বাজ লাইটইয়ার

27 de জুলাই de 2026

হেলমেট, ডানা ও পরিচিত মহাকাশ পোশাকসহ বাজ লাইটইয়ারের প্রিন্টযোগ্য রং করার ছবি।

রঙের বাক্স খুলতেই দেখা গেল সবচেয়ে দরকারি সবুজ পেন্সিলটি নেই। লাল আছে, নীল আছে, বেগুনিও ঠিক জায়গায়, কিন্তু বাজ লাইটইয়ারের স্পেস স্যুটের জন্য যে উজ্জ্বল সবুজ চাই, সেটাই যেন গোপন মিশনে বেরিয়ে পড়েছে। এই হারিয়ে যাওয়া রং খুঁজতে খুঁজতেই শুরু হতে পারে আজকের খেলা। টয় স্টোরি ৫-এর বাজ লাইটইয়ারকে নিয়ে তৈরি এই রং করার ছবিটি প্রিন্ট করে শিশুরা পরিচিত সাদা, সবুজ ও বেগুনি পোশাক ফিরিয়ে দিতে পারে, আবার চাইলে একেবারে নতুন কোনো স্পেস রেঞ্জারও বানাতে পারে।

ছবিটিতে বড় জায়গা আর ছোট খুঁটিনাটি সুন্দরভাবে মিশে আছে। বুকের বর্ম, হাত, পা ও জুতার অংশ তুলনামূলক বড়, তাই ছোট শিশুরা মোমরং দিয়ে সহজেই এগুলো রাঙাতে পারবে। বুকের বোতাম, নামের ব্যাজ, স্টার কমান্ডের চিহ্ন এবং ডানার সরু দাগগুলো একটু বেশি মনোযোগ চায়। ফলে একই ছবি বয়স ও দক্ষতা অনুযায়ী ভিন্নভাবে ব্যবহার করা যায়। কেউ দ্রুত রং করতে পারবে, কেউ একটি ছোট অংশ শেষ করতেই অনেক যত্ন নেবে।

বাজের পোশাকের মূল অংশ সাদা হওয়ায় পুরো কাগজ ঘন রং দিয়ে ভরতে হবে না। সাদা জায়গাগুলো অক্ষত রাখলেই তার পরিচিত স্পেস স্যুটের চেহারা ফুটে ওঠে। তবে কাগজের সাদা অংশকে আরও প্রাণবন্ত দেখাতে ধারের কাছে হালকা আকাশি বা ধূসর ছায়া দেওয়া যায়। হাতের এক পাশ, বুকের বর্মের নিচে কিংবা জুতার গোড়ায় খুব নরম করে পেন্সিল চালালে পোশাকটি গোল ও শক্ত প্লাস্টিকের মতো দেখাবে।

কোন অংশ আগে রং করতে হবে, তার কোনো বাঁধা নিয়ম নেই। এক শিশু সবুজ পেন্সিল হাতে নিয়ে ছবির সব সবুজ জায়গা খুঁজে বের করতে পারে। আরেকজন সরাসরি লাল বোতামে চলে যেতে পারে। কেউ আবার ডানার নকশা শেষ না করা পর্যন্ত অন্য কোথাও হাত দেবে না। নিজের পছন্দমতো এগোনোর সুযোগ থাকলে রং করার কাজটি কোনো নির্দিষ্ট নির্দেশনা মানার চাপ হয়ে দাঁড়ায় না।

বাজ লাইটইয়ারের সবচেয়ে পরিচিত রংগুলোর মধ্যে রয়েছে লাইম সবুজ ও বেগুনি। সবুজ অংশ দেখা যায় বুক, বাহু, পা এবং পোশাকের বিভিন্ন প্যানেলে। মাথার চারপাশের হুড, কোমর ও পায়ের কিছু জায়গায় বেগুনি রং থাকে। শরীরের নড়াচড়া করা সংযোগগুলো কালো বা গাঢ় ধূসর করলে সাদা অংশের সঙ্গে সুন্দর পার্থক্য তৈরি হয়। এভাবে প্রতিটি বাহু, পা ও বর্মের অংশ আলাদা করে বোঝা যায়।

রং করার আগে ছোট্ট একটি খোঁজার খেলা করা যেতে পারে। শিশুকে প্রথমে ছবির সব গোল ও ডিম্বাকৃতি অংশ খুঁজতে বলা যায়। এরপর সবুজ প্যানেল, বেগুনি জায়গা এবং ডানার দুই পাশে একই রকম নকশা খোঁজা যেতে পারে। প্রতিটি অংশ খুঁজে পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেখানে রং দেওয়া হলে ছবিটি ধীরে ধীরে একটি ধাঁধার মতো সম্পূর্ণ হতে থাকে।

বুকের প্যানেলটি যেন একটি ছোট্ট মহাকাশযানের নিয়ন্ত্রণকক্ষ। এক পাশে সারি করে থাকা তিনটি ডিম্বাকৃতি বোতামের পরিচিত রং নীল, সবুজ ও লাল। অন্য পাশে রয়েছে বড় একটি গোল লাল বোতাম, স্টার কমান্ডের প্রতীক এবং “LIGHTYEAR” লেখা নামের ফলক। সরু জায়গাগুলো পরিষ্কারভাবে রং করতে ভালো করে কাটা রংপেন্সিল ব্যবহার করা যায়। স্কেচপেন নিলে নিচে একটি পুরোনো কাগজ রেখে দেওয়া ভালো, যাতে কালি টেবিলে না লাগে।

প্রতিটি বোতামের কাজ শিশুরাই ঠিক করতে পারে। নীল বোতাম চাপলে হয়তো ঘরের গোপন মানচিত্র খুলে যাবে। সবুজ বোতামে ডানা বের হবে। বড় লাল বোতামটি উডি ও জেসিকে জরুরি বার্তা পাঠাবে। অন্য কোনো গল্পে একটি বোতাম খাটের নিচে হারানো খেলনা খুঁজে দেবে, আরেকটি রাতে আলো জ্বালাবে এবং তৃতীয়টি ঘরের সব খেলনাকে সভায় ডাকবে। এসব কাজ শিশুর কল্পনার অংশ, চলচ্চিত্রের আসল দৃশ্য হিসেবে ধরার প্রয়োজন নেই।

ডান হাতের লাল আলো ছড়ানোর যন্ত্রটি সাদা পোশাকের ওপর সহজেই চোখে পড়ে। উজ্জ্বল লাল রং দিয়ে অংশটি ভরার পর চারদিকে কয়েকটি ছোট রেখা আঁকা যেতে পারে। তখন মনে হবে আলোটি এইমাত্র জ্বলে উঠেছে। শিশুরা সেই আলোকে ছবির অন্য কোনো জায়গা পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারে। হয়তো বাজ কোনো সংকেত পরীক্ষা করছে, অন্ধকার কোণে কিছু খুঁজছে অথবা বন্ধুকে সঠিক পথ দেখাচ্ছে।

স্বচ্ছ হেলমেট রং করার সময় অন্য কৌশল কাজে লাগে। পুরো অংশ গাঢ় রং দিয়ে ভরে ফেললে স্বচ্ছ প্লাস্টিকের অনুভূতি হারিয়ে যাবে। বেশির ভাগ জায়গা সাদা রেখে দুই পাশে খুব হালকা আকাশি বাঁকা রেখা আঁকা যায়। ওপরের দিকে ধূসর বা রুপালি একটি ছোট বাঁক জানালা কিংবা বাতির প্রতিফলন দেখাতে পারে। এতে বাজের মুখ পরিষ্কার থাকবে এবং হেলমেটটি চকচকে গোলাকার দেখাবে।

এই অংশটি শিশুদের একটি মজার বিষয় বোঝাতে পারে। কাগজে সাদা পড়ে থাকা জায়গা সব সময় অসম্পূর্ণ কাজ নয়। সেটি আলো, চকচকে পৃষ্ঠ কিংবা স্বচ্ছ কিছু বোঝাতেও পারে। একই আকাশি পেন্সিল কখনো খুব হালকা, কখনো একটু জোরে চালালে কী ধরনের পরিবর্তন হয়, তা এখানে পরীক্ষা করা যায়।

বাজের পিঠের ভাঁজ করা ডানাগুলো ছবি পর্যবেক্ষণের আরেকটি সুযোগ দেয়। ডানার মূল অংশ সাদা, আর প্রান্তে লাল ডোরা ও সবুজ নকশা থাকে। প্রথমে বাম পাশের একটি দাগ রং করে ডান পাশে একই আকৃতি খোঁজা যায়। যারা দুই পাশ সমান রাখতে ভালোবাসে, তারা একবার বামে ও একবার ডানে রং করে এগোতে পারে।

দুই ডানাকে হুবহু একই রকম করতেই হবে এমন নয়। এক ডানায় ছোট তারা, দলের নম্বর কিংবা মেরামতের চিহ্ন আঁকা যেতে পারে। হয়তো বালিশের গ্রহে নামার সময় বাজের ডানাটি একটু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, পরে অন্য খেলনারা নীল রঙের নতুন অংশ লাগিয়ে দিয়েছে। এই গল্প চলচ্চিত্রের কোনো নিশ্চিত ঘটনা নয়, বরং শিশুর আঁকা ছবির নিজস্ব অভিযান।

ছোটদের জন্য মোমরং বেশ সুবিধাজনক। বুক, হাত ও পায়ের বড় জায়গা অল্প সময়েই ভরানো যায়। রংপেন্সিল বোতাম, ব্যাজ ও সরু দাগে বেশি নিয়ন্ত্রণ দেয়। স্কেচপেনের সবুজ ও বেগুনি খুব উজ্জ্বল দেখাবে। জলরং বা পোস্টার কালার দিয়ে আঁকতে চাইলে ছবিটি একটু মোটা কাগজে প্রিন্ট করা ভালো। কম পানি ব্যবহার করলে কাগজ বেশি কুঁচকে যাবে না।

একই ছবি দুইবার প্রিন্ট করে দুটি ভিন্ন বাজ বানানো যায়। প্রথমটিতে সাদা, লাইম সবুজ, বেগুনি, লাল ও নীলের পরিচিত সাজ রাখা যেতে পারে। দ্বিতীয়টিতে নেভি ব্লু ও রুপালি, কমলা ও সবুজ কিংবা ছোট ছোট তারার নকশা দিয়ে নতুন পোশাক তৈরি করা যায়। রং পাল্টে গেলেও গোল হেলমেট, পিঠের ডানা, বুকের প্যানেল ও দৃঢ় ভঙ্গির কারণে চরিত্রটিকে চিনতে অসুবিধা হবে না।

ছবির পেছনের ফাঁকা অংশ একটি শিশুর ঘর, মহাকাশ স্টেশন কিংবা দূরের কোনো গ্রহে বদলে যেতে পারে। জুতার বাক্সকে মহাকাশযান হিসেবে আঁকা যায়। বইয়ের স্তূপ হয়ে উঠতে পারে পাহাড়। বিল্ডিং ব্লক দিয়ে তৈরি হতে পারে স্টার কমান্ডের নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র। ঘরের পরিচিত জিনিসকে নতুন কাজে ব্যবহার করাই টয় স্টোরি-র খেলাধুলার জগতের সঙ্গে দারুণভাবে মানিয়ে যায়।

মহাকাশের দৃশ্য আঁকতে কঠিন কোনো ছবি জানার প্রয়োজন নেই। একটি বড় বৃত্ত গ্রহ হতে পারে, চারপাশে একটি রেখা দিলে সেটি বলয়যুক্ত গ্রহ হয়ে যাবে। ছোট ছোট বিন্দু তারা তৈরি করবে। ডানার পেছনে অর্ধচন্দ্র আঁকা যেতে পারে। গাঢ় নীল পেন্সিল দিয়ে পটভূমি হালকাভাবে রাঙিয়ে বাজের চারপাশে কিছু সাদা জায়গা রাখলে মনে হবে তার ওপর মহাকাশযানের আলো পড়েছে।

উডি, জেসি বা বুলসআইকেও পাশে আঁকা যায়। চরিত্রগুলোকে সিনেমার পোস্টারের মতো নিখুঁত করে আঁকার দরকার নেই। একটি কাউবয় টুপি উডিকে বোঝাতে পারে, লম্বা বেণি জেসিকে চিনিয়ে দেবে, আর কয়েকটি সহজ রেখায় ঘোড়ার মুখ আঁকলেই বুলসআই গল্পে ঢুকে পড়বে। ছোট এসব সংযোজন দেখাবে বাজ একা নয়, তার বন্ধুরাও অভিযানে যোগ দিয়েছে।

প্রথম টয় স্টোরি চলচ্চিত্রে বাজ নিজের সম্পর্কে নিশ্চিত ছিল যে সে সত্যিকারের স্পেস রেঞ্জার। শিশুর ঘরকে সে সাধারণ ঘর মনে করত না। তার কাছে সেটি ছিল অজানা এলাকা, যেখানে বড় কোনো দায়িত্ব পালন করতে হবে। পিঠের ডানা, হাতের আলো এবং বুকের বোতামকে সে সত্যিকারের মহাকাশ সরঞ্জাম হিসেবেই ভাবত।

পরে বাজ বুঝতে পারে সে একটি খেলনা। এই উপলব্ধি তার সাহস কিংবা বন্ধুদের সাহায্য করার ইচ্ছা কেড়ে নেয়নি। সে পরিকল্পনা করতে, বিপদের সময় এগিয়ে যেতে এবং দলকে একসঙ্গে রাখতে পছন্দ করে। খুব সাধারণ কাজকেও সে মহাকাশ অভিযানের মতো গুরুত্ব দিয়ে ব্যাখ্যা করে, যা অনেক সময় বেশ হাসির পরিস্থিতি তৈরি করে।

উডির সঙ্গে তার বন্ধুত্বও একদিনে তৈরি হয়নি। নতুন ও আধুনিক দেখতে খেলনাটি এসে নিজের জায়গা নিয়ে নেবে বলে প্রথমে উডি চিন্তিত ছিল। বাজ তখনও বুঝত না কাউবয়টি কেন এত অস্থির। একসঙ্গে নানা বিপদ সামলানোর পর তারা পরস্পরকে বিশ্বাস করতে শেখে। উডি খেলনাদের অনুভূতি ও একটি শিশুর সঙ্গে তাদের সম্পর্ক ভালো বোঝে। বাজ দল গঠন, দায়িত্ব ভাগ এবং দ্রুত পরিকল্পনা তৈরিতে দক্ষ।

টয় স্টোরি ৫-এ খেলনাগুলো এমন একটি পরিবর্তনের মুখোমুখি হয়, যা আজকের অনেক পরিবারের কাছে পরিচিত। বনি লিলিপ্যাড নামের একটি নতুন ট্যাবলেটের প্রতি খুব আকৃষ্ট হয়। লিলিপ্যাড মনে করে শিশুর জন্য কী ভালো, সে তা জানে। তাকে শুধু কোনো সাধারণ দুষ্ট যন্ত্র হিসেবে দেখানো হয়নি। জটিলতা তৈরি হয় যখন উডি, বাজ, জেসি ও অন্য খেলনাদের মনে হয় বনির খেলার সময় তাদের জায়গা ক্রমে কমে যাচ্ছে।

এই বিষয়টি রং করার সময় খুব সহজভাবে আলোচনা করা যায়। পর্দায় ছবি নিজেরাই নড়ে, শব্দ হয় এবং পরের দৃশ্য চলে আসে। প্রিন্ট করা কাগজ নিজে কিছু করে না। শিশুকেই ঠিক করতে হয় কোন রং কোথায় যাবে, পেছনে কী আঁকা হবে এবং বাজ এখন কী করছে। কাজের মাঝখানে বিরতি নিয়ে পরে আবার শুরু করা যায়। ভুল রেখা মুছে বদলে ফেলা যায়। পাতাটি শিশুর সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকে।

লিলিপ্যাডকে ছবির বাইরে রাখতেই হবে এমন নয়। তাকে পটভূমিতে আঁকা যেতে পারে। স্ক্রিনে একটি মানচিত্র, সময় গোনার ঘড়ি বা জেসির বার্তা দেখা যেতে পারে। এই বানানো গল্পে ট্যাবলেট তথ্য দেবে এবং বাজ স্ক্রিনের বাইরে গিয়ে কাজটি শেষ করবে। প্রযুক্তি ও হাতে ধরা খেলনাকে সব সময় একে অপরের শত্রু বানানোর প্রয়োজন নেই। তাদের ভূমিকা আলাদা হতে পারে।

টয় স্টোরি ৫-এর সবচেয়ে চমকপ্রদ ঘটনাগুলোর একটি হলো পঞ্চাশটি নতুন Hi-Tech Edition বাজ লাইটইয়ার খেলনার আগমন। তারা স্পেস রেঞ্জার মোডে আটকে থাকে এবং মনে করে সবাইকে একসঙ্গে স্টার কমান্ডে ফিরতে হবে। একজন বাজই যখন আত্মবিশ্বাসী গলায় নির্দেশ দিতে শুরু করে, তখন পুরো ঘরের নজর তার দিকে যায়। একইভাবে ভাবা পঞ্চাশজন বাজ হাজির হলে উডি, জেসি ও অন্যদের সামনে কত বড় ঝামেলা তৈরি হবে, তা সহজেই অনুমান করা যায়।

এই পঞ্চাশ বাজের ধারণা একটি দারুণ দলীয় কাজে বদলে যেতে পারে। একই রং করার ছবি কয়েকবার প্রিন্ট করে প্রতিটি শিশুকে একটি করে দেওয়া যায়। একজন পরিচিত রং ব্যবহার করবে। আরেকজন রুপালি জুতা বানাবে। কেউ ডানার প্রান্ত নীল করবে, কেউ কাঁধে নম্বর লিখবে। এগুলো চলচ্চিত্রের নিশ্চিত নকশা নয়, শিশুদের নিজেদের বানানো স্পেস রেঞ্জার দলের পোশাক।

সব ছবি পাশাপাশি রাখলে রঙিন একটি বড় দল তৈরি হবে। প্রতিটি বাজকে আলাদা দায়িত্ব দেওয়া যায়। কেউ রংপেন্সিলের বাক্স পাহারা দেবে, কেউ হারানো রাবার খুঁজবে, কেউ বইয়ের তাক দেখবে এবং আরেকজন ছড়িয়ে থাকা ব্লক সংগ্রহ করবে। রং করার পাশাপাশি এতে কথা বলা, লেখা ও গল্প তৈরির সুযোগও আসে।

স্কুলের আর্ট ক্লাসে একই রেখা দিয়ে শুরু করা ছবিগুলো শেষ পর্যন্ত একেবারে আলাদা দেখাবে। একজন পরিচিত রং মেনে চলবে, একজন পোশাকে নতুন নকশা যোগ করবে, আরেকজন পেছনে পুরো মহাকাশ এঁকে ফেলবে। কোনটি সবচেয়ে সুন্দর, তা ঠিক করার দরকার নেই। বরং একই ছবি থেকে কত রকম ধারণা আসতে পারে, সেটিই দেখার বিষয়।

বাড়িতে দুই কপি দিয়েও তুলনার খেলা করা যায়। একজন বাজের পরিচিত পোশাক রং করবে। অন্যজন নিজের পছন্দের নতুন সংস্করণ বানাবে, কিন্তু কাজ শেষ হওয়ার আগে কাউকে দেখাবে না। পরে দুটি পাতা পাশাপাশি রেখে দেখা যাবে বোতামের রং মিলেছে কি না, ডানা সমান হয়েছে কি না এবং হেলমেট এখনও স্বচ্ছ দেখাচ্ছে কি না। এটি প্রতিযোগিতা নয়, একই ছবির ভেতরে লুকিয়ে থাকা ভিন্ন সিদ্ধান্ত খুঁজে দেখার খেলা।

ছবির নিচে মিশনের নাম লেখার জায়গা রাখা যেতে পারে। “খাটের নিচে সংকেত”, “পঞ্চাশ স্পেস রেঞ্জার”, “স্টার কমান্ডের ডাক” কিংবা “বালিশ গ্রহে অভিযান” গল্পের শুরু হতে পারে। শিশুরা দলের নম্বর, গন্তব্য ও খুঁজে বের করতে হবে এমন বস্তু লিখতে পারে। যারা এখনও লিখতে শেখেনি, তারা চিহ্ন ব্যবহার করবে। তারা মানে মহাকাশ, আতশকাচ মানে খোঁজা এবং লাল গোল দাগ মানে পৌঁছানোর জায়গা।

স্পেস রেঞ্জার পরিচয়পত্র বানালেও খেলা আরও কিছুক্ষণ চলবে। সেখানে নাম, দলের নম্বর, গ্রহের নাম এবং বিশেষ দক্ষতা লেখা যায়। দক্ষতাগুলো মজার ও পরিচিত হতে পারে। একটি বাজ খাটের নিচে হারানো মোজা খুঁজতে পারে, আরেকটি ঘুমের আগে খেলনা গুছিয়ে রাখতে পারে, আরেকজন সোফার কুশন দিয়ে বানানো মহাকাশযান চালাতে পারে।

প্রথম চলচ্চিত্র তৈরির সময় চরিত্রটির নাম শুরু থেকেই Buzz Lightyear ছিল না। প্রাথমিক পরিকল্পনায় “Lunar Larry” ও “Tempus from Morph” নামগুলো ব্যবহৃত হয়েছিল। পরে মহাকাশচারী বাজ অলড্রিনের সম্মানে Buzz নামটি বেছে নেওয়া হয়। Lightyear শব্দটি চরিত্রটির মহাকাশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও স্পষ্ট করে তোলে।

সবুজ ও বেগুনি রঙের পুনরাবৃত্তিও তার পোশাককে একসঙ্গে জুড়ে রাখে। বুকের সবুজ অংশ আবার হাতে ও পায়ে ফিরে আসে। মাথার চারপাশের বেগুনি রং কোমর ও পায়ের অন্য অংশে দেখা যায়। শিশুরা নিজেদের নতুন নকশাতেও একই কৌশল ব্যবহার করতে পারে। একটি প্রধান রং কয়েক জায়গায় ফিরিয়ে আনলে পুরো পোশাকটি পরিকল্পিত মনে হবে।

টয় স্টোরি ৫-এর মূল ইংরেজি সংস্করণে বাজ লাইটইয়ারের কণ্ঠে আবারও টিম অ্যালেন রয়েছেন। ছবিটি পরিচালনা করেছেন অ্যান্ড্রু স্ট্যানটন এবং সহপরিচালনায় রয়েছেন কেনা হ্যারিস। নতুন গল্পে উডি, বাজ, জেসি ও তাদের সঙ্গীরা এমন এক খেলাধুলার জগতে ফিরে আসে, যেখানে খেলনা ও প্রযুক্তিকে বনির মনোযোগে নিজেদের জায়গা খুঁজতে হয়।

রং করা শেষ হলে বড় কারও সাহায্যে বাজকে কেটে গাঢ় নীল বা কালো চার্ট পেপারে লাগানো যায়। সাদা ও হলুদ বিন্দু আঁকলেই তারাভরা আকাশ তৈরি হবে। পেছনে ভাঁজ করা কাগজ লাগালে চরিত্রটি টেবিলের ওপর দাঁড়াতে পারবে। কয়েকটি কপি তৈরি হলে বই, বাক্স ও বিল্ডিং ব্লকের মধ্যে পুরো স্পেস রেঞ্জার দল নিয়ে খেলা যাবে।

এই ছবিটি ঘরে বা স্কুলে বানানো ছোট্ট টয় স্টোরি বইয়ের প্রথম পাতাও হতে পারে। পরের পাতায় উডি, জেসি, লিলিপ্যাড কিংবা নতুন মিশনের জায়গা আঁকা যাবে। শিশু প্রতিটি পাতায় একটি বাক্য লিখতে পারে অথবা বড় কাউকে গল্প বলে লিখিয়ে নিতে পারে। পাতাগুলো ফিতা, স্ট্যাপলার বা ফাইলে সাজিয়ে রাখা যায়।

বাজ ছবির ভেতর দাঁড়িয়ে আছে, কিন্তু তার পরের কাজ এখনও ঠিক হয়নি। পঞ্চাশটি Hi-Tech Edition বাজের একজন হয়তো পর্দার পেছনে হারিয়ে গেছে। উডি ও জেসি হয়তো বনির ঘরে খেলনাদের জন্য আবার জায়গা তৈরিতে সাহায্য চাইছে। সম্ভবত সোফাটি অজানা গ্রহে বদলে গেছে এবং কুশনের ফাঁক থেকে রহস্যময় সংকেত আসছে। প্রথম পেন্সিলের রং, পেছনে আঁকা দৃশ্য এবং শিশুর দেওয়া মিশনের নামই ঠিক করবে বাজ এবার কোথায় যাবে।

Este conteúdo foi útil?
0