ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ লোগো

16 de জুলাই de 2026

২৬ সংখ্যার ভেতরে বিখ্যাত ট্রফিসহ ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ লোগোর ছাপানোর উপযোগী ছবি, যা শিশুরা নিজের পছন্দের রঙে সাজাতে পারবে।

স্টেডিয়ামের সব আলো নিভে গেছে, দর্শকের আসন খালি, মাঝমাঠে বলটাও একদম চুপচাপ পড়ে আছে। কিন্তু সংখ্যা ২৬ যেন মোটেও ঘুমোচ্ছে না। ভালো করে তাকালেই দেখা যায়, তার ভেতর থেকে বিশ্বকাপের বিখ্যাত ট্রফি উঁকি দিচ্ছে, যেন সে সবার আগে এসে নিজের জায়গা দখল করে বসে আছে। আরে, এমনও কি হয়? ট্রফি তো সাধারণত বিজয়ী দলের হাতে ওঠে, কিন্তু ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ লোগোতে সে নিজেই সংখ্যার ভেতর ঢুকে গেছে। এখন শুধু একটি সমস্যা। পুরো ছবিটা এখনও সাদা। ট্রফির গায়ে সোনালি ঝিলিক নেই, সংখ্যাগুলোও কোনো রঙের জার্সি পরেনি। তাই এই ম্যাচের প্রথম দায়িত্ব খেলোয়াড়দের নয়, ছোট্ট শিল্পীর।

এই রং করার পাতাটি ছাপিয়ে টেবিলে রাখলেই এক অদ্ভুত খেলা শুরু হতে পারে। রঙ পেন্সিলগুলোকে সারি করে সাজানো যায় ঠিক ফুটবল দলের মতো। লাল রঙ হতে পারে অধিনায়ক, সবুজ রঙ মাঠের দায়িত্ব নেবে, নীল রঙ আকাশ বানাবে, আর হলুদ রঙ ট্রফিতে আলো ফেলবে। কমলা আর বেগুনি রঙ বেঞ্চে বসে থাকবে না, কারণ তারা যেকোনো সময় এসে সংখ্যার ভেতর তারকা, বজ্রপাত, ফুল বা ছোট ছোট ফুটবল আঁকতে পারে। কোন রঙ আগে নামবে, কোনটি পরে আসবে, সব ঠিক করবে যে শিশু ছবিটি রাঙাচ্ছে।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ লোগোকে প্রথম দেখায় খুব সহজ মনে হলেও এর ভেতরে অনেক গল্প লুকিয়ে আছে। সংখ্যা ২ হতে পারে গ্যালারির এক দিক, যেখানে হাজার হাজার দর্শক পতাকা নেড়ে চিৎকার করছে। সংখ্যা ৬ হতে পারে খেলোয়াড়দের বের হওয়ার গোপন টানেল। ট্রফি দাঁড়িয়ে আছে ওপরে, যেন সে নিচের সবকিছু দেখছে। আবার কারও কাছে ২৬ সংখ্যাটি বিশাল এক ফুটবল দুর্গও মনে হতে পারে। যে দল সাহস করে এর ভেতর ঢুকতে পারবে, তারাই নাকি ফাইনালে খেলবে।

ছোট শিশুরা বড় বড় অংশে সহজে রং ভরতে পারবে। মোম রঙ দিয়ে দ্রুত কাজ করা যায়, আর রঙ পেন্সিল দিয়ে ধীরে ধীরে হালকা ও গাঢ় ছায়া তৈরি করা যায়। স্কেচপেন ব্যবহার করলে ফিফা ২০২৬ লোগোটা টেলিভিশনের পর্দায় দেখা উজ্জ্বল পোস্টারের মতো লাগতে পারে। যারা তুলি দিয়ে ছবি আঁকতে পছন্দ করে, তারা অল্প জল দিয়ে হলুদ ও কমলা রঙ মিশিয়ে ট্রফিটাকে ঝকঝকে করে তুলতে পারে।

বাংলাদেশের শিশুদের জন্য লাল আর সবুজ দিয়ে তৈরি একটি বিশেষ সংস্করণ খুব সুন্দর হতে পারে। সংখ্যা ২ এর এক অংশ লাল, সংখ্যা ৬ সবুজ, আর ট্রফি সোনালি। পাশে ছোট ছোট বাংলাদেশের পতাকা আঁকা যায়। কেউ চাইলে লাল বৃত্তের ভেতর ফুটবল বানাতে পারে, কেউ সবুজ মাঠের ওপরে গোলপোস্ট আঁকতে পারে। গ্যালারিতে লাল সবুজ পোশাক পরা দর্শক, হাতে পতাকা ধরা শিশু, মাথায় মজার টুপি পরা একজন কাকা, আর ঢোল বাজানো কয়েকজন সমর্থক যোগ করলে ছবিটা যেন নিজের দেশেই আয়োজিত এক ফুটবল উৎসব হয়ে ওঠে।

একটি বিকেলের কথা ভাবো। বাইরে টুপটাপ বৃষ্টি পড়ছে, মাঠে যাওয়া যাচ্ছে না, আর ঘরের ভেতর সবাই একটু বিরক্ত। তখন এই ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ লোগো ছাপিয়ে টেবিলে রাখা হলো। পাশে রঙ পেন্সিল, স্কেচপেন আর কিছু কাগজের টুকরো। প্রথমে ঠিক হলো শুধু ট্রফিতে রং করা হবে। তারপর কেউ বলল, নিচে মাঠ না থাকলে কেমন লাগে? মাঠ আঁকা হলো। তারপর গোলপোস্ট এলো, দর্শক এলো, স্কোরবোর্ড এলো। একটু পর দেখা গেল, একটুখানি রং করার কাজ থেকে পুরো বিশ্বকাপ ফাইনাল তৈরি হয়ে গেছে।

সেই ফাইনালে খেলছে পদ্মা টাইগার্স আর মেঘনা স্টর্ম। পদ্মা টাইগার্সের জার্সি সবুজ, তাতে লাল ডোরা। মেঘনা স্টর্মের জার্সি নীল, তার ওপর সাদা মেঘের নকশা। খেলার শেষ মিনিট চলছে, স্কোর সমান, আর বলটি ছোট্ট এক খেলোয়াড়ের পায়ে। সে কি সরাসরি শট নেবে, নাকি বন্ধুকে পাস দেবে? গোলকিপার কি বল ধরে ফেলবে? শিশুটি নিজেই পরের দৃশ্য আঁকতে পারে। ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ প্রতীকটি তখন শুধু একটি লোগো থাকবে না, পুরো গল্পের কেন্দ্র হয়ে উঠবে।

সংখ্যা ২ আর ৬ কে চরিত্র বানিয়েও মজা করা যায়। ২ হতে পারে খুব দ্রুত দৌড়ানো একজন ফরোয়ার্ড, যে গোল করার পর সবসময় মজার নাচ দেয়। ৬ হতে পারে গোলকিপার, কারণ তার গোল অংশটি দেখতে বড় গ্লাভসের মতো লাগে। ট্রফি হতে পারে তাদের কোচ। তার মাথায় টুপি, গলায় বাঁশি, হাতে কৌশলের বোর্ড। কিন্তু কোচ ট্রফি কখনো কখনো তীরের দিক ভুল এঁকে ফেলে, আর সব খেলোয়াড় উল্টো গোলপোস্টের দিকে দৌড়ায়। চোখ, মুখ, হাত, পা আর জুতো এঁকে দিলেই ফিফা ২০২৬ প্রতীকটি একটি হাসির কার্টুনে বদলে যাবে।

আরেকটি গল্পে ট্রফি ম্যাচের আগের রাতে হারিয়ে যেতে পারে। সবাই অবাক। ২ আর ৬ গোয়েন্দা সেজে খুঁজতে বের হলো। গোলপোস্টের পাশে পাওয়া গেল সোনালি গুঁড়ো। বেঞ্চের নিচে একটি ছোট কাগজে ফুটবলের ছবি আঁকা। স্কোরবোর্ডের পেছন থেকে শোনা যাচ্ছে হাসির শব্দ। শিশুটি লোগোর চারপাশে এসব সূত্র আঁকতে পারে। শেষে জানা গেল, ট্রফি চুরি হয়নি। সে নিজেই মাঠে নেমে একবার ফুটবল খেলতে চেয়েছিল।

বিশ্বকাপ ২০২৬ কানাডা, মেক্সিকো এবং যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, তাই ছবির চারপাশে একটি বড় ভ্রমণও আঁকা যায়। এক পাশে বরফঢাকা পাহাড় আর লম্বা গাছ, অন্য পাশে রোদ, রঙিন ফুল আর গানের আসর, আরও দূরে উঁচু ভবন আর বড় বড় আলোর পর্দা। একটি দলীয় বাস শহর থেকে শহরে যাচ্ছে। জানালায় ঝুলছে পতাকা। বাসের ছাদে বসে আছে শিশুর বানানো একটি মজার মাসকট।

মাসকটটি হতে পারে বাঘ, হরিণ, হাতি, পাখি বা কথা বলা ফুটবল। বাঘটি খুব দ্রুত দৌড়ায়, কিন্তু গোল করার পর খুশিতে গড়িয়ে পড়ে। হাতি গোলকিপার হলে প্রায় পুরো পোস্ট ঢেকে যায়। পাখি আকাশ থেকে দেখে বলে দেয় কোথায় ফাঁকা জায়গা আছে। কথা বলা ফুটবল সব নিয়ম জানে, কিন্তু সে নিজেই কখনো কখনো লুকিয়ে থাকে যেন কেউ তাকে কিক না মারে। শিশুটি তার নাম, পোশাক, স্বভাব এবং গোল উদযাপনের নাচও ঠিক করতে পারে।

প্রাণীদের নিয়ে আলাদা বিশ্বকাপ বানালে আরও অনেক মজা হবে। চিতা উইং দিয়ে দৌড়াবে, কারণ তাকে ধরা খুব কঠিন। জিরাফ সব উঁচু বল মাথা দিয়ে ফেরাবে। খরগোশ এত দ্রুত দিক বদলাবে যে ডিফেন্ডার ঘুরতে ঘুরতে মাথা ঘুরিয়ে ফেলবে। বানর গ্যালারিতে ঢোল বাজাবে, টিয়া পাখি ধারাভাষ্য দেবে, আর কচ্ছপ দেরিতে মাঠে ঢুকলেও সবচেয়ে ঠিক পাস দেবে।

এই প্রাণী বিশ্বকাপে ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ লোগোকে পশুর নকশায় সাজানো যায়। সংখ্যা ২ এ বাঘের ডোরা, সংখ্যা ৬ এ চিতার ফোঁটা, ট্রফির পাশে হাতির পায়ের ছাপ। গ্যালারিতে বসা প্রাণীদের হাতে ছোট পতাকা। মাঠের পাশে একটি বানর ক্যামেরা হাতে ছবি তুলছে। কেউ চাইলে দলের নাম দিতে পারে সুন্দরবন স্ট্রাইকার্স আর জঙ্গল চ্যাম্পিয়ন্স।

সমুদ্রের নিচে বিশ্বকাপ হলে নিয়ম আরও অদ্ভুত হবে। অক্টোপাস গোলকিপার, কারণ তার আটটি হাত। ডলফিন গোল করলে পানির ওপর লাফ দেবে। ছোট মাছেরা একসঙ্গে সাঁতরে গ্যালারির ভিড় বানাবে। হাঙর ডিফেন্ডার হবে, তবে তাকে বলে দিতে হবে যেন বল কামড়ে না ফেলে। সংখ্যা ২ প্রবাল পাথর, সংখ্যা ৬ গোপন গুহা, আর ট্রফির চারপাশে বুদবুদ ও শামুকের খোলস।

নীল, সবুজ, বেগুনি, কমলা আর লাল রঙ দিয়ে এই সমুদ্রের দৃশ্য আঁকা যায়। ট্রফি এমনভাবে রং করা যায়, যেন বহু বছর ধরে ডুবে থাকা গুপ্তধনের বাক্স থেকে পাওয়া গেছে। পাশে একটি খোলা সিন্দুক, যার ভেতরে পদক, ছোট ফুটবল আর রঙিন জার্সি। মাছেরা চারপাশে ঘুরে দেখছে কারা আজ জিতবে।

আবার পুরো দৃশ্য মহাকাশেও পাঠানো যায়। চাঁদের ওপর মাঠ, খেলোয়াড়দের পায়ে চুম্বকের জুতো, আর বল কিক খেয়ে আলো ছড়াতে ছড়াতে উড়ে যাচ্ছে। রোবট রেফারি বাঁশির বদলে পিপ পিপ শব্দ করে। খুব জোরে শট নিলে বল অন্য গ্রহে চলে যায়, তখন ছোট রকেট গিয়ে সেটি ফিরিয়ে আনে। ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ এমব্লেমে গাঢ় নীল, বেগুনি, রুপালি আর সাদা রঙ দারুণ মানাবে।

সংখ্যার ভেতর ছোট গ্রহ, ধূমকেতু, তারকা আর মহাকাশযান আঁকা যায়। ট্রফি হতে পারে চাঁদের পাথরের তৈরি। দর্শকেরা গ্যালারিতে নয়, স্বচ্ছ কাচের মহাকাশযানে বসে খেলা দেখছে। গোল হলে তারা জানালার আলো জ্বালিয়ে উদযাপন করছে। একেকটি যান দেখতে ফুটবল, বুট বা অদ্ভুত ভিনগ্রহী প্রাণীর মতো।

একাধিক কপি ছাপালে সব ধারণা আলাদা পাতায় করা যায়। প্রথম পাতায় বাংলাদেশের লাল সবুজ রং। দ্বিতীয় পাতায় প্রাণীদের বিশ্বকাপ। তৃতীয় পাতায় সমুদ্রের নিচের ম্যাচ। চতুর্থ পাতায় চাঁদের ফাইনাল। সব ছবি পাশাপাশি লাগালে ঘরের দেয়ালে ছোট একটি ফুটবল শিল্প প্রদর্শনী তৈরি হবে। একই ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ লোগো থেকে কত রকম গল্প তৈরি হতে পারে, সেটা দেখলেই বোঝা যাবে।

ভাই বোন বা বন্ধুদের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করাও দারুণ মজার। একজন ট্রফিতে রং করবে, একজন সংখ্যা সাজাবে, আরেকজন স্টেডিয়াম আঁকবে। কেউ বলল ট্রফি সোনালি হবে, আরেকজন বলল রুপালি, তখন অর্ধেক অর্ধেক করা যায়। নতুন কপি ছাপিয়ে আরেকটি ডিজাইনও বানানো যায়। কোনো ধারণাকেই মাঠের বাইরে বসিয়ে রাখতে হবে না।

ফুটবল থিমের জন্মদিনে এই রং করার পাতাটি টেবিলের সবচেয়ে ব্যস্ত জায়গা হয়ে উঠতে পারে। কয়েকটি কপি, রঙ পেন্সিল, স্কেচপেন, মোম রঙ, স্টিকার আর রঙিন কাগজ রাখা যায়। প্রত্যেক শিশু নিজের ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ লোগো তৈরি করবে এবং নিচে নিজের বানানো দলের নাম লিখবে। শেষ হলে সব ছবি দেয়ালে লাগিয়ে গ্যালারি বানানো যায়।

শুধু রং নয়, কাগজ কেটে লাগিয়েও ছবি সাজানো যায়। সোনালি কাগজের টুকরো ট্রফিতে লাগালে সেটি চকচক করবে। লাল ও সবুজ কাগজ সংখ্যা ২৬ সাজাতে কাজে লাগবে। তুলা দিয়ে মেঘ, ছোট কাগজের বল দিয়ে কনফেটি, আর চকচকে কাগজ দিয়ে স্টেডিয়ামের আলো বানানো যায়। বড় কারও সাহায্য নিয়ে কাটাকাটি করলে কাজটি নিরাপদ ও সুন্দর হবে।

রঙের তুলি ব্যবহার করলে ছবির চেহারা বদলে যায়। ট্রফির মাঝখানে হালকা হলুদ, পাশে কমলা দিলে আলো পড়ছে বলে মনে হবে। রাতের ম্যাচ বানাতে পেছনে গাঢ় নীল ব্যবহার করা যায়। রং শুকিয়ে গেলে পেন্সিল দিয়ে পতাকা, তারা, দর্শকের মুখ আর জার্সির নম্বর আঁকা যায়। একই ছবি কখনো পোস্টার, কখনো কার্টুন, কখনো গল্পের বইয়ের পাতা হয়ে উঠবে।

রং করার সময় পেন্সিল যদি লাইনের বাইরে চলে যায়, তাতেও সমস্যা নেই। লম্বা দাগটি বলের উড়ে যাওয়ার পথ হতে পারে। গোল দাগটি আরেকটি ফুটবল, বেলুন বা দর্শকের মাথা হয়ে যেতে পারে। বেশি গাঢ় অংশে ছোট তারা, পতাকা বা হাসিমুখ আঁকা যায়। অপ্রত্যাশিত দাগ থেকে অনেক সময় সবচেয়ে মজার ধারণা জন্ম নেয়।

এই কাজের মধ্য দিয়ে শিশু রং বেছে নেয়, জায়গা দেখে, হাতের নড়াচড়া নিয়ন্ত্রণ করে এবং পরের ধাপ ঠিক করে। কিন্তু তার কাছে এটি কোনো কঠিন অনুশীলন মনে হয় না, কারণ সে তখন ম্যাচ, ট্রফি আর চরিত্র নিয়ে ব্যস্ত। একদিনে শেষ করতেই হবে এমন নয়। আজ ট্রফি রং করা গেল, কাল স্টেডিয়াম আঁকা যাবে, আর পরের দিন মাসকটের গল্প যোগ হবে।

স্কুলেও এই ছবি দেশ, পতাকা ও খেলাধুলা নিয়ে মজার কাজের শুরু হতে পারে। প্রত্যেকে একটি দল বেছে নিয়ে সেই দেশের রং ব্যবহার করবে। তারপর পতাকা আঁকবে, জার্সি বানাবে বা মানচিত্রে দেশটি খুঁজবে। ক্লাস চাইলে নতুন দেশও বানাতে পারে, যাদের আলাদা নাম, পতাকা, রাজধানী আর হাস্যকর ফুটবল নিয়ম আছে।

রং করা ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ প্রতীকটি ফুটবল খাতার প্রচ্ছদ হতে পারে। ভেতরে খেলোয়াড়দের ছবি, ম্যাচের ফল, ভবিষ্যদ্বাণী, নিজের বানানো দলের তালিকা রাখা যাবে। শিশুটি গ্রুপ বানাবে, ম্যাচ ঠিক করবে এবং ফাইনালে কারা খেলবে তা নিজেই নির্ধারণ করবে। প্রচ্ছদের রঙিন লোগো দেখলেই বোঝা যাবে, ভেতরে একটি সম্পূর্ণ ফুটবল দুনিয়া অপেক্ষা করছে।

টুর্নামেন্টের বিভিন্ন সময়ের জন্য আলাদা লোগো বানানো যায়। প্রথম পাতায় অনেক দেশের রং। প্রিয় ম্যাচের পরের পাতায় বল, তারকা আর খেলোয়াড়ের নাম। ফাইনালের পাতায় ট্রফি সবচেয়ে উজ্জ্বল, আকাশে আতশবাজি, আর মাঠে রঙিন কাগজের বৃষ্টি। সব পাতা একসঙ্গে রাখলে বিশ্বকাপের একটি ব্যক্তিগত রঙিন ডায়েরি তৈরি হবে।

গোপন জিনিস খোঁজার খেলাও যোগ করা যায়। বড় কেউ সংখ্যা ২৬ এর ভেতর ছোট বল, জার্সি, তারা আর বাঁশি এঁকে দেবে। শিশু রং করতে করতে সেগুলো খুঁজবে। পরে সে নিজেই নতুন চিহ্ন লুকিয়ে পরিবারের অন্য কাউকে খুঁজতে দেবে। সংখ্যা ২ এর বাঁকে ছোট গোলকিপার, ৬ এর ভেতরে ঘুমন্ত মাসকট বা ট্রফির পেছনে লুকানো ফুটবল থাকতে পারে।

মূল লোগো শেষ হলে পুরো মাঠ আঁকার পালা। নিচে সবুজ ঘাস, সাদা লাইন আর গোলপোস্ট। পাশে দর্শকভরা গ্যালারি, ওপরে উজ্জ্বল আলো। খেলোয়াড়েরা ট্রফির দিকে দৌড়াচ্ছে, ক্যামেরাম্যান ছবি তুলছে, সবাই স্কার্ফ আর পতাকা নেড়ে আনন্দ করছে। শিশুটি বিজয়ী গোল, পেনাল্টি শুটআউট বা অধিনায়কের হাতে ট্রফি ওঠার মুহূর্ত আঁকতে পারে।

কোণায় ছোট শিল্পীর নাম, তারিখ এবং ছবির একটি মজার নাম লেখা যায়। “চাঁদের ফাইনাল”, “সুন্দরবনের চ্যাম্পিয়ন”, “লাল সবুজ ফুটবল উৎসব” বা নিজের বানানো অন্য কোনো নাম। ছবিটি ঘরের দেয়ালে, ফ্রিজে বা খেলা দেখার টেলিভিশনের পাশে লাগানো যায়। শক্ত কাগজে লাগালে এটি একটি সুন্দর ফুটবল পোস্টার হয়ে উঠবে।

ট্রফি ইতিমধ্যেই সংখ্যা ২৬ এর ভেতর জায়গা করে নিয়েছে, কিন্তু সে এখনও জানে না কোন গল্পে যাবে। সে বাংলাদেশের পতাকায় ভরা মাঠে ঝলমল করতে পারে, সমুদ্রের নিচে গুপ্তধন হতে পারে, প্রাণীদের দলের কোচ হতে পারে বা চাঁদের মাঠে ভেসে বেড়াতে পারে। ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ লোগোটি ছাপাও, রংগুলো টেবিলে সাজাও, আর প্রথম দাগটি টেনে দাও। সেই ছোট্ট দাগ থেকেই শুরু হতে পারে এমন এক ফুটবল অভিযান, যা আর কোনো ছবির সঙ্গে মিলবে না।