
আরে, উডির মাথার চুল কি সত্যিই কমে যাচ্ছে?
এই ছবিটার দিকে একটু ভালো করে তাকালেই প্রশ্নটা মাথায় আসে। উডি (Woody)-র কপাল বেশ বড় দেখাচ্ছে, চুলের রেখা অনেকটা ওপরে উঠে গেছে, আর মাথার দুই পাশে দেখা যাচ্ছে মাত্র কয়েকটি ছোট চুলের গোছা। টয় স্টোরি ৫-এর পরিচিত কাউবয় কি তবে ধীরে ধীরে টাক হয়ে যাচ্ছে? নাকি আমরা এবারই প্রথম তার মাথার ওপরের অংশটা এত পরিষ্কারভাবে দেখতে পাচ্ছি? ছবিতে এমন মনে হলেও সিনেমায় উডির চুল পড়ে যাওয়ার কোনো আনুষ্ঠানিক গল্প নেই। এই মজার ধারণাটি এসেছে শুধু আঁকাটির একটি বিশেষ দিক দেখে, আর সেটিই রং করার আগে শিশুদের জন্য ছোট্ট এক পর্যবেক্ষণের খেলা হয়ে উঠতে পারে।
রংপেন্সিল হাতে নেওয়ার আগেই শিশুকে কয়েক সেকেন্ড উডির মুখের দিকে তাকাতে বলা যায়। তার চুল কোথা থেকে শুরু হয়েছে? ডান আর বাঁ পাশে কি সমান চুল আছে? কপালটা কি সত্যিই বড়, নাকি আঁকার রেখার কারণে এমন মনে হচ্ছে? একই ছবি দেখে একেক শিশু একেক কথা বলবে। কেউ হয়তো সঙ্গে সঙ্গে বলবে, “উডি টাক হয়ে যাচ্ছে!” আবার কেউ বলবে, “না, তার চুল সব সময়ই এমন ছিল, আমরা আগে খেয়াল করিনি।”
উডির এই রং করার ছবিটি বাড়িতে, স্কুলে, কিন্ডারগার্টেনে কিংবা টয় স্টোরি নিয়ে কোনো আনন্দঘন আয়োজনে প্রিন্ট করা যেতে পারে। সাধারণত শিশুরা বড় জায়গা দিয়ে রং করা শুরু করে, কিন্তু এবার চাইলে প্রথম কাজ হতে পারে উডির চুল ঠিক করা। ছবিতে থাকা রেখা ধরে বাদামি রং করা যায়, নতুন কয়েকটি চুল আঁকা যায়, কপালের ওপর ঝুঁকে থাকা চুল যোগ করা যায় কিংবা তাকে প্রায় পুরো টাক করে দেওয়া যায়।
একই ছবি দুই কপি প্রিন্ট করলে খেলাটি আরও জমে উঠবে। প্রথম পাতায় উডির চুল ছবির মতোই রাখা যেতে পারে। দ্বিতীয় পাতায় তাকে দেওয়া যেতে পারে ঘন কোঁকড়ানো চুল, লম্বা জুলপি, বড় একটি ঝুঁটি কিংবা মাথার ওপর দাঁড়িয়ে থাকা একটিমাত্র চুল। দুটি ছবি পাশাপাশি রাখলে বোঝা যাবে, শুধু চুলের ধরন বদলে দিলে পরিচিত একটি মুখ কতটা অন্যরকম দেখাতে পারে।
চুলের পুরো জায়গা এক রঙের গাঢ় বাদামি দিয়ে ভরাট করতে হবে এমন নয়। প্রথমে হালকা বাদামি ব্যবহার করা যায়। তারপর গাঢ় বাদামি রংপেন্সিল দিয়ে কয়েকটি ছোট বাঁকানো রেখা টানা যায়। প্রতিটি চুল আলাদা করে আঁকার দরকার নেই। চার-পাঁচটি সঠিক দিকের রেখাই চুলকে ঘন ও জীবন্ত দেখাতে পারে।
যে শিশু উডিকে একটু বেশি টাক দেখাতে চায়, সে মাথার ওপরের কিছু অংশ খালি রাখতে পারে। চুলের রেখাটি আরও ওপরে এঁকে কপালের জায়গা ত্বকের রং দিয়ে বাড়িয়ে দেওয়া যায়। আর যে শিশু উডিকে ঘন চুল দিতে চায়, সে ছোট ছোট রেখা যোগ করে পুরো মাথা ভরিয়ে ফেলতে পারে।
চুল নিয়ে মজা করার আরও অনেক উপায় আছে। উডির মাথায় মেঘের মতো কোঁকড়ানো চুল হতে পারে, খুব ছোট ছাঁট হতে পারে, লম্বা জুলপি হতে পারে কিংবা কপালের ওপর বিশাল একটি ঝুঁটি থাকতে পারে। কয়েকটি ধূসর চুলও যোগ করা যায়, যেন বাজ লাইটইয়ার (Buzz Lightyear)-এর সঙ্গে এত অভিযান করতে করতে উডির চুলে পাক ধরেছে।
এসব নতুন চুলের ধরন শুধু ছবি আঁকা ও রং করার খেলার অংশ। এগুলো দেখে এমন ভাবার কারণ নেই যে টয় স্টোরি ৫-এ উডির নতুন কোনো আনুষ্ঠানিক চেহারা এসেছে। শিশুরা ছবির একটি মজার বৈশিষ্ট্যকে ব্যবহার করে নিজেদের কল্পনা প্রকাশ করবে, এটাই মূল উদ্দেশ্য।
মাথার ওপরের অংশটি পরিষ্কার দেখা যাওয়ায় অন্য কিছু বৈশিষ্ট্যও সহজে চোখে পড়ে। উডির কানের গঠন, ভ্রুর বাঁক, কপালের গোলভাব আর কানের পাশ দিয়ে চুলের দিক ভালোভাবে দেখা যায়। মা-বাবা কিংবা শিক্ষক জিজ্ঞেস করতে পারেন, শিশুটি প্রথমে কোন বিষয়টি লক্ষ্য করেছে। উত্তর সব সময় চুল নাও হতে পারে। কেউ হয়তো তার হাসি, নাক কিংবা চোখের ভাবের কথা বলবে।
উডি ডিজনি ও পিক্সারের টয় স্টোরি জগতের সবচেয়ে পরিচিত চরিত্রগুলোর একটি। সে দড়ি টানলে কথা বলা একটি কাউবয় খেলনা, যে একসময় অ্যান্ডির খুব প্রিয় ছিল। বন্ধুদের নিরাপদ রাখা এবং সব খেলনাকে একসঙ্গে রাখার চেষ্টা করা তার স্বভাবের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
কোনো খেলনা হারিয়ে গেলে, বিপদে পড়লে কিংবা ভুল করে একা থেকে গেলে উডি সাধারণত সাহায্যের পরিকল্পনা করে। তার পরিকল্পনা সব সময় নিখুঁত না হলেও বন্ধুদের জন্য কিছু করার ইচ্ছা তার মধ্যে থাকে। এই দায়িত্বশীল স্বভাবই তাকে দলের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য বানিয়েছে।
বাজ লাইটইয়ারের সঙ্গে উডির বন্ধুত্ব শুরু থেকেই সহজ ছিল না। বাজ নতুন খেলনা হিসেবে আসার পর অ্যান্ডির মনোযোগ তার দিকে চলে গেলে উডির ভেতরে হিংসা তৈরি হয়। তাদের মধ্যে ঝগড়া, ভুল বোঝাবুঝি এবং নানা সমস্যাও হয়েছিল। পরে একসঙ্গে কঠিন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে যেতে তারা একে অন্যকে বিশ্বাস করতে শেখে।
টয় স্টোরি ৫-এ একটি অপ্রত্যাশিত খবর উডিকে আবার বনি (Bonnie)-র ঘরের দিকে নিয়ে আসে। সে বাজের সঙ্গে মিলে জেসি (Jessie) ও বুলসআই (Bullseye)-কে খুঁজতে বের হয়, যারা অন্য খেলনাদের কাছ থেকে আলাদা হয়ে গেছে। পুরোনো বন্ধুরা আবার কাছাকাছি এলেও বনির ঘরের পরিবেশ আগের মতো নেই।
বনির বয়স এখন ৮ বছর এবং তার মনোযোগ ধীরে ধীরে লিলিপ্যাড (Lilypad)-এর দিকে চলে যাচ্ছে। লিলিপ্যাড হলো ব্যাঙের আকৃতির একটি স্মার্ট ট্যাবলেট। তার সবুজ শরীর, বড় গোল চোখ এবং মাঝখানে একটি স্ক্রিন আছে। কাপড়, সেলাই, জোড়া লাগানো হাত-পা কিংবা ছোট খেলনা সরঞ্জাম দিয়ে তৈরি চরিত্রগুলোর থেকে সে একেবারেই আলাদা।
উডি আর লিলিপ্যাডের এই পার্থক্য ছবির পেছনের দৃশ্য আঁকার জন্য চমৎকার একটি ধারণা হতে পারে। পাতার এক পাশে রাখা যায় বিল্ডিং ব্লক, পুতুল, খেলনা গাড়ি, পাজল আর নরম খেলনা। অন্য পাশে আঁকা যায় সবুজ ব্যাঙের মতো লিলিপ্যাড, তার বড় চোখ এবং মাঝখানের স্ক্রিন।
পেছনের দৃশ্যটি সিনেমার কোনো নির্দিষ্ট অংশের অনুকরণ হতে হবে না। শিশু নিজের ঘর, স্কুলের খেলার জায়গা কিংবা পুরোপুরি কল্পিত একটি খেলনার ঘর আঁকতে পারে। সেখানে কার্ডবোর্ডের বাক্স দিয়ে দুর্গ, ব্লক দিয়ে তৈরি উঁচু বাড়ি কিংবা খেলনায় ভরা একটি তাক থাকতে পারে।
লিলিপ্যাডকে উডির চুলের গল্পের সঙ্গেও যুক্ত করা যায়। হয়তো সে উডির নতুন চুলের ছবি তুলছে। বাজ হিসাব করছে, স্পেস রেঞ্জারদেরও টাক পড়ে কি না। জেসি হাতে ছোট্ট একটি চিরুনি ধরে আছে, আর উডি অবাক হয়ে ভাবছে সবাই তার কপালের দিকে তাকিয়ে আছে কেন।
এই দৃশ্যগুলো টয় স্টোরি ৫-এর সত্যিকারের ঘটনা নয়। এগুলো শুধু রং করার ছবিকে আরও মজার করে তোলার জন্য তৈরি কল্পনার খেলা। পরিচিত চরিত্র ব্যবহার করে শিশুরা নিজেদের গল্প তৈরি করতে পারে, তবে সেই গল্পকে সিনেমার আনুষ্ঠানিক কাহিনি ভাবার দরকার নেই।
উডির মুখের পাশে কথা বলার একটি বেলুন আঁকা যেতে পারে। সেখানে লেখা যায়, “কেউ কি আমার চিরুনি দেখেছ?” কিংবা “বাজ, আমার কপালের দিকে তাকানো বন্ধ করো!” আরও মিষ্টি একটি কথা হতে পারে, “শেরিফ সব ধরনের চুলেই দারুণ দেখায়।”
শিশু নিজের মতো সংলাপও লিখতে পারে। একটি ছবিতে উডি তার চুল নিয়ে চিন্তিত হতে পারে। আরেকটিতে নতুন ঝুঁটি নিয়ে খুব গর্বিত হতে পারে। অন্য কোনো ছবিতে সে হয়তো চুল নিয়ে একেবারেই ভাবছে না, কারণ বন্ধুদের সাহায্য করতে তাকে দ্রুত বের হতে হবে।
চুলের কাজ শেষ হলে উডির চেক শার্টে রং করা একেবারে অন্য ধরনের অভিজ্ঞতা দেবে। হলুদ শার্টের ওপর আড়াআড়ি ও লম্বালম্বি রেখা মিলিয়ে ছোট ছোট ঘর তৈরি হয়েছে। ছোট শিশুরা পুরো শার্ট হলুদ রং করে ফেলতে পারে, এমনকি কিছু রেখা ঢেকে গেলেও সমস্যা নেই। পরে চাইলে কয়েকটি রেখা আবার আঁকা যায়।
যেসব শিশু ছোটখাটো বিষয় নিয়ে কাজ করতে ভালোবাসে, তারা প্রতিটি চেক দেখা যায় এমনভাবে রং করার চেষ্টা করতে পারে। বোতাম, কাঁধ ও হাতার কাছে সূচালো রংপেন্সিল কাজে আসবে। একটি রেখা ধরে এগিয়ে গিয়ে সেটি আরেকটি রেখার সঙ্গে কোথায় মিশেছে, সেটি খুঁজে বের করাও ছোট্ট একটি ধাঁধার মতো হতে পারে।
প্রায় ৬ বছর বয়সী শিশুদের জন্য বড় জায়গাগুলো বেশি আরামদায়ক। শার্ট, প্যান্ট, ভেস্ট আর বুট মোমরং দিয়ে বড় টানে রাঙানো যায়। রং সামান্য রেখার বাইরে চলে গেলে কিংবা কিছু নকশা ঢেকে গেলে ছবিটি নষ্ট হয় না। এই বয়সে নিজের পছন্দের রং বেছে নেওয়া, হাতের নিয়ন্ত্রণ শেখা এবং আনন্দ পাওয়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
৯ বা ১০ বছর বয়সী শিশুরা একই ছবিতে আরও সূক্ষ্মভাবে কাজ করতে পারে। চুলে দুই ধরনের বাদামি রং ব্যবহার করা যায়, শার্টের চেক ঠিক রাখা যায়, শেরিফের তারকার সূচালো অংশের চারপাশে সাবধানে রং করা যায় এবং বেল্ট, বাকল ও হোলস্টারকে আলাদা রং দেওয়া যায়।
উডির চুলের রেখাটি ছায়া দেওয়ার একটি সহজ অনুশীলনও হতে পারে। কয়েকটি গাঢ় রেখা যোগ করলে চুল বেশি ঘন মনে হবে। হালকা বাদামি ব্যবহার করে কপালের বড় অংশ খালি রাখলে উডিকে আরও টাক দেখাবে। একই রেখার ছবি শুধু রং বদলে কতটা আলাদা দেখাতে পারে, শিশুরা তা সহজেই বুঝতে পারবে।
গরুর চামড়ার মতো ছোপওয়ালা ভেস্টটি শার্টের সোজা রেখার তুলনায় অনেক বেশি স্বাধীনভাবে রং করা যায়। ছোপগুলো একই আকারের হওয়া দরকার নেই। একটি গোল, আরেকটি লম্বা, আরেকটি মেঘ কিংবা ছোট পুকুরের মতো হতে পারে।
কালো ও সাদা রং ব্যবহার করলে ভেস্টটি উডির পরিচিত পোশাকের মতো দেখাবে। দ্বিতীয় একটি প্রিন্টে ছোপগুলো বেগুনি, সবুজ, নীল কিংবা কমলা করা যেতে পারে। হয়তো হারিয়ে যাওয়া খেলনা খুঁজতে যাওয়ার জন্য উডি বিশেষ একটি মিশন ভেস্ট পরেছে।
গলার লাল রুমাল মুখের কাছে উজ্জ্বল রং যোগ করবে। প্যান্টে হালকা ও গাঢ় নীল ব্যবহার করলে সেটি জিনসের মতো লাগবে। বেল্ট, হোলস্টার এবং কাউবয় বুটে বিভিন্ন বাদামি রং মানাবে। শেরিফ তারকা ও বাকল হলুদ, সোনালি কিংবা রুপালি হতে পারে।
পরিচিত রংগুলো উডিকে সহজে চিনতে সাহায্য করে, তবে সব সময় একই রং মানতে হবে না। সবুজ চেকের বেগুনি শার্ট, নীল রুমাল এবং গোলাপি শেরিফ তারকাও মজার একটি নতুন পোশাক তৈরি করতে পারে।
নতুন পোশাক তৈরি হলে শিশুকে জিজ্ঞেস করা যায়, উডি কোন কাজে এই পোশাক পরেছে। সে হারিয়ে যাওয়া খেলনা খুঁজতে যাচ্ছে, বাজকে স্টার কমান্ডে ফিরতে সাহায্য করছে কিংবা বনির ঘরে একটি খেলনার অনুষ্ঠান আয়োজন করছে। বেল্টের ওপর মিশনের একটি ছোট চিহ্নও আঁকা যেতে পারে।
উডির চুল নিয়ে শ্রেণিকক্ষে ভোটের আয়োজন করা যায়। সবাই ছবি রং করা শেষ করলে শিক্ষক জিজ্ঞেস করতে পারেন, “উডি কি সত্যিই টাক হয়ে যাচ্ছে, নাকি তার কপালটা এবার বেশি পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে?” প্রতিটি শিশু নিজের উত্তর বেছে নিয়ে ছবির এমন একটি অংশ দেখাতে পারে, যেটি তার সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে।
উত্তরগুলো রং করার ধরনের ওপরও বদলে যাবে। অনেক গাঢ় চুল আঁকা ছবিতে উডির চুল ঘন মনে হবে। চুলের রেখা ওপরে তুলে বড় কপাল রাখা ছবিতে তাকে বেশি টাক লাগবে। কোনো একটি উত্তরকে সঠিক ভাবতে হবে না। লক্ষ্য হলো মন দিয়ে দেখা এবং নিজের মতামত বোঝানো।
অন্য একটি কাগজে উডির তিনটি ছোট মাথা আঁকা যায়। প্রথমটিতে ছবির মূল চুল রাখা হবে। দ্বিতীয়টিতে থাকবে খুব ঘন চুল। তৃতীয়টিতে উডিকে প্রায় পুরো টাক দেখানো হবে।
তিনটি মুখ পাশাপাশি রাখলে শিশুরা দেখবে, চোখ, নাক ও মুখ একই থাকার পরও শুধু চুল বদলে চরিত্রটি কত ভিন্ন লাগে। শিশুদের চরিত্রের নকশা বোঝানোর এটি সহজ ও আনন্দদায়ক একটি উপায়।
আরেকটি খেলার নাম হতে পারে “উডির নতুন হেয়ারস্টাইল।” প্রতিটি শিশু একেকটি চুলের ধরন তৈরি করবে এবং কেন উডি সেটি বেছে নিয়েছে তা বলবে। কোঁকড়ানো চুল বনির ঘরের পার্টির জন্য হতে পারে। খুব ছোট চুল উদ্ধার অভিযানের জন্য সুবিধাজনক হতে পারে। বিশাল ঝুঁটি হয়তো লিলিপ্যাডের দেওয়া নতুন ফ্যাশনের পরামর্শ।
টাক নিয়ে মজাটি সব সময় বন্ধুত্বপূর্ণ ও সম্মানজনক রাখতে হবে। যাদের মাথায় চুল কম, তাদের নিয়ে হাসাহাসি করা এই কার্যক্রমের উদ্দেশ্য নয়। শিশুরা শুধু ছবির একটি আলাদা বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করে সেটিকে রং, আঁকা ও গল্প তৈরির উপাদান হিসেবে ব্যবহার করছে। উডির ঘন চুল থাকুক, কয়েকটি চুল থাকুক কিংবা একেবারেই চুল না থাকুক, সে একই সাহসী ও বিশ্বস্ত কাউবয় থাকবে।
টয় স্টোরি ৫-এর আরেকটি ঘটনা পেছনের দৃশ্যকে আরও ব্যস্ত ও মজার করতে পারে। বাজ লাইটইয়ারের পঞ্চাশটি Hi-Tech Edition খেলনা হঠাৎ একটি সৈকতে এসে হাজির হয়। তারা স্পেস রেঞ্জার মোডে আটকে থাকে এবং স্টার কমান্ডে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করে।
এই বাজ চরিত্রগুলো খেলনা মোডে আটকে নেই। বরং উল্টো ব্যাপার ঘটে। তারা নিজেদের সত্যিকারের স্পেস রেঞ্জার মনে করে এবং এখনো পুরোপুরি বুঝতে পারে না যে তারা আসলে খেলনা। সেই কারণেই তারা নিজেদের মিশনকে খুব গুরুত্ব দিয়ে নেয়, আর পরিস্থিতিটি হাস্যকর হয়ে ওঠে।
শিশুদের পঞ্চাশটি বাজ আঁকতে হবে না। দুই বা তিনটি ছোট বাজই যথেষ্ট। একটি আকাশের দিকে তাকাতে পারে, অন্যটি ভুল দিকে ইশারা করতে পারে, আর তৃতীয়টি অবাক হয়ে উডির চুলের রেখা পরীক্ষা করতে পারে।
প্রতিটি বাজকে আলাদা ভঙ্গি ও মুখের ভাব দেওয়া যায়। তাদের বোতামেও ভিন্ন রং ব্যবহার করা যায়। এরপর শিশুকে জিজ্ঞেস করা যেতে পারে, কোন বাজ লিলিপ্যাডের দিকে তাকিয়ে আছে, কে পথ দেখাচ্ছে আর কে উডির কপাল দেখে অবাক হয়েছে।
লিলিপ্যাডকে পাতার অন্য কোণে রাখা যায়। তার স্ক্রিনে মানচিত্র, গানের চিহ্ন, বনির জন্য বার্তা কিংবা ব্যাঙের ছবি আঁকা যেতে পারে। বড় চোখ ও সবুজ ব্যাঙের আকৃতি বজায় রাখলে তাকে সাধারণ আয়তাকার ট্যাবলেট মনে হবে না।
উডি ও লিলিপ্যাডের দেখা হওয়া নিয়ে বিভিন্নভাবে খেলার আলোচনা করা যায়। সাধারণ খেলনা ভালো আর স্ক্রিন খারাপ, এমন সিদ্ধান্ত দেওয়ার দরকার নেই। তার চেয়ে মজার প্রশ্ন হতে পারে, “উডি লিলিপ্যাডকে কী শেখাতে পারে, আর লিলিপ্যাড উডিকে কী শেখাতে পারে?”
উডি তাকে কার্ডবোর্ডের বাক্স, ব্লক এবং ছোট খেলনা দিয়ে একটি শহর বানানো শেখাতে পারে। লিলিপ্যাড কোনো শোভাযাত্রার জন্য গান খুঁজে দিতে পারে, মরুভূমির ছবি দেখাতে পারে কিংবা অভিযানের জন্য দরকারি মানচিত্র খুলে দিতে পারে।
এই উত্তরগুলো মূল ছবির চারপাশে এঁকে দেওয়া যায়। উডি হয়তো বাক্স দিয়ে কাউবয় শহর বানাচ্ছে। লিলিপ্যাডের স্ক্রিনে সূর্যাস্ত দেখা যাচ্ছে। বাজ সেটিকে মানচিত্র হিসেবে ব্যবহার করছে, আর জেসি বনির জন্য নতুন একটি খেলার আয়োজন করছে।
উডির ডান বুটের নিচে “ANDY” লেখা থাকা আরেকটি পরিচিত বিষয়। ছবিতে বুটের তলা দেখা গেলে শিশুরা প্রথমে অক্ষরগুলো খুঁজে নিতে পারে এবং তারপর চারপাশে সাবধানে রং করতে পারে।
বুটের তলা দেখা না গেলে পাতার খালি কোণে আলাদা একটি কাউবয় বুট আঁকা যায়। “ANDY” লিখলে উডির পুরোনো মালিকের সঙ্গে সম্পর্কটি বজায় থাকবে। শিশুর নিজের নাম লিখলে এমন একটি গল্প তৈরি হবে, যেখানে উডি নতুন একটি ঘরে এসে পৌঁছেছে।
এই ছবি রং করার জন্য বিশেষ কোনো জিনিস দরকার নেই। সাধারণ A4 কাগজ, রংপেন্সিল ও মোমরং যথেষ্ট। লাল রুমাল, শেরিফ তারকা কিংবা কয়েকটি গাঢ় চুল আরও স্পষ্ট করার জন্য স্কেচপেন ব্যবহার করা যায়। কালি যেন টেবিলে না লাগে, সে জন্য নিচে আরেকটি কাগজ রাখা ভালো।
শার্টের ছোট চেক, তারকার সূচালো অংশ, চুলের রেখা এবং বুটের অক্ষরের জন্য ভালোভাবে ছোলা রংপেন্সিল কাজে দেবে। বড় জায়গায় মোটা মোমরং ব্যবহার করা সহজ। জায়গার আকার অনুযায়ী রং করার জিনিস বদলালে কাজটি একঘেয়ে মনে হবে না।
ছবিটি প্রায় শেষ হলে শিশুরা আবার উডির মাথার দিকে তাকাতে পারে। তাকে কি এখনো টাক মনে হচ্ছে? গাঢ় বাদামি ছায়া কি চুলকে বেশি ঘন করেছে? তার মাথায় কি এখন ঝুঁটি, কোঁকড়ানো চুল কিংবা এমন কোনো নতুন ধরন এসেছে, যা শুরুতে কেউ ভাবেনি?
চুলের এই ছোট্ট রহস্যটিই উডির রং করার ছবিকে অন্যরকম করে তোলে। চেক শার্ট, গরুর ছোপওয়ালা ভেস্ট আর শেরিফ তারকা পরিচিত। কিন্তু স্পষ্ট চুলের রেখা শিশুকে একটু থেমে দেখতে, ভাবতে এবং নিজের কল্পনা থেকে নতুন কিছু আঁকতে উৎসাহিত করে।
এক শিশু ছবির চুল যেমন আছে তেমনই রাখবে। অন্য একজন বিশাল একটি ঝুঁটি আঁকবে। আরেকজন ঠিক করবে, প্রায় টাক শেরিফও যেকোনো অভিযানের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। এখন শুধু তিনটি সিদ্ধান্ত বাকি: উডির চূড়ান্ত চুলের ধরন কী হবে, বুটে কার নাম লেখা হবে এবং কথা বলার বেলুনে সে কোন মজার কথাটি বলবে?

