাঁকা কাগজ রাখা যেতে পারে।
জলরং বা পোস্টার রং দিয়ে পেইন্ট করতে চাইলে একটু মোটা কাগজে ছবি প্রিন্ট করা ভালো। তুলিতে খুব বেশি পানি নিলে কাগজ কুঁচকে যেতে পারে। ছোট তুলি মুখ, গাল ও হাতের জন্য সুবিধাজনক। একটি রং শুকানোর পর পাশের অংশে অন্য রং দিলে নীল, লাল ও গোলাপি অনিচ্ছায় মিশে যাবে না।
ফর্কিকে রং করার একটি স্বস্তির দিকও আছে। তার চোখ আগে থেকেই সমান নয়, হাত দুটি আলাদা ভাবে বাঁকানো এবং মুখটি হাত দিয়ে তৈরি বলে মনে হয়। ফলে রেখার বাইরে সামান্য রং চলে গেলেও চরিত্রটি নষ্ট হয় না। সেই দাগটি বনির বানানো খেলনার আরেকটি ছোট চিহ্ন বলেও মনে হতে পারে।
ছবিটি শেষ হলে খুব অল্প কয়েকটি অংশই ফর্কিকে চিনিয়ে দেয়। সাদা স্পোর্ক শরীর, দুই রকম চোখ, লাল ভ্রু, নীল মুখ এবং পেঁচানো লাল হাত একসঙ্গে তার পরিচিত চেহারা তৈরি করে। শুধু একটি চোখের মণি একটু ঘুরিয়ে দিলেই মনে হবে, সে রং পেন্সিলের বাক্সে নতুন কিছু দেখে ফেলেছে এবং এখন এমন একটি প্রশ্ন করতে যাচ্ছে, যা ঘরের আর কারও মাথায় আসেনি।

