
স্কুলের টিফিনের ঘণ্টা বাজতেই মাঠে ছুটে গিয়ে কেউ যদি বলে, “আজ যে গোল দেবে, সে হবে ফেরান তোরেস”, তাহলে অবাক হওয়ার কিছু নেই। ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে ১০৬ মিনিটে ফেরান তোরেস (Ferran Torres) এমন এক গোল করেছিলেন, যেটি স্পেনকে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ১ গোলে জিতিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন বানায়। ম্যাচের শুরুতে তিনি মাঠে ছিলেন না, বেঞ্চে বসে সুযোগের অপেক্ষা করছিলেন। পরে বদলি হিসেবে নেমে ঠিক সেই মুহূর্তে সামনে এলেন, যখন একটি গোল পুরো পৃথিবীর ফুটবল গল্প পাল্টে দিতে পারত। বল জালে ঢুকতেই স্পেনের খেলোয়াড়েরা তাঁর দিকে দৌড় দিলেন, গ্যালারিতে পতাকা উড়ল আর অসংখ্য শিশু নতুন একজন ফাইনাল নায়ক পেয়ে গেল। ফেরান তোরেসের ২০২৬ বিশ্বকাপ স্টিকার রং করার এই ছবিতে সেই রোমাঞ্চকর মুহূর্তকে নিজের পছন্দের রং, আঁকিবুঁকি আর মজার গল্প দিয়ে আবার সাজানোর সুযোগ আছে।
ছবিটি প্রিন্ট করার পর সঙ্গে সঙ্গে লাল পেন্সিল হাতে নিতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। প্রথমে একটু তাকিয়ে দেখা যাক, ফেরানের চারপাশে কী কী নেই। গোলপোস্ট কোথায় হবে, দর্শকেরা কোন দিকে বসবে, স্কোরবোর্ডে কী লেখা থাকবে, বলটি জালের কোন কোণে গিয়ে আটকে থাকবে, এসব সিদ্ধান্ত নেবে ছোট্ট শিল্পী। কেউ হয়তো বড় করে ১০৬ লিখবে, কারণ ওই মিনিটেই গোলটি হয়েছিল। কেউ গোলের পেছনে আলো ঝলমলে স্টেডিয়াম আঁকবে। আবার কেউ ফেরানের দিকে ছুটে আসা সতীর্থদের মুখে বিশাল হাসি বসিয়ে দেবে। সাদা জায়গাগুলো ফাঁকা পড়ে থাকার জন্য নয়, সেগুলো অপেক্ষা করছে নতুন গল্পের জন্য।
বাংলাদেশের অনেক শিশু পাড়ার গলি, স্কুলের মাঠ, বাড়ির উঠান কিংবা ছাদের খোলা জায়গায় ফুটবল খেলে। দুই পাশে ইট রেখে গোল বানানো হয়, পুরোনো বল না থাকলে কাগজ মুড়ে টেপ জড়িয়ে বল তৈরি হয়, আর খেলোয়াড় কম হলে একজনই কখনো ডিফেন্ডার, কখনো স্ট্রাইকার হয়ে যায়। সেই পরিচিত খেলায় ফেরান তোরেসকে কল্পনা করা খুব সহজ। ছবির পাশে ছোট্ট একটি গলির মাঠ আঁকা যেতে পারে, যেখানে বৃষ্টির পর একটু পানি জমে আছে। গোলপোস্টের পাশে রাখা আছে স্কুলব্যাগ, আর কয়েকজন বন্ধু হাত তুলে গোলের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে। এতে বিশ্বকাপের বড় স্টেডিয়াম আর নিজের আশপাশের ফুটবল আনন্দ একই পাতায় এসে মিশে যাবে।
স্পেনের জার্সি সাধারণত লাল রঙের, তাই অনেকেই লাল এবং হলুদ দিয়ে ফেরানকে সাজাতে চাইবে। সবুজ রং দিয়ে ঘাস, নীল দিয়ে আকাশ এবং সাদা দিয়ে মাঠের দাগ ফুটিয়ে তোলা যায়। কিন্তু রং করার সময় বাস্তবের সঙ্গে মিল রাখতেই হবে, এমন কোনো নিয়ম নেই। শিশুর কল্পনার দলে ফেরান আকাশি জার্সি পরতে পারেন, তাঁর জুতায় সোনালি আগুন জ্বলতে পারে, কিংবা জামার ওপর ছোট ছোট তারা থাকতে পারে। কেউ চাইলে পুরো পোশাকে সমুদ্রের ঢেউয়ের নকশা আঁকতে পারে। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন খেলোয়াড়ের জন্য বিশেষ জার্সি বানাতে হলে কল্পনার দরজা পুরোপুরি খোলা রাখা যায়।
একজন শিশু হয়তো খুব ধীরে ধীরে ছোট জায়গাগুলো রং করবে। চুলে বাদামি, মুখে হালকা রং, তারপর জার্সির প্রতিটি ভাঁজ আলাদা করে সাজাবে। অন্য কেউ মোটা মোমরং দিয়ে কয়েক টানে পুরো পোশাক ভরে ফেলবে। আরেকজন হয়তো প্রথম দশ মিনিট ফেরানকে ছুঁবেই না, কারণ তার বেশি আগ্রহ গ্যালারিতে ডাইনোসর দর্শক আঁকায়। একই ছবি থেকে এমন ভিন্ন ভিন্ন কাজ তৈরি হওয়াই সবচেয়ে মজার ব্যাপার। রং বাইরে চলে গেলে বা কোনো অংশ একটু বাঁকা হলে ছবির আনন্দ কমে যায় না। বরং সেই ছোট ভুল থেকে নতুন কিছু জন্ম নিতে পারে।
ফেরান তোরেসের একটি দারুণ ডাকনাম আছে। তাঁকে বলা হয় এল তিবুরোন, অর্থাৎ হাঙর। এই নাম শুধু শুনতেই শক্তিশালী নয়, তাঁর খেলার ধরন এবং মানসিকতার সঙ্গেও মিলে যায়। তিনি সুযোগের খোঁজে নড়াচড়া করেন, ডিফেন্ডারের পেছনে ফাঁকা জায়গা খুঁজে নেন এবং বল আসার আগেই কোথায় যেতে হবে তা বুঝে ফেলেন। বাচ্চাদের কল্পনায় এই হাঙর ডাকনাম দিয়ে ছবিটিকে একেবারে নতুন দুনিয়ায় নিয়ে যাওয়া যায়। সাধারণ ফুটবল মাঠ বদলে যেতে পারে সমুদ্রের তলায় তৈরি একটি রঙিন স্টেডিয়ামে।
সেই পানির নিচের মাঠে সাদা দাগের বদলে থাকতে পারে ঝিনুকের সারি। কর্নার পতাকার পাশে দুলতে পারে সামুদ্রিক ঘাস। গোলরক্ষক হতে পারে আট হাতে আটটি গ্লাভস পরা একটি অক্টোপাস। তাকে গোল দেওয়া নিশ্চয় সহজ হবে না, কিন্তু হাঙর ফেরান গোপন রাস্তা খুঁজে নিতে পারেন। দর্শক সারিতে লাল হলুদ স্কার্ফ পরা মাছ বসে থাকবে। ছোট্ট একটি সামুদ্রিক ঘোড়া বাঁশি বাজাবে, আর একটি কাঁকড়া বিশ্বকাপের ট্রফি দুই দাঁড়ার মাঝে শক্ত করে ধরে রাখবে। কেউ কাছে গেলেই সে দাঁড়া নেড়ে বলবে, ম্যাচ শেষ হওয়ার আগে কাপ ছোঁয়া যাবে না।
ফেরানের পেছনে বড় বড় ঢেউ আঁকা যেতে পারে। জুতার চারপাশে ছোট বুদবুদ দিলে মনে হবে তিনি পানির ভেতর দিয়েও দৌড়াচ্ছেন। বলটি একটি বিশাল স্বচ্ছ বুদবুদের মধ্যে ভাসতে পারে। গোলের পাশে হাসিমুখের হাঙর একটি পোস্টার ধরে থাকবে, যেখানে শিশুটি নিজের হাতে লিখতে পারে, “চলো ফেরান” অথবা “গোল চাই”। হালকা নীল থেকে গাঢ় নীল রং ব্যবহার করলে সমুদ্রের গভীরতা ফুটে উঠবে। রঙিন পেন্সিল, মোমরং, স্কেচপেন বা জলরং, ঘরে যেটি আছে সেটি দিয়েই এই দৃশ্য সাজানো সম্ভব।
হাঙরের গল্পটি শুধু মজার ছবি বানানোর জন্য নয়। ফেরানের জীবনের একটি সাহসী দিকও এতে লুকিয়ে আছে। তাঁর সব ম্যাচ ভালো যায়নি। অনেক সময় গোল হয়নি, সমালোচনা শুনতে হয়েছে এবং নিজের আত্মবিশ্বাস আবার গড়ে তুলতে হয়েছে। তিনি থেমে যাননি। অনুশীলন করেছেন, সুযোগের অপেক্ষা করেছেন এবং মাঠে নামার জন্য নিজেকে প্রস্তুত রেখেছেন। বিশ্বকাপ ফাইনালে সেই অপেক্ষার ফল এসেছিল। শুরুতে বেঞ্চে বসা একজন খেলোয়াড় পরে মাঠে নেমে শিরোপা জেতানো গোল করেন। শিশুদের কাছে এটি এমন একটি গল্প, যা বলে দেয় প্রথমবার না পারলে গল্প শেষ হয়ে যায় না।
ফুটবল খেলতে গিয়ে শট গোলপোস্টের বাইরে চলে যেতে পারে। খাতায় আঁকা বাঘটি শেষে বিড়ালের মতো দেখতে হতে পারে। ব্লক দিয়ে বানানো বাড়ি শেষ ইট বসানোর আগে ধসে পড়তে পারে। এসব ঘটনায় মন খারাপ হওয়া স্বাভাবিক, কিন্তু আবার চেষ্টা করা যায়। ফেরানের বড় গোলটিও প্রতিটি শটের প্রথম শটে আসেনি। তিনি প্রস্তুত ছিলেন, তাই সুযোগটি এলে কাজে লাগাতে পেরেছেন। শিশুর আঁকা ছবিতে কোনো জায়গা ঠিকমতো না হলে সেটিকেও অন্য কিছুর রূপ দেওয়া যায়।
পেন্সিলের দাগ সীমার বাইরে চলে গেলে সেটি ফেরানের দৌড়ের গতি দেখানো রেখা হতে পারে। মাঠের ওপর পড়ে যাওয়া লাল রঙের ফোঁটা কনফেটি হয়ে যেতে পারে। আকাশের গাঢ় দাগকে স্টেডিয়ামের আলো, উড়ন্ত পতাকা বা মেঘ বানানো যায়। জার্সির রং পছন্দ না হলে তার ওপর তারা, ঢেউ, ফুটবল বা বজ্রের নকশা আঁকা সম্ভব। ছবি আঁকার আনন্দ তখনই বাড়ে, যখন শিশুটি বুঝতে পারে যে প্রতিটি দাগকে নতুন কিছুর অংশ বানানো যায়।
ফেরান মাঠের এক জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকেন না। কখনো ডান পাশ দিয়ে এগিয়ে যান, কখনো মাঝখানে চলে আসেন, আবার কখনো ডিফেন্ডারদের পেছনে হঠাৎ দেখা দেন। তাঁর এই চলাফেরাকে একটি গুপ্তধনের মানচিত্রে বদলে দেওয়া যায়। পাতার এক পাশ থেকে বিন্দু দিয়ে পথ শুরু হবে। সেই পথ দুই ডিফেন্ডারের মাঝখান দিয়ে যাবে, একটি কাদার গর্ত ঘুরে আসবে, তারপর গোলের সামনে বড় তারার কাছে শেষ হবে। তারাটির ভেতরে লেখা থাকবে ১০৬। এটাই হবে চ্যাম্পিয়নশিপ গোলের গোপন জায়গা।
পথের মধ্যে নানা শক্তির চিহ্ন রাখা যেতে পারে। লাল তারা পেলে শটের শক্তি বাড়বে, নীল তারা পেলে দৌড়ের গতি বেড়ে যাবে, সোনালি তারা পেলে গোলের গোপন দরজা খুলবে। শিশুটি চাইলে রোবট ডিফেন্ডার, বল চুরি করা কাঁকড়া বা ফুটবল খেলা ডাইনোসরও আঁকতে পারে। ফেরান সব বাধা পার হয়ে শেষ তারায় পৌঁছালে শট নেওয়ার সুযোগ পাবেন। এভাবে একটি রং করার ছবি নিজের হাতে বানানো ভিডিও গেমের মানচিত্রে পরিণত হবে।
ছবিটির পাশে কয়েকটি ছোট বাক্স এঁকে কমিক বানানোও জমবে। প্রথম বাক্সে ফেরান বেঞ্চে বসে ম্যাচ দেখছেন। দ্বিতীয়টিতে কোচ তাঁকে মাঠে নামার ইশারা করছেন। তৃতীয়টিতে তিনি বলের দিকে দৌড়াচ্ছেন। শেষ বাক্সে বল জালে এবং সতীর্থেরা তাঁকে ঘিরে ধরেছে। কথার বুদবুদে মজার সংলাপ লেখা যায়। একজন ডিফেন্ডার বলতে পারে, “আরে, ফেরান গেল কোথায়?” গোলরক্ষক ভাবতে পারে, “হাঙর আবার সামনে চলে এল!” দর্শক সারির একটি কুকুর এত জোরে ঘেউ ঘেউ করবে যে তার হাতে থাকা পপকর্ন সব উড়ে যাবে।
গোল হওয়ার পরের গল্পও শিশুরা নিজে বানাতে পারে। স্পেনের খেলোয়াড়েরা কাপ তুলছে, মাঠে লাল হলুদ কাগজ উড়ছে এবং সবাই বিজয়ের গান গাইছে। এরপর চ্যাম্পিয়ন দলের শহর ঘোরার দৃশ্য আঁকা যেতে পারে। দলের বাসটি হাঙরের মতো দেখতে হতে পারে, সামনে বড় চোখের মতো দুটি আলো এবং ওপরে একটি পাখনা থাকবে। বিশ্বকাপ ট্রফির জন্য আলাদা আসন রাখা হবে। এত দামি কাপকে সাধারণ ব্যাগের মতো মেঝেতে রাখা তো ঠিক হবে না।
রাস্তার পাশে শিশুরা পতাকা হাতে দাঁড়িয়ে থাকবে। কেউ ছাদ থেকে কাগজের ফুল ছড়াবে, কেউ ড্রাম বাজাবে, আর একটি লম্বা জিরাফ সামনে দাঁড়িয়ে সবার দৃশ্য আটকে দেবে। তাকে সরিয়ে দেওয়ার বদলে বলা যেতে পারে, সে দলের সরকারি ফটোগ্রাফার। তার লম্বা গলা দিয়ে ওপর থেকে সবচেয়ে সুন্দর ছবি তোলা যায়। এই ধরনের মজার চিন্তা ছবিকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।
ফেরান কুকুর ভালোবাসেন, তাই তাঁর ছবিতে একটি আদুরে পোষা বন্ধু যোগ করা একদম মানানসই। মাঠের পাশে ছোট্ট কুকুর বলটি দুই পায়ের মাঝে ধরে বসে থাকতে পারে। আরেকটি কুকুর গলায় স্পেনের রঙের রুমাল পরে থাকবে। কেউ বেঞ্চে ঘুমিয়ে পড়েছিল, গোলের চিৎকার শুনে হঠাৎ লাফিয়ে উঠেছে। যাদের বাড়িতে পোষা প্রাণী আছে, তারা নিজের বন্ধুটিকে আঁকতে পারে। কান কেমন, লোমের রং কী, দুষ্টুমি করলে মুখটি কেমন হয়, এসব ছোট জিনিস ছবিটিকে পরিবারের আরও কাছাকাছি নিয়ে আসবে।
যাদের পোষা প্রাণী নেই, তারা কল্পনার কুকুর গোলরক্ষক তৈরি করতে পারে। সে লেজ দিয়ে বল ঠেকায় এবং প্রতিটি সেভের পর বিস্কুট চায়। তার নিজের জার্সি, নম্বর এবং নাম থাকবে। সে হাঙর ফেরানের বন্ধু, তবে অনুশীলনে কাউকে সহজে গোল করতে দেয় না। এই নতুন চরিত্র দিয়ে আলাদা গল্পও বানানো সম্ভব।
একটি কপি প্রিন্ট করেই থেমে থাকতে হবে না। প্রথম কপিটি স্পেনের আসল রঙে সাজানো যায়। দ্বিতীয়টি হবে সমুদ্রের নিচে হাঙর সংস্করণ। তৃতীয় ছবিতে ফাইনাল হতে পারে চাঁদের মাঠে, যেখানে বল অনেক উঁচুতে লাফায় এবং দর্শকেরা মাথায় মহাকাশের হেলমেট পরে। আরেকটি কপি ভাইবোন বা বন্ধু মিলে রং করতে পারে। একজন ফেরানকে সাজাবে, একজন স্টেডিয়াম আঁকবে এবং অন্যজন সবচেয়ে মজার দর্শকদের গ্যালারিতে বসাবে।
সব ছবি পাশাপাশি রাখলে বোঝা যাবে, একই রেখা থেকে কত আলাদা গল্প তৈরি হতে পারে। কার ছবি সবচেয়ে সুন্দর, সেটি ঠিক করার প্রয়োজন নেই। বরং জিজ্ঞেস করা যায়, মাঠটি বেগুনি কেন, গোলপোস্টে পেঙ্গুইন দাঁড়িয়ে আছে কেন, ট্রফির ডানা কোথা থেকে এল। শিশুরা নিজের ভাবনা বুঝিয়ে বলতে ভালোবাসে, আর আঁকা ছবিটি সেই গল্প বলার সবচেয়ে সহজ সঙ্গী।
ফেরান তোরেসের স্টিকারকে বড় ফুটবল কার্ড হিসেবেও সাজানো যায়। ওপরে তাঁর নাম লেখা হবে, পাশে স্পেনের পতাকা আঁকা থাকবে এবং নিচে কল্পনার স্কোর বসানো যাবে। গতি ৯৮, শট ১০০, ঠিক সময়ে জায়গা খুঁজে পাওয়ার ক্ষমতা ৫০০ এবং হাঙর শক্তির কোনো সীমাই নেই। এগুলো কোনো আসল খেলার স্কোর নয়। কার্ডটির মালিক শিশু, তাই নম্বরও সে ঠিক করবে। শক্ত কাগজে লাগিয়ে দিলে এটি ঘরে তৈরি ফুটবল অ্যালবামের বিশেষ কার্ড হয়ে উঠবে।
ফুটবল থিমের জন্মদিনেও এই পাতা দারুণ কাজে লাগতে পারে। টেবিলে কয়েকটি প্রিন্ট, মোমরং, পেন্সিল এবং ধোয়া যায় এমন স্কেচপেন রাখা যায়। খেলা আর কেক খাওয়ার ফাঁকে শিশুরা নিজেদের ফেরান তোরেস সাজাবে। সব ছবি পরে একসঙ্গে দেয়ালে লাগিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের বড় গ্যালারি বানানো যাবে। এক পাতায় পানির নিচে ম্যাচ হবে, অন্য পাতায় মিষ্টির বৃষ্টি পড়বে, আরেকটিতে সব দর্শক হবে ডাইনোসর।
স্কুলেও এই ছবি খেলাধুলা, দেশ, দলগত কাজ এবং সৃজনশীলতার সঙ্গে মিলিয়ে ব্যবহার করা যায়। ছোটরা ফেরানের নাম লিখতে পারে এবং স্পেনের পতাকা রং করতে পারে। বড়রা শিরোপা জেতানো গোল নিয়ে ছোট খবর লিখতে পারে, ক্রীড়া পত্রিকার প্রথম পাতা বানাতে পারে বা স্পেনের নতুন জার্সি ডিজাইন করতে পারে। পুরো শ্রেণি আলাদা আলাদা খেলোয়াড় রং করলে দেয়ালে বিশাল বিশ্বকাপ স্টিকার অ্যালবাম তৈরি হবে।
কাজ শেষ হলে ছবিটি ড্রয়ারে লুকিয়ে রাখার দরকার নেই। ফ্রিজে লাগানো যায়, পড়ার টেবিলের সামনে রাখা যায়, স্কুলের বোর্ডে টাঙানো যায় অথবা ফুটবলের বিশেষ ফাইলে সংরক্ষণ করা যায়। শক্ত কার্ডে লাগিয়ে ফুটবল ভালোবাসে এমন বন্ধুকে উপহার দেওয়া সম্ভব। পেছনে লেখা যেতে পারে, “আমাদের বাড়ির চ্যাম্পিয়নের জন্য” অথবা “চেষ্টা চালিয়ে যাও, তোমার সুযোগও আসবে।”
ফেরান তোরেস (Ferran Torres) ২০২৬ বিশ্বকাপে স্পেনকে শিরোপা এনে দেওয়া গোলটি করে ফেলেছেন, কিন্তু এই পাতার উৎসব এখনো শুরু হয়নি। জার্সি কী রঙের হবে, মাঠ কোথায় থাকবে, গ্যালারিতে কারা বসবে এবং গোলের পর কীভাবে আনন্দ হবে, সবকিছু ঠিক করবে শিশুটি। হাঙর, কুকুর, রোবট, ডাইনোসর এবং কল্পনার নায়করা একই ম্যাচে হাজির হতে পারে। ফেরান তোরেসের ২০২৬ বিশ্বকাপ স্টিকারটি প্রিন্ট করুন, রং করার, আঁকার এবং সাজানোর উপকরণ সামনে রাখুন, তারপর ১০৬ মিনিটের সেই গোলকে শিশুদের তৈরি একেবারে নতুন ফুটবল দুনিয়ায় আবার ঘটতে দিন।

