
পুরোনো খেলনার ঘরে এত দিন নীরব হয়ে পড়ে থাকা যন্ত্রটি হঠাৎ জেগে উঠল। স্ক্রিনে সবুজ চোখ জ্বলে উঠতেই বোঝা গেল, স্মার্টি প্যান্টস (Smarty Pants) শুধু চালু হয়নি, সঙ্গে ফিরেছে তার সবজান্তা ভাব আর মজার সব মন্তব্যও। টয় স্টোরি ৫-এর এই অদ্ভুত খেলনাটির ছবি প্রিন্ট করে শিশুরা তার পিক্সেল মুখ, রঙিন বোতাম আর পুরোনো ইলেকট্রনিক শরীর নিজের মতো করে রং করতে পারবে।
স্মার্টি প্যান্টসকে দেখলে প্রথমেই নজর যায় তার মাথার দিকে। সাধারণ খেলনার মতো আলাদা কোনো মুখ নেই। টয়লেট পেপারের রোলের ওপর বড় বড় পিক্সেল দিয়ে তৈরি হয়েছে চোখ, ভ্রু আর মুখ। কয়েকটি ছোট বর্গের অবস্থান বদলালেই তার চেহারা পাল্টে যায়। কখনো তাকে অবাক মনে হয়, কখনো সন্দেহ করছে বলে মনে হয়, আবার কখনো এমনভাবে হাসে যেন সবার আগে উত্তরটা সে-ই জানত।
রোলের নিচে রয়েছে গোলাকার কোণওয়ালা একটি পুরোনো ধাঁচের ইলেকট্রনিক বডি। সামনের অংশে ছোট আয়তাকার ডিসপ্লে এবং তিনটি কন্ট্রোল দেখা যায়। বাম পাশের হলুদ বা অ্যাম্বার রঙের বোতামে লেখা “1”, মাঝখানে রয়েছে উজ্জ্বল নীল কন্ট্রোল, আর ডান পাশের লাল বোতামে লেখা “2”। রোলটি ধরে রাখা পাশের অংশটি সোনালি হলুদ রঙের।
ছবিটিকে সিনেমার কাছাকাছি রঙে সাজাতে চাইলে পেপার রোলটি সাদা বা হালকা আইভরি রাখা যায়। মূল বডির জন্য হালকা ক্রিম, চোখের জন্য সবুজ এবং সামনের প্যানেলের জন্য হলুদ, নীল ও লাল ব্যবহার করা যায়। নরম রঙের শরীরের সঙ্গে উজ্জ্বল বোতামগুলো সুন্দরভাবে ফুটে ওঠে।
রঙের এই মিল মেনে চলতেই হবে এমন নয়। আরেকটি কপি প্রিন্ট করে বডি আকাশি, চোখ বেগুনি আর ডিসপ্লে কমলা করে দেখা যেতে পারে। কেউ চাইলে বোতামগুলোর ওপর ছোট বিন্দু, দাগ বা নিজস্ব নকশাও আঁকতে পারে। রোলের মুখ, পিক্সেল চোখ আর নম্বর লেখা বোতাম থাকলে নতুন রঙেও স্মার্টি প্যান্টসকে চিনতে অসুবিধা হবে না।
ছবিটির বড় অংশগুলো মোমরং বা রঙ পেন্সিল দিয়ে সহজে ভরাট করা যায়। পিক্সেল, নম্বর আর ডিসপ্লের সরু জায়গাগুলো রং করার জন্য ভালোভাবে ছোলা পেন্সিল বা চিকন মাথার স্কেচ পেন সুবিধাজনক। স্কেচ পেন ব্যবহার করলে ছবির নিচে আরেকটি কাগজ রাখা ভালো, যাতে কালি টেবিলে লেগে না যায়।
সামনের ছোট স্ক্রিনটি আলাদা করে সাজানোর সুযোগ দেয়। একটি সরকারি ছবিতে সেখানে “SMARTY PANTS” লেখা দেখা যায়। অন্য দৃশ্যে স্ক্রিনে চিহ্ন ও সাধারণ ডিজিটাল গ্রাফিকস দেখা যায়। শিশু নিজের নামের প্রথম অক্ষর, ব্যাটারির চিহ্ন বা কয়েকটি বর্গ দিয়ে বানানো নতুন কোনো প্রতীক আঁকতে পারে।
স্মার্টি প্যান্টস আগে ব্লেজের খেলনা ছিল। ব্লেজকে টয়লেট ব্যবহারের অভ্যাস শিখতে সাহায্য করার জন্য এই প্রযুক্তিনির্ভর খেলনাটি তৈরি করা হয়েছিল। ব্লেজ বড় হয়ে সেই সময় পার করার পর যন্ত্রটি আর ব্যবহার করা হয়নি। বহু বছর ধরে সেটি পুরোনো খেলনা রাখার জায়গায় স্লিপ মোডে পড়ে ছিল।
তার শরীরের আঁচড়, দাগ এবং পুরোনো হয়ে যাওয়া অংশগুলো সেই দীর্ঘ সময়ের কথা মনে করিয়ে দেয়। এসব জায়গায় হালকা ধূসর, বাদামি বা গাঢ় ক্রিম ব্যবহার করা যায়। আবার কেউ যদি তাকে একেবারে পরিষ্কার ও নতুন করে সাজাতে চায়, তাহলে দাগের জায়গায় তারা, স্টিকার বা ছোট রঙিন নকশা আঁকতে পারে।
নতুন ব্যাটারি পাওয়ার পর স্মার্টি প্যান্টস আবার সক্রিয় হয় এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজে যোগ দেয়। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পরও তার কথা বলার ভঙ্গি বদলায়নি। তাকে এমন এক চরিত্র হিসেবে দেখানো হয়েছে, যে খুব আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে কথা বলে, তাড়াতাড়ি জবাব দেয় এবং নিজেকে বেশ বুদ্ধিমান মনে করে। ইংরেজি “smarty-pants” কথাটিও মজা করে এমন কাউকে বোঝাতে ব্যবহার করা হয়, যে সব সময় নিজেকে অন্যদের চেয়ে বেশি জানে বলে দেখায়।
জেসি ও বুলসআই ব্লেজের জায়গায় স্মার্টি প্যান্টসকে খুঁজে পায় এবং তাকে আবার কাজে ফেরানোর ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থাকে। ছবির পেছনে কাঠের দরজা, পুরোনো বাক্স, খেলনার তাক বা কয়েকটি ব্যাটারি আঁকলে সেই পরিবেশ তৈরি করা যায়। বড় একটি দৃশ্য বানাতে চাইলে জেসি বা বুলসআইকেও পাশে যোগ করা যেতে পারে।
স্মার্টি প্যান্টসকে অ্যাটলাস ও স্ন্যাপির সঙ্গেও দেখা যায়। এরা ব্লেজের সঙ্গে যুক্ত আরও দুটি প্রযুক্তিনির্ভর খেলনা। একই ছবিতে তাদের আঁকলে ভিন্ন ধরনের স্ক্রিন, বোতাম ও ইলেকট্রনিক অংশ তুলনা করা যাবে। সরকারি তথ্যে তাদের সম্পর্কের সব বিস্তারিত বলা হয়নি, তাই কেবল একই দৃশ্যে থাকা খেলনা হিসেবেই দেখানো ঠিক হবে।
ইংরেজি মূল সংস্করণে স্মার্টি প্যান্টসের কণ্ঠ দিয়েছেন কোনান ও’ব্রায়েন। পরিচালক অ্যান্ড্রু স্ট্যান্টন তাঁর পডকাস্ট শোনার পর দ্রুত, ব্যঙ্গাত্মক কথাবলার ধরনটিকে চরিত্রটির সঙ্গে মিলিয়ে দেখেন। কোনান কাজটিতে যোগ দেওয়ার আগে স্ট্যান্টন নিজেই অস্থায়ী কণ্ঠ রেকর্ড করেছিলেন, যাতে অ্যানিমেশন দল চরিত্রটির দৃশ্য ও অভিব্যক্তি তৈরি করতে পারে।
চরিত্রটির প্রথম নকশা বর্তমান রূপের মতো ছিল না। শুরুতে তাকে সত্যিকারের একজোড়া প্যান্টের মতো দেখানোর পরিকল্পনাও হয়েছিল। ইংরেজি নামের সঙ্গে সেই ধারণা মানালেও বড় পর্দায় নানা ভঙ্গি ও অভিব্যক্তি দেখানোর জন্য আকারটি যথেষ্ট সুবিধাজনক ছিল না।
পরে নাওমি নামের এক ইন্টার্ন টয়লেট পেপারের রোলকে ইলেকট্রনিক বেসের সঙ্গে যুক্ত করে একটি স্কেচ তৈরি করেন। পিক্সারের শিল্পীরা সেই ধারণা নিয়ে কাজ করে ধীরে ধীরে সিনেমায় দেখা চূড়ান্ত নকশাটি তৈরি করেন। তাই স্মার্টি প্যান্টসের মজার চেহারার পেছনে একাধিক পরীক্ষা ও নকশা বদলের ইতিহাস রয়েছে।
তার ডিজিটাল মুখটিও আধুনিক ফোন বা ট্যাবলেটের মতো নয়। শিল্পীরা ১৯৮০, ১৯৯০ এবং ২০০০ সালের শুরুর দিকের ইলেকট্রনিক স্ক্রিন নিয়ে গবেষণা করেছিলেন। সে কারণেই তার পিক্সেল বড় এবং মুখের পরিবর্তন নতুন স্ক্রিনের তুলনায় কিছুটা ধীর। পুরোনো প্রযুক্তির এই চেহারা তাকে টয় স্টোরি ৫-এর নতুন গ্যাজেটগুলোর ভিড়েও আলাদা করে তোলে।
এই পিক্সেল মুখ দিয়ে ছোট একটি আঁকার খেলাও করা যায়। খাতার বর্গাকার ঘর ব্যবহার করে আগে চোখ, ভ্রু ও মুখের নকশা বানানো যেতে পারে। ওপরে ওঠানো ভ্রু তাকে অবাক দেখাবে, সরু চোখ সন্দেহ প্রকাশ করবে, আর কয়েকটি চওড়া বর্গ দিয়ে আত্মবিশ্বাসী হাসি আঁকা যাবে। পছন্দের মুখটি পরে প্রিন্ট করা ছবির রোলের ওপর কপি করা যায়।
“1” ও “2” লেখা বোতাম এবং মাঝের নীল কন্ট্রোলের নির্দিষ্ট কাজ সরকারি তথ্যসূত্রে বলা হয়নি। খেলতে খেলতে শিশুরা নিজের মতো কাজ ঠিক করতে পারে, তবে সেগুলো সিনেমার নিশ্চিত তথ্য নয়। একটি বোতাম মুখ বদলাতে পারে, অন্যটি স্ক্রিনে নতুন চিহ্ন দেখাতে পারে, আর নীল কন্ট্রোল পিক্সেলের রং নির্বাচন করতে পারে।
স্মার্টি প্যান্টসের এই রং করার ছবিতে সহজ বড় জায়গার সঙ্গে রয়েছে মনোযোগ দিয়ে রং করার মতো ছোট প্রযুক্তিগত অংশ। প্রিন্ট করার পর শিশুরা বডিতে রং দিতে, স্ক্রিনে নতুন চিহ্ন আঁকতে এবং পিক্সেল দিয়ে ভিন্ন ভিন্ন মুখ তৈরি করতে পারবে। বহু বছর নীরব থাকার পর নতুন ব্যাটারিতে জেগে ওঠা এই খেলনাটি প্রতিটি কপিতে একেবারে নতুন একটি অভিব্যক্তি পেতে পারে।

মাত্র ৫ বছর বয়সে, রং করার ছবি প্রিন্ট করার একটি সাধারণ অনুরোধকে গুস্তাভো এমন একটি ভাবনায় রূপ দিয়েছিল, যা আজ ১৫০টিরও বেশি দেশের শিশুদের আনন্দ ও অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে।
এভাবেই জন্ম নেয় Imprimivel.com। বাবা জ্যঁ বার্নার্দোর সঙ্গে মিলে তৈরি এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য হলো ১০টি ভিন্ন ভাষায় রং, কল্পনা ও আনন্দ ছড়িয়ে দেওয়া এবং বিশ্বের ৮০ কোটিরও বেশি শিশুর কাছে পৌঁছানোর সম্ভাবনা তৈরি করা।
বর্তমানে গুস্তাভো কনটেন্ট বাছাই ও সাজানোর কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অন্য শিশুদের মুখে হাসি ফোটাবে এমন বিষয় ও চরিত্র সে দারুণ উৎসাহ নিয়ে নির্বাচন করে। তার বাবা পুরো কাজটির সম্পাদকীয় দিকনির্দেশনা দেন এবং ছেলের ভাবনাগুলোকে বাস্তব রূপ দেন।
