আশরাফ হাকিমি

12 de জুলাই de 2026

মরক্কো জাতীয় দল ও PSG তারকা আশরাফ হাকিমি (Achraf Hakimi) কে কেন্দ্র করে তৈরি ২০২৬ বিশ্বকাপের স্টিকার, যা প্রিন্ট, রং, পেইন্ট এবং ফুটবল সংগ্রহে যোগ করা যায়।

গ্যালারির এক কোণে বসে থাকা ছোট্ট ছেলেটা তখনও বুঝতে পারেনি কেন হঠাৎ সবাই দাঁড়িয়ে গেছে। সে ভেবেছিল বলটা বুঝি বাইরে চলে যাবে, তাই একটু নিশ্চিন্ত হয়ে হাতে থাকা জুসের প্যাকেটটা খুলছিল। ঠিক সেই সময় পাশের মানুষগুলো চিৎকার করে উঠল, আর মাঠের ডান দিক দিয়ে আশরাফ হাকিমি (Achraf Hakimi) এমন গতিতে ছুটে এলেন যে ছেলেটা জুস খাওয়া ভুলেই গেল। এক পলকে বল নিয়ন্ত্রণে, আরেক পলকে প্রতিপক্ষ পেছনে। যেন তিনি দৌড় শুরু করার আগে থেকেই জানতেন কোথায় ফাঁকা জায়গা তৈরি হবে। হাকিমির এই বিশেষ গুণটাই সবচেয়ে মজার। তিনি শুধু দ্রুত নন, তিনি খুব তাড়াতাড়ি বুঝে ফেলেন পরের মুহূর্তে কী হতে পারে। একজন ডিফেন্ডার একটু ভেতরে সরল, আরেকজন বলের দিকে তাকাল, ব্যস, পাশের সরু পথটা তার চোখে পড়ে গেল। সেই খেলাই এখন কাগজে এসে দাঁড়িয়েছে ২০২৬ বিশ্বকাপের আশরাফ হাকিমি স্টিকার কালারিং পেজ হিসেবে, যেখানে শিশুরা নিজের হাতে রং করবে, নতুন দৃশ্য আঁকবে, ছবি প্রিন্ট করবে আর হাকিমির দৌড়কে নিজের মতো করে আরও দুর্দান্ত বানাবে।

রং করা শুরুর আগে ছবিটাকে একটু মন দিয়ে দেখলেই অনেক গল্প মাথায় আসতে পারে। হাকিমি কি বল নিয়ে সামনে এগোচ্ছেন, নাকি ঠিক এখনই প্রতিপক্ষের কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়েছেন? সামনে কি কোনো সতীর্থ হাত তুলে পাস চাইছে? হয়তো গোলপোস্টের কাছে একজন খেলোয়াড় একেবারে ফাঁকা, আর হাকিমি তাকে দেখে ফেলেছেন। আবার এমনও হতে পারে, দুইজন ডিফেন্ডার তাকে ঘিরে ধরেছে, কিন্তু তিনি ইতিমধ্যে তৃতীয় একটা পথ বেছে নিয়েছেন। শিশুরা চাইলে ছবির পাশে বল আঁকতে পারে, গোলপোস্ট বসাতে পারে, প্রতিপক্ষ যোগ করতে পারে কিংবা পুরো মাঠটাই বদলে দিতে পারে। এই ম্যাচ সত্যিকারের স্টেডিয়ামে হতে পারে, আবার হতে পারে ছাদের ওপর, সমুদ্রের মাঝখানে, মেঘের দেশে বা এমন এক গ্রহে যেখানে ফুটবল মাটিতে না পড়ে একটু ভেসে থাকে। কেউ চাইলে গ্যালারিতে মানুষ না এঁকে বাঘ, হাতি, টিয়া পাখি আর রোবট বসাতে পারে। যত অদ্ভুত, তত মজা।

হাকিমির জার্সি রং করার সময় মরক্কোর লাল আর সবুজ রং ব্যবহার করা যায়, কারণ এই দুই রং দেখলেই মরক্কো দলের কথা মনে পড়ে। আবার PSG থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে গাঢ় নীল, সাদা বা অন্য কোনো শক্তিশালী রংও বেছে নেওয়া যায়। তবে সত্যিকারের জার্সি নকল করতেই হবে, এমন কোনো নিয়ম নেই। শিশুরা চাইলে হাকিমির জন্য একেবারে নতুন জার্সি বানাতে পারে। হাতায় বজ্রপাতের দাগ, বুকের ওপর সোনালি তারা, পাশে ছোট ছোট ফুটবল, আর জুতায় এমন আলো দেওয়া যায় যেন ভেতরে ক্ষুদে রকেট বসানো আছে। এরপর দলটির জন্য একটি নতুন লোগো আঁকা যেতে পারে। সেটা হতে পারে সিংহ, বাজপাখি, ডানা লাগানো বল, আগুনের গোলা বা এমন কোনো চিহ্ন যার মানে শুধু ছবির শিল্পীই জানে। দলের নামও বানানো যায়, যেমন বজ্র সিংহ, মাঠের জাদুকর, পাড়ার চ্যাম্পিয়ন বা উড়ন্ত বুট। এভাবে হাকিমিকে রং করতে করতে একটি পুরো ফুটবল দল তৈরি হয়ে যাবে।

আশরাফ হাকিমি মাদ্রিদে জন্মেছিলেন এবং ছোটবেলা থেকেই ফুটবলের সঙ্গে বেড়ে উঠেছেন। রিয়াল মাদ্রিদের যুব পর্যায়ে তিনি শুধু দ্রুত দৌড়ানো শেখেননি, বরং কখন দৌড় শুরু করতে হবে সেটাও শিখেছেন। কারণ ভুল দিকে খুব জোরে দৌড়ালে লাভ নেই। একজন খেলোয়াড়কে বুঝতে হয় বল কোথায় যাবে, সতীর্থ কোনদিকে এগোচ্ছে আর প্রতিপক্ষের শরীর কোনদিকে ঘুরছে। হাকিমি মাঠে এই ছোট ছোট বিষয় খুব দ্রুত ধরতে পারেন। কখনো একটি জায়গা মাত্র এক সেকেন্ডের জন্য ফাঁকা হয়। একজন ডিফেন্ডার মাঝখানে গেল, আরেকজন একটু থামল, তখন পাশ দিয়ে একটি সরু রাস্তা তৈরি হলো। অন্যরা বুঝে ওঠার আগেই হাকিমি সেখানে ছুটে যান। এই কৌশলকে শিশুরা কাগজে খেলার মতো করে আঁকতে পারে। হাকিমির সামনে তিনটি পথ আঁকুন। একটি সাইডলাইন ধরে, একটি মাঝখানে, আর একটি গোলের সামনে থাকা সতীর্থের দিকে। প্রতিটি পথ আলাদা রঙে করুন, তারপর ঠিক করুন কোন পথ দিয়ে গল্প এগোবে।

পথ বেছে নেওয়ার পর ছবির চারপাশে নতুন চরিত্র যোগ করা যায়। সাইডলাইনের পথে একজন ডিফেন্ডার দৌড়াচ্ছে, কিন্তু তার মুখ দেখে মনে হচ্ছে সে আর পারছে না। মাঝখানের পথে রেফারি তাড়াহুড়ো করে সরে যাচ্ছে, যাতে হাকিমির সঙ্গে ধাক্কা না লাগে। গোলের কাছে একজন খেলোয়াড় হাত তুলে চিৎকার করছে, “এখানে পাস দাও!” হাকিমির পায়ের পেছনে কয়েকটি লম্বা দাগ দিলে গতি বোঝা যাবে। জুতার কাছে ছোট ছোট ঘাসের টুকরো আঁকলে মনে হবে তিনি খুব জোরে পা ঠেলে এগিয়ে গেছেন। যারা কমিক পছন্দ করে, তারা ঝলক, তারা, ধোঁয়া বা রঙের লেজ যোগ করতে পারে। মজার দৃশ্যে গোলরক্ষকের গ্লাভস বালিশের মতো বড় হতে পারে, মাসকট ভুল করে মাঠে ঢুকে পড়তে পারে, আর একজন ডিফেন্ডার ঠিক হাকিমি পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় জুতার ফিতা বাঁধতে বসে যেতে পারে।

মরক্কোর সঙ্গে হাকিমির সম্পর্ক এই ছবিতে আরও অনেক রঙ যোগ করতে পারে। স্পেনে জন্ম হলেও তিনি তার পরিবারের শিকড়ের দেশ মরক্কোর হয়ে খেলতে বেছে নিয়েছেন। মরক্কোর ম্যাচে গ্যালারি লাল আর সবুজ পতাকায় ভরে যায়, দর্শকেরা গান গায়, ড্রাম বাজায় আর খেলোয়াড়দের উৎসাহ দেয়। সেই উৎসবের দৃশ্য শিশুরা ছবির পেছনে আঁকতে পারে। গ্যালারিতে পরিবার, বন্ধু, ছোট বাচ্চা, দাদা, দাদি সবাই থাকতে পারে। কেউ স্কার্ফ ধরেছে, কেউ পতাকা নাড়ছে, কেউ মুখে রং লাগিয়েছে। মরক্কো দলকে অ্যাটলাস লায়ন্স বলা হয়, তাই ছবির কোণে একটি মজার সিংহ আঁকা যেতে পারে। সিংহটা ভয়ংকর না হয়ে হাসিখুশি হবে, তার জার্সি খুব বড়, মোজা দুই রঙের, আর সে বেঞ্চে বসে নিজেকে কোচ ভাবছে। হাতে একটি বোর্ড থাকতে পারে, যেখানে লেখা, “হাকিমি, আরও দ্রুত!”

২০২২ বিশ্বকাপে মরক্কোর অসাধারণ যাত্রা অনেক ফুটবলপ্রেমীকে অবাক করেছিল। দলটি সেমিফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছায় এবং আফ্রিকান ফুটবলের ইতিহাসে বিশেষ জায়গা করে নেয়। হাকিমি সেই দলের অন্যতম পরিচিত মুখ ছিলেন। তার দৌড়, রক্ষণে ফিরে আসা, বল কেড়ে নেওয়া আর আক্রমণে যোগ দেওয়া ম্যাচগুলোকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলেছিল। এই গল্প থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের ঘরোয়া অ্যালবাম তৈরি করা যায়। কোনো দামি অ্যালবামের দরকার নেই। একটি খাতা, কয়েকটি প্রিন্ট করা ছবি, আঠা, কাঁচি আর রং পেন্সিলই যথেষ্ট। প্রতিটি পৃষ্ঠা একটি দেশের জন্য রাখা যায়। মরক্কোর পাতায় আশরাফ হাকিমির স্টিকার কালারিং পেজ বসিয়ে পাশে পতাকা, ফুটবল, স্টেডিয়াম আর কাল্পনিক স্কোর আঁকা যায়। শিশুরা মজার ক্ষমতাও লিখতে পারে, যেমন বজ্রগতির দৌড়, সিংহের সাহস, গোপন পাস আর টার্বো ফিরে আসা।

PSG তে খেলতে গিয়ে হাকিমিকে প্রায়ই মাঠের দুই জায়গায় খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে দেখা যায়। একটু আগে তিনি নিজের গোলের কাছে রক্ষণে সাহায্য করছেন, তারপর হঠাৎ প্রতিপক্ষের গোলের দিকে ছুটছেন। তখন মনে হয় মাঠটা বুঝি ছোট হয়ে গেছে। এই ভাবনাকে দুই ছবির খেলায় বদলে ফেলা যায়। একই ছবি দুইবার প্রিন্ট করুন। প্রথম ছবিতে হাকিমিকে ডিফেন্ডার হিসেবে আঁকুন। সামনে প্রতিপক্ষ বল নিয়ে আসছে, পেছনে গোলকিপার তৈরি, আর হাকিমি বল কেড়ে নিতে এগোচ্ছেন। দ্বিতীয় ছবিতে তিনি আক্রমণে। একজন সতীর্থ গোলের সামনে অপেক্ষা করছে, একজন ডিফেন্ডার পেছনে পড়ে গেছে, আর হাকিমি বল নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন। একটি ম্যাচ বৃষ্টিতে হতে পারে, মাঠে ছোট ছোট পানির দাগ থাকবে। আরেকটি ম্যাচ রাতের আলোয়, যেখানে গ্যালারিতে কনফেটি উড়ছে।

রং করার সময় পরিবারের কেউ কমেন্টেটর হলে খেলাটা আরও জমে যায়। মা, বাবা, ভাই, বোন বা বন্ধু বলতে পারে, “হাকিমি ডান পাশে বল পেয়েছেন, সামনে দুইজন ডিফেন্ডার, জায়গা খুব কম।” এরপর কী হবে, সেটা ঠিক করবে যে শিশুটি ছবি রং করছে। মাঝখানে তীর আঁকলে হাকিমি দিক বদলাবেন। গোলের কাছে একজন সতীর্থ আঁকলে পাসের সুযোগ তৈরি হবে। বলকে বাতাসে আঁকলে সেটা ক্রস হয়ে যাবে। কিছুক্ষণ পর সাধারণ ম্যাচ একেবারে মজার গল্পে পরিণত হতে পারে। প্রতিপক্ষ দল রোবট, গোলকিপার আট হাতওয়ালা অক্টোপাস, আর রেফারি স্কুটার চালাচ্ছে কারণ সে হাকিমির দৌড়ের সঙ্গে তাল মেলাতে পারছে না। গ্যালারিতে বিড়াল, বানর, টিয়া পাখি আর হাতি বসে সমর্থন করছে। প্রতিটি নতুন বাক্যের সঙ্গে ছবিতে নতুন কিছু যোগ হবে।

এই কালারিং পেজে রং করার জন্য অনেক রকম জিনিস ব্যবহার করা যায়। রং পেন্সিল মুখ, চুল, জুতা আর জার্সির ছোট অংশে সুন্দর কাজ করবে। ক্রেয়ন দিয়ে মাঠ, আকাশ আর গ্যালারির বড় অংশ দ্রুত রং করা যায়। স্কেচ পেন দিয়ে নম্বর, পতাকা আর ছবির বর্ডার উজ্জ্বল করা যায়। যারা পেইন্ট করতে ভালোবাসে, তারা একটু মোটা কাগজে ছবিটি প্রিন্ট করে জলরং বা পোস্টার কালার ব্যবহার করতে পারে। মাঠে এক রকম সবুজ না দিয়ে কয়েক রকম সবুজ মেশানো যায়। সন্ধ্যার আকাশে কমলা, গোলাপি আর বেগুনি ব্যবহার করা যায়। রাতের ম্যাচে গাঢ় নীল আকাশ আর হলুদ আলো সুন্দর লাগবে। একই ছবিতে বিভিন্ন উপকরণ ব্যবহার করাও বেশ মজার। হাকিমিকে পেন্সিল দিয়ে রং করা, পেছনের দৃশ্য ব্রাশে পেইন্ট করা আর দর্শকদের ছোট ছোট রঙিন বিন্দু দিয়ে আঁকা যায়।

রং যদি দাগের বাইরে চলে যায়, তাহলে ছবিটি নষ্ট হয়ে যায় না। লম্বা দাগকে স্টেডিয়ামের আলো বানানো যায়। জুতার পাশে সবুজ দাগকে উড়ে যাওয়া ঘাস বানানো যায়। দুই রং ভুল করে মিশে গেলে সেটা জার্সির নতুন নকশা হতে পারে। রং করা কোনো পরীক্ষা নয়, যেখানে একটি উত্তরই ঠিক। অনেক সময় ভুল থেকে সবচেয়ে মজার ধারণা আসে। বাঁকা দাগ পতাকার দণ্ড হতে পারে, গোল দাগ দূরের বল হতে পারে, আর খালি কোণে বড় ক্যামেরা নিয়ে একজন ফটোগ্রাফার বসতে পারে। একটি শিশু হাকিমিকে মরক্কোর আসল জার্সির মতো রং করতে চাইবে, অন্য একজন তাকে কমিক হিরো বানাবে, যার জুতা আলো ছড়ায় আর পোশাকে বজ্রপাত আঁকা। দুটো ছবিই সুন্দর, কারণ দুটোই আলাদা কল্পনা থেকে এসেছে।

ছবি রং করা শেষ হলে কোনো বড় মানুষের সাহায্যে সেটি কেটে শক্ত কাগজে লাগানো যায়। তখন সেটি ফুটবল কার্ড হয়ে যাবে। পেছনে গতি, পাস, রক্ষণ আর শটের নম্বর লেখা যেতে পারে। বিশেষ ক্ষমতাও বানানো যায়। অদৃশ্য দৌড় হাকিমিকে দুইজন ডিফেন্ডার পার হতে সাহায্য করবে। জাদুর ক্রস বলকে ঠিক সতীর্থের কাছে নিয়ে যাবে। বজ্রগতির ফিরে আসা তাকে প্রতিপক্ষের আক্রমণের আগে নিজের গোলের কাছে পৌঁছে দেবে। অন্য খেলোয়াড়ের কার্ডও তৈরি হলে ঘরে বসে বোর্ড গেম খেলা যাবে। পাশা ঠিক করবে দল কতদূর যাবে, কয়েন ঠিক করবে কে শুরু করবে, আর কার্ডের শক্তি খেলায় নতুন চমক আনবে। নিয়ম সবসময় একই থাকতে হবে না। নতুন মজার ধারণা এলে নিয়ম বদলে ফেলা যাবে।

ফুটবল থিমের জন্মদিনের পার্টিতেও এই ছবি ব্যবহার করা যায়। টেবিলে কয়েকটি প্রিন্ট, রং পেন্সিল, ক্রেয়ন, স্কেচ পেন, স্টিকার, আঠা আর রঙিন কাগজ রাখুন। প্রতিটি শিশু নিজের হাকিমি বানাবে। একজন মরক্কোর রং ব্যবহার করবে, একজন প্যারিস থেকে অনুপ্রাণিত জার্সি আঁকবে, আরেকজন এমন দল বানাবে যার নাম পৃথিবীর কোনো লিগে নেই। কাজ শেষ হলে সব ছবি দেয়ালে পাশাপাশি ঝুলিয়ে দেওয়া যায়। তখন দেখা যাবে একই শুরু থেকে কত আলাদা গল্প তৈরি হয়েছে। একটি ম্যাচ শহরে, একটি সমুদ্রের নিচে, আরেকটি পাহাড়ের চূড়ায়। একটি ছবিতে হাকিমি বৃষ্টিতে দৌড়াচ্ছেন, আরেকটিতে রোবটকে পেছনে ফেলছেন, আরেকটিতে তার পায়ের পেছনে তারা উড়ছে।

বাড়িতে এই ছবি একটি শান্ত বিকেলকে আনন্দময় করতে পারে, ফুটবল সংগ্রহে নতুন কিছু যোগ করতে পারে অথবা হাকিমি, মরক্কো, PSG বা বিশ্বকাপ ভালোবাসে এমন বন্ধুকে উপহার দেওয়া যায়। যেসব শিশু কমিক আঁকতে ভালোবাসে, তারা ছবির চারপাশে কয়েকটি ছোট ঘর বানাতে পারে। প্রথম ঘরে হাকিমি ফাঁকা জায়গা দেখছেন। দ্বিতীয় ঘরে দৌড় শুরু করছেন। তৃতীয় ঘরে বল গোলের সামনে যাচ্ছে। চতুর্থ ঘরে খেলোয়াড় আর দর্শকেরা উদযাপন করছে। কথার বুদবুদে খেলোয়াড়ের চিৎকার, কমেন্টেটরের কথা আর সিংহ মাসকটের মজার মন্তব্য লেখা যায়। গল্প ভালো লাগলে পরের পাতায় নতুন খেলোয়াড়, নতুন স্টেডিয়াম আর আরও অদ্ভুত প্রতিপক্ষ যোগ করা যাবে। একটি কালারিং পেজ থেকেই পুরো ফুটবল কমিক শুরু হতে পারে।

হাকিমির গতি সবাইকে মুগ্ধ করে, কিন্তু তার প্রতিটি দৌড়ের পেছনে মনোযোগ থাকে। তাকে একই সঙ্গে বল, সতীর্থ আর প্রতিপক্ষ দেখতে হয়। রং করার সময় শিশুকে তার মতো দ্রুত হতে হবে না। ছোট অংশ ধীরে ধীরে করা যায়, বড় জায়গায় মোটা দাগ ব্যবহার করা যায়, আর পেছনের দৃশ্য অন্য দিনে শেষ করা যায়। কাজের মাঝখানে ধারণা বদলানোও ঠিক আছে। প্রথমে লাল ভাবা জার্সিতে পরে সোনালি নকশা যোগ করা যায়। সাধারণ মাঠকে উড়ন্ত ক্যামেরা আর আলো জ্বলা গোলপোস্টের জাদুর স্টেডিয়ামে বদলে দেওয়া যায়। প্রতিটি সিদ্ধান্ত ছবিকে আরও ব্যক্তিগত করে তোলে।

হাকিমি পুরোপুরি রঙিন হয়ে গেলে কাগজের খালি জায়গাগুলো আরেকবার দেখুন। ওপরের দিকে স্কোরবোর্ড আঁকা যায়, পাশে ফটোগ্রাফার, গোলের পেছনে হাকিমির নাম লেখা বড় ব্যানার। আকাশে বেলুন, কাগজের বিমান আর রঙিন ফিতা থাকতে পারে। কেউ পুরো পৃষ্ঠা ভরে ফেলবে, কেউ হাকিমিকে বেশি স্পষ্ট দেখানোর জন্য কিছু জায়গা সাদা রাখবে। দুই ধরনের ছবিই সুন্দর। আর সেই কল্পনার ম্যাচে একজন ডিফেন্ডার মাত্র এক সেকেন্ডের জন্য বলের দিকে তাকাল। ডান পাশে ছোট্ট ফাঁকা পথ তৈরি হলো। আশরাফ হাকিমি সেটা আগেই দেখে ফেলেছেন। এবার নতুন রং কাগজে ছোঁয়ামাত্র দৌড় আবার শুরু হবে।