টয় স্টোরি

বনি

1 ভিউ 6 ঘন্টা আগে

টয় স্টোরি ৫-এর বনি (Bonnie) দুই হাতে লিলিপ্যাড (Lilypad) ধরে মনোযোগ দিয়ে স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে আছে

বনির চোখের সামনে এখন শুধু একটি জিনিসই আছে। দুই হাতে লিলিপ্যাডকে শক্ত করে ধরে সে এমনভাবে স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে আছে, যেন ঘরের বাকি সবকিছু হঠাৎ অদৃশ্য হয়ে গেছে। এই ছবিতে উডি, বাজ লাইটইয়ার বা জেসিকে দেখা যাচ্ছে না, তবু তাদের চিন্তার কারণটি স্পষ্ট। টয় স্টোরি ৫-এ খেলনাগুলো প্রথমবার এমন এক প্রতিদ্বন্দ্বীর মুখোমুখি হয়, যে একই সঙ্গে বনির সঙ্গে কথা বলতে, তাকে আনন্দ দিতে এবং অন্য শিশুদের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দিতে পারে।

লিলিপ্যাড হাতে বনি (Bonnie) রং করার এই ছবিটি প্রিন্ট করলে প্রথমেই তার চোখ ও হাতের ভঙ্গি নজরে পড়ে। মুখটি পুরোপুরি স্ক্রিনের দিকে ঘোরানো, আঙুলগুলো ট্যাবলেটের চারপাশে রাখা এবং দৃষ্টি এক মুহূর্তের জন্যও অন্যদিকে যাচ্ছে না। কোনো সংলাপ ছাড়াই বোঝা যায়, লিলিপ্যাড বনির মনোযোগ কতটা দখল করে নিয়েছে।

টয় স্টোরি ৫-এ বনির বয়স আট বছর। সে এখনও মিষ্টি স্বভাবের, কিছুটা লাজুক এবং নিজের খেলনাগুলোর প্রতি যত্নশীল। তবে তার চারপাশের শিশুদের আগ্রহ বদলে যাচ্ছে। অনেকেই পুতুল বা খেলনার চরিত্র নিয়ে গল্প বানানোর বদলে স্ক্রিনের সামনে বেশি সময় কাটায়। তাদের দেখে বনির মনেও প্রশ্ন জাগে, সে কি আগের মতো খেলাধুলা করার জন্য এখন একটু বেশি বড় হয়ে গেছে?

বনির জন্য বিষয়টি আরও কঠিন, কারণ নতুন বন্ধু তৈরি করতে তার সংকোচ হয়। সে নাচের ক্লাসের অন্য শিশুদের সঙ্গে মিশতে চায়, কিন্তু সামনে গিয়ে কথা শুরু করা সব সময় সহজ লাগে না। লিলিপ্যাড (Lilypad) তখন তাকে “দ্য পন্ড” (The Pond) নামের একটি ডিজিটাল জায়গায় সহপাঠীদের সঙ্গে চ্যাট করার পরামর্শ দেয়। মুখোমুখি কথা বলতে অস্বস্তি বোধ করা একটি শিশুর কাছে স্ক্রিনের মাধ্যমে যোগাযোগ করা তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক মনে হতে পারে।

লিলিপ্যাড কোনো সাধারণ ট্যাবলেট নয়। এর গোলাকার সবুজ শরীরটি ব্যাঙের মতো, ওপরের দিকে চোখের মতো অংশ রয়েছে এবং এটি নিজের কণ্ঠে কথা বলতে পারে। বনির জন্য কোনটি ভালো, সে বিষয়ে লিলিপ্যাডের নিজস্ব ধারণাও আছে। খেলাধুলা, কথোপকথন এবং অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ একই জায়গায় এনে দেওয়ায় এটি দ্রুত বনির নতুন প্রিয় সঙ্গী হয়ে ওঠে।

জেসি (Jessie) ও লিলিপ্যাড দেখতে এবং কাজের ধরনে একেবারেই আলাদা। তারপরও দুজনের লক্ষ্য এক জায়গায় মিলে যায়। তারা দুজনেই বনিকে সাহায্য করতে চায়। জেসি বাস্তব খেলনা, হাতে ধরে খেলা এবং নিজের কল্পনায় গল্প বানানোর জগৎকে প্রতিনিধিত্ব করে। লিলিপ্যাড দেয় বার্তা, অ্যাপ এবং তাৎক্ষণিক ডিজিটাল যোগাযোগ। দ্বন্দ্বটি শুধু পুরোনো খেলনা বনাম নতুন প্রযুক্তি নয়। আসল প্রশ্ন হলো, বনির সময় ও মনোযোগের কতটা জায়গা স্ক্রিন নিয়ে ফেলবে।

বনির সঙ্গে এই খেলনাগুলোর সম্পর্ক শুরু হয় টয় স্টোরি ৩-এর শেষ দিকে। অ্যান্ডি নিজের শৈশবের প্রিয় খেলনাগুলো তার হাতে তুলে দেয়। উডি (Woody), বাজ লাইটইয়ার (Buzz Lightyear), জেসি, রেক্স এবং স্লিঙ্কিসহ পরিচিত দলটি বনির ঘরে নতুন আশ্রয় পায়। অ্যান্ডি বুঝেছিল, বনি খেলনাগুলোকে যত্ন করে এবং তাদের নিয়ে নিজের মতো করে গল্প বানাতে পারে।

বনির খেলার ধরন অ্যান্ডির চেয়ে আলাদা। তার গল্প দ্রুত বদলায়, চরিত্রগুলো হঠাৎ নতুন ভূমিকা পায় এবং সম্পূর্ণ ভিন্ন জগতের খেলনা একই খেলায় অংশ নেয়। একটি কাউগার্ল মহাকাশ অভিযানে চলে যেতে পারে, আবার একটি ডাইনোসর মুহূর্তের মধ্যে অন্য কোনো দায়িত্ব পেয়ে যেতে পারে। বনির কল্পনার জগৎ দেখাতে পিক্সার শিশুদের আঁকা ছবি, চক, কাগজ এবং হাতে বানানো কারুকাজের মতো দৃশ্যরীতি ব্যবহার করেছে।

বনির সৃজনশীলতার সবচেয়ে পরিচিত উদাহরণ ফর্কি (Forky)। টয় স্টোরি ৪-এ স্কুলের একটি কারুশিল্পের কাজে সে সাধারণ কয়েকটি উপকরণ দিয়ে ফর্কিকে তৈরি করে। ফর্কি নিজেকে খেলনা বলে মনে না করলেও বনি তাকে আবর্জনা হিসেবে দেখে না। সে তাকে নাম দেয়, কাছে রাখে এবং স্কুলের নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়ার সময় তার ওপর ভরসা করতে শুরু করে।

ফর্কি ও লিলিপ্যাড বনির জীবনের দুই ভিন্ন দিক দেখায়। ফর্কি তৈরি হয়েছিল তার নিজের হাত ও কল্পনা থেকে। লিলিপ্যাড প্রস্তুত খেলা, উত্তর এবং কথোপকথন সরাসরি স্ক্রিনে হাজির করে। এর অর্থ এই নয় যে বনি কল্পনাশক্তি হারিয়ে ফেলেছে। বরং ছবিটি দেখায়, নতুন প্রযুক্তি কীভাবে তার মনোযোগের একটি বড় অংশ নিজের দিকে টেনে নিচ্ছে।

ছবিতে রং করার সময় বনির চোখের অংশটি বিশেষ যত্ন নিয়ে করা যায়। তার বড় বাদামি চোখ সরাসরি লিলিপ্যাডের দিকে তাকানো। চোখের বাইরের দিকে গাঢ় বাদামি এবং মাঝখানে একটু হালকা রং দিলে দৃষ্টিটি স্পষ্ট থাকবে। ছোট একটি সাদা বিন্দু না রাঙালে চোখে আলোর ঝিলিক দেখা যাবে। এই অংশে সরু করে ছোলা রঙিন পেন্সিল ব্যবহার করলে কালো রেখাগুলো ঢাকা পড়বে না।

বনির চুল ছোট ও গাঢ় বাদামি। এক পাশে ঝুঁকে থাকা সামনের চুল এবং কয়েকটি আলগা গোছা তার চেহারাকে সহজেই চেনায়। পুরো চুল এক রঙে সমানভাবে ভরাট না করে চুলের দিক অনুসরণ করে ছোট ছোট দাগ টানা যেতে পারে। মাঝারি বাদামিকে মূল রং হিসেবে নিয়ে সামনের চুলের নিচে ও আগায় আরও গাঢ় রং যোগ করলে চুলে গভীরতা আসবে।

লিলিপ্যাডের ব্যাঙের মতো গঠন বোঝাতে দুই বা তিন ধরনের সবুজ ব্যবহার করা যায়। সামনের অংশে হালকা সবুজ এবং কিনারা ও উঁচু অংশে গাঢ় সবুজ ভালো মানাবে। স্ক্রিনের জন্য হালকা নীল, ফিরোজা বা খুব হালকা সবুজ নেওয়া যেতে পারে। রং পাতলা রাখলে স্ক্রিনের ভেতরের চিহ্ন ও রেখাগুলো পরিষ্কার থাকবে।

বনির আঙুলগুলো ট্যাবলেটের একেবারে পাশে থাকায় সেখানে ধীরে রং করা ভালো। মুখ, হাত, চুল ও স্ক্রিনের ছোট অংশে রঙিন পেন্সিল সুবিধাজনক। পোশাকের বড় জায়গাগুলো মোমরং দিয়ে দ্রুত রাঙানো যায়। মার্কার ব্যবহার করলে ছবির নিচে আরেকটি কাগজ রাখা উচিত, যাতে কালি টেবিলে না লাগে।

রঙের মাধ্যমেও দৃশ্যটির মূল বিষয়টি ফুটিয়ে তোলা যায়। লিলিপ্যাডে উজ্জ্বল সবুজ এবং আলো ঝলমলে স্ক্রিন ব্যবহার করলে সবার চোখ প্রথমে সেটির দিকে যাবে। বনির পোশাকে হলুদ, গোলাপি, কমলা বা বেগুনির মতো উষ্ণ রং দিলে চরিত্রটি ডিভাইসের পাশে আলাদা হয়ে উঠবে। একই ছবি দ্বিতীয়বার প্রিন্ট করে হালকা রঙে রাঙালে দেখা যাবে, রং বদলালে দৃশ্যের গুরুত্বও কীভাবে বদলে যায়।

এই ছবিটি শিশুদের শরীরী ভাষা বুঝতেও সাহায্য করতে পারে। বনি কোনো কথা বলছে না, কিন্তু তার চোখ, মাথার অবস্থান এবং লিলিপ্যাড ধরে রাখার ভঙ্গি বলে দেয় সে স্ক্রিনে পুরোপুরি ডুবে আছে। প্রযুক্তিকে একেবারে খারাপ বলারও প্রয়োজন নেই। লিলিপ্যাড বনিকে অন্য শিশুদের সঙ্গে যোগাযোগে সাহায্য করে। সমস্যা তৈরি হয় তখন, যখন স্ক্রিনটি খেলনা, নিজের মতো করে খেলা এবং নতুন গল্প আঁকা বা বানানোর জন্য খুব কম জায়গা রেখে দেয়।

বনি এখনও সেই শিশুই, যার হাতে অ্যান্ডি নিজের প্রিয় খেলনাগুলো তুলে দিয়েছিল এবং যে স্কুলের উপকরণ দিয়ে ফর্কি বানিয়েছিল। এখন সে বড় হচ্ছে, বন্ধু খুঁজছে এবং যোগাযোগের নতুন ডিজিটাল পদ্ধতি শিখছে। এই ছবিতে লিলিপ্যাড তার দুই হাতে, আর চোখ স্ক্রিনের ওপর স্থির। টয় স্টোরি ৫-এর বড় প্রশ্নটিও এখানেই ধরা পড়ে: বদলে যাওয়া বনির জীবনে উডি, বাজ, জেসি এবং বাকি খেলনাগুলোর জন্য কতটা জায়গা থাকবে?