
বলটা যদি হঠাৎ নিজের ইচ্ছেমতো বাঁক নিতে শুরু করে, তখন পাড়ার মাঠে সবাই একবার হলেও চেঁচিয়ে ওঠে, আরে, এটা গেল কোথায়। কিন্তু লুকা মদরিচ (Luka Modric) বল পেলেই মনে হয়, বলটা যেন একটু চুপচাপ হয়ে তার কথা শুনে। সে খুব জোরে দৌড়ে সবাইকে ভয় দেখায় না, বড় বড় ভঙ্গি করেও না। সে শুধু একবার চারপাশ দেখে, পায়ের বাইরের দিক দিয়ে নরম একটা ছোঁয়া দেয়, আর বলটা এমন পথে চলে যায় যেটা কেউ ঠিকমতো ভাবতেই পারেনি। ছোটবেলায় মদরিচ সব সময় চকচকে ঘাসের মাঠে খেলেননি। কখনও অসমান জায়গা, কখনও শক্ত মাটি, কখনও বলের অদ্ভুত লাফ, এসবের মাঝেই তাকে খেলতে হয়েছে। সেই খেলাধুলার বুদ্ধি, ধৈর্য আর মজার কৌশলই আজ শিশুদের জন্য এই লুকা মদরিচ বিশ্বকাপ ২০২৬ স্টিকার রং করার পাতায় এসে হাজির হয়েছে, যেখানে প্রিন্ট করা, রং করা, পেইন্ট করা আর নিজের মতো করে আঁকার মধ্যে দিয়ে একটা সাদা কাগজ ছোট্ট ফুটবল গল্পে বদলে যেতে পারে।
বাংলাদেশে ফুটবল মানেই শুধু বড় টিভি স্ক্রিনে ম্যাচ দেখা নয়। কখনও স্কুল ছুটির পর মাঠে দৌড়, কখনও বাড়ির সামনে গলিতে ছোট বল নিয়ে খেলা, কখনও ছাদে সাবধানে পাস দেওয়া, কখনও ঈদের ছুটিতে কাজিনদের সঙ্গে গোলপোস্ট বানিয়ে হইচই। দুইটা স্যান্ডেল হলেই গোলপোস্ট, একটা পুরোনো বল হলেই ম্যাচ, আর একটু জায়গা পেলেই শুরু হয়ে যায় খেলা। এমন জায়গায় বল সব সময় সুন্দরভাবে গড়িয়ে যায় না। কখনও ইটের টুকরায় লাগে, কখনও ধুলোয় আটকে যায়, কখনও কারও পায়ে লেগে অন্যদিকে ছুটে যায়। তাই মদরিচের গল্প বাংলাদেশের শিশুদের কাছে দূরের মনে হয় না। সে যেন সেই খেলোয়াড়, যে বলের দুষ্টুমি দেখে বিরক্ত না হয়ে বলে, ঠিক আছে, এবার আমি অন্য রাস্তা খুঁজে নিই।
এই পেজটি প্রিন্ট করলেই টেবিলের ওপর যেন ছোট্ট একটা ফুটবল স্টিকার কার্ড খুলে যায়। তবে মজাটা হলো, এই স্টিকার একেবারে তৈরি হয়ে আসে না। শিশুর হাতেই তার প্রাণ। রং পেন্সিল, ক্রেয়ন, স্কেচ পেন, জলরং বা যেটা ঘরে আছে, সেটাই যথেষ্ট। কেউ চাইলে ক্রোয়েশিয়ার লাল সাদা ভাব রেখে জার্সি রং করতে পারে, কেউ চাইলে পুরো পোশাককে কল্পনার দলে বদলে দিতে পারে। বলের গায়ে তারা, জার্সিতে নকশা, জুতায় কমলা রং, মাঠে গাঢ় সবুজ আর হালকা সবুজের মিশেল, আকাশে নীলের ওপর সাদা মেঘ, সবই চলবে। এই লুকা মদরিচ স্টিকার কালারিং পেজ শিশুদের বলে না যে একটাই ঠিক পদ্ধতি আছে। বরং বলে, তোমার ম্যাচ, তোমার রং, তোমার গল্প।
স্টিকার জমানোর আনন্দটা শিশুদের খুব চেনা। কেউ খেলোয়াড়ের ছবি খাতায় লাগায়, কেউ বন্ধুদের দেখায়, কেউ নিজের পছন্দের কার্ড আলাদা করে রাখে, কেউ আবার একটা পুরোনো বাক্সকে গুপ্তধনের বাক্স বানিয়ে ফেলে। এই রং করার পাতায় সেই সংগ্রহের অনুভূতি আছে, কিন্তু সঙ্গে আছে নিজের হাতে বানানোর আনন্দ। শিশু চাইলে লুকা মদরিচ (Luka Modric) এর এই ছবি রং করে বড়দের সাহায্যে কেটে নিতে পারে, তারপর ড্রয়িং খাতা, কার্ডবোর্ড, ফাইল বা ঘরে বানানো বিশ্বকাপ অ্যালবামে লাগাতে পারে। পাশে ক্রোয়েশিয়ার পতাকা আঁকা যায়, ওপরে বড় করে নাম লেখা যায়, নিচে মজার তথ্য বানানো যায়, যেমন সেরা চাল পায়ের বাইরের দিকের পাস, গোপন শক্তি ফাঁকা জায়গা আগে দেখা, ভাগ্যবান রং আজকের পছন্দের নীল।
লুকা মদরিচকে রং করার মজা তার খেলার ধরন থেকেই আসে। সে এমন খেলোয়াড়, যে মাঠে ধুমধাম করে নিজের নাম ঘোষণা করে না। সে চুপচাপ খেলা দেখে, একটু জায়গা খুঁজে নেয়, তারপর বলকে এমনভাবে পাঠায় যে দর্শকও অবাক হয়। শিশুদের ভাষায় বললে, সে মাঠের ধাঁধা মেলানো খেলোয়াড়। সামনে প্রতিপক্ষ, পাশে সতীর্থ, মাঝখানে খুব সামান্য ফাঁক, আর মদরিচ সেই ফাঁকটাকে পথ বানিয়ে দেয়। এই ছবিতে শিশুরা চাইলে সেই পথ সত্যি সত্যি আঁকতে পারে। বলের পেছনে বাঁকা রঙিন দাগ, জুতোর পাশে ছোট তারার ঝিলিক, বাতাসের মতো সরু রেখা, কিংবা দূরে দাঁড়িয়ে থাকা এক কল্পিত সতীর্থ, যার কাছে বলটা পৌঁছাবে।
রং করা শুরু করার জন্য কোনও নির্দিষ্ট নিয়ম নেই। কেউ আগে বলটা রং করবে, কারণ বল থেকেই তো পুরো গল্প শুরু। কেউ আগে মুখে রং দেবে, যাতে মদরিচের শান্ত ভাব ফুটে ওঠে। কেউ জার্সি নিয়ে ব্যস্ত হবে, কারণ ফুটবলারের পরিচয় সেখানে ঝলমল করে। আবার কেউ আগে পেছনের দৃশ্য আঁকতে শুরু করবে। হয়তো সেখানে থাকবে বড় স্টেডিয়াম, হয়তো থাকবে স্কুলের মাঠ, হয়তো থাকবে পাড়ার গলির দেয়াল, যেখানে বন্ধুরা দাঁড়িয়ে ম্যাচ দেখছে। যে শিশু গল্প করতে ভালোবাসে, সে রং করতে করতে বলতে পারে, এখন মদরিচ বল পেল, এখন সে ডান দিকে তাকাল, না না, সে বাঁ দিকে পাস দেবে। এভাবেই একটা সাদামাটা ছবি ছোট্ট ম্যাচের ধারাভাষ্যে বদলে যায়।
মদরিচের পায়ের বাইরের দিক দিয়ে দেওয়া বিখ্যাত পাস এই পেজের সবচেয়ে মজার অংশ হতে পারে। বলটা সোজা এগিয়ে যাচ্ছে, এমন না দেখিয়ে শিশুরা তাকে বাঁক নিতে দেখাতে পারে। সেই বাঁক লাল, হলুদ, সবুজ, নীল বা সব রঙের হতে পারে। বলটা কল্পিত ডিফেন্ডারের পাশ দিয়ে ঘুরে যেতে পারে, একটা ছোট ঘাসের ওপর দিয়ে লাফিয়ে যেতে পারে, কিংবা পেজের কোণে আঁকা গোলপোস্টের দিকে ছুটতে পারে। চাইলে বলের পেছনে রংধনুর মতো লম্বা দাগ দেওয়া যায়। তখন ছবিটা আর চুপচাপ থাকে না। মনে হয়, বলটা সত্যিই চলেছে, আর মদরিচ ঠিক এখনই তার জাদুকরী পাসটা দিয়েছে।
বিশ্বকাপ ২০২৬ এই ছবিতে আরও উৎসবের আবহ এনে দেয়। শিশুরা কল্পনা করতে পারে, বড় ম্যাচ চলছে, গ্যালারি ভর্তি দর্শক, নানা দেশের পতাকা, বাড়িতে সবাই মিলে খেলা দেখছে, কেউ বলছে এবার দেখো কিছু একটা হবে। মদরিচ মাঝমাঠে দাঁড়িয়ে আছে। বল তার কাছে এল। সে মাথা তুলল। এক সেকেন্ডের জন্য সব চুপ। তারপর সে এমন পাস দিল, যেটা দেখে সবাই হাততালি দিল। এই মুহূর্ত শিশুরা নিজেরাই রং দিয়ে সাজাতে পারে। আকাশ বিকেলের হবে নাকি রাতের, মাঠ সবুজ থাকবে নাকি একটু মজার রঙে বদলে যাবে, দর্শকদের মুখে হাসি থাকবে নাকি বিস্ময়, সবই ছোট শিল্পীর হাতে।
লুকা মদরিচ (Luka Modric) এর ছোটবেলার গল্পে একটা কোমল অনুপ্রেরণা আছে। তিনি ক্রোয়েশিয়ায় কঠিন সময়ে বড় হয়েছেন, আর ফুটবল তার জন্য ছিল খেলা, স্বপ্ন আর এগিয়ে চলার সাহস। শিশুদের জন্য এই বিষয়টি ভারী করে বলার দরকার নেই। সহজ করে বলা যায়, ছোট লুকা বলকে খুব ভালোবাসত, খেলতে চাইত, শিখতে চাইত, আর সহজ জায়গা না পেলেও নিজের আনন্দ হারায়নি। এই ভাবনাটা রং করার কাজের সঙ্গে সুন্দরভাবে মিলে যায়। সাদা কাগজও শুরুতে খালি থাকে। একটু চেষ্টা, কিছু রং, কিছু ভুল, কিছু নতুন আইডিয়া, তারপর সেটাই হয়ে যায় নিজের বানানো সুন্দর কাজ।
বাড়িতে এই কার্যকলাপ খুব সহজে করা যায়। মোবাইল বা ট্যাব চালু করার দরকার নেই, গেম ডাউনলোড করার দরকার নেই, বেশি প্রস্তুতিরও দরকার নেই। শুধু পেজটি প্রিন্ট করুন, রংগুলো টেবিলে রাখুন, আর শিশুকে নিজের মতো কাজ করতে দিন। কেউ শান্ত হয়ে রং করবে, কেউ গল্প বলতে বলতে আঁকবে, কেউ বলবে এইবার গোল হবেই। কখনও বাবা মা পাশে বসে হালকা গল্প করতে পারেন, কখনও ভাইবোন মিলে একই ছবি আলাদা আলাদা রঙে করতে পারে। একই লুকা মদরিচ আঁকা থেকে একেকজনের একেক রকম ছবি তৈরি হবে, আর সেটাই তো সবচেয়ে মজার।
স্কুল, আর্ট ক্লাস, ফুটবল থিমের জন্মদিন বা ছুটির দিনের ছোট আয়োজনেও এই পেজ ব্যবহার করা যায়। কয়েকজন শিশুকে একই ছবি দিলে কিছুক্ষণ পর দেখা যাবে, কারও মদরিচ বাস্তবের মতো, কারওটা কার্টুনের মতো, কারও মাঠে বৃষ্টি, কারও আকাশে আতশবাজি, কারও গ্যালারিতে হাসিমুখের দর্শক। এটা শিশুদের বোঝায়, একই ছবি দিয়ে অনেক আলাদা গল্প বানানো যায়। কেউ ভুল করছে না, সবাই নিজের মতো তৈরি করছে। এমন কাজ শিশুদের আত্মবিশ্বাসও বাড়ায়, কারণ তারা নিজের পছন্দের রং বেছে নিতে শেখে।
যারা আঁকতে ভালোবাসে, তাদের জন্য এই পাতায় অনেক জায়গা আছে। মদরিচের পাশে এক সতীর্থ আঁকা যায়, সামনে গোলকিপার, দূরে কোচ, পাশে স্কোরবোর্ড, ওপরে মেঘ, নিচে ঘাসের মধ্যে ছোট ফুল। বাংলাদেশের শিশু চাইলে ছবিটাকে নিজের পরিচিত পরিবেশেও নিয়ে যেতে পারে। মাঠের পাশে পানির বোতল, স্কুল ব্যাগ, সাইকেল, পাড়ার বন্ধুরা, কিংবা ছোট গলির গোলপোস্ট আঁকা যায়। তখন এই ছবি শুধু দূরের বিশ্বকাপের মাঠে থাকে না। সেটা চলে আসে শিশুর নিজের খেলাধুলার দুনিয়ায়।
যে শিশুরা পেইন্ট করতে পছন্দ করে, তারা চাইলে পেছনের অংশে জলরঙের মতো নরম ছোঁয়া দিতে পারে। জার্সিতে রং পেন্সিল, বলের নকশায় স্কেচ পেন, আকাশে হালকা রং, আর নাম লেখায় মোটা কালো কলম ব্যবহার করা যায়। একাধিক উপকরণ মিশিয়ে কাজ করলে ছবিটা আরও আলাদা লাগে। এতে শিশুরা বুঝতে পারে, রং করার পাতা মানে শুধু খালি জায়গা ভরানো নয়। এটা ছোট্ট একটা আর্ট প্রজেক্টও হতে পারে, যেখানে ফুটবল আর ছবি আঁকা একসঙ্গে খেলে।
মদরিচ শিশুদের আরেকটা সুন্দর কথা শেখায়। ফুটবলে ভালো হতে সব সময় সবচেয়ে জোরে দৌড়াতে হবে, সবচেয়ে শক্ত শট মারতে হবে, এমন নয়। কেউ গতি দিয়ে জেতে, কেউ শক্তি দিয়ে, কেউ গোল করে, আর কেউ বুদ্ধি দিয়ে খেলা বদলে দেয়। মদরিচের শক্তি তার শান্ত মাথা, চোখের নজর আর ঠিক সময়ে ঠিক পাস। শিশুদের জগতে এই কথা খুব সুন্দরভাবে বসে যায়। কারণ সব শিশু একই রকম নয়। কেউ দ্রুত রং করে, কেউ ধীরে ধীরে খুব যত্ন নিয়ে করে, কেউ অদ্ভুত রং বেছে নেয়, কেউ গল্প বানায়, কেউ পেছনের দৃশ্য আঁকতে ভালোবাসে। সবার নিজের মতো জ্বলে ওঠার জায়গা আছে।
এই লুকা মদরিচ রং করার পাতা দিয়ে একটি ছোট সংগ্রহও বানানো যায়। আজ মদরিচ, কাল অন্য ফুটবল খেলোয়াড়, পরের দিন বিশ্বকাপের বল, তারপর ট্রফি, পতাকা, স্টেডিয়াম। প্রতিটি পাতায় নম্বর দেওয়া যায়, নাম লেখা যায়, পাশে ছোট্ট গল্প যোগ করা যায়। ধীরে ধীরে বাড়ির নিজের বিশ্বকাপ ২০২৬ কালারিং অ্যালবাম তৈরি হতে পারে। দোকান থেকে কেনা অ্যালবামের আলাদা আনন্দ আছে, কিন্তু নিজের হাতে রং করা অ্যালবামের গর্ব একেবারে আলাদা।
যেসব শিশু একবারে অনেকক্ষণ বসে থাকতে পছন্দ করে না, তাদের জন্যও এই পেজ ভালো। আজ শুধু বল আর জুতো রং করা হলো, কাল জার্সি, আরেকদিন পেছনের দৃশ্য। চাইলে আবার নতুন করে প্রিন্ট করে অন্য রং ব্যবহার করা যায়। এক সংস্করণ ক্রোয়েশিয়ার রঙে, এক সংস্করণ কার্টুন স্টাইলে, এক সংস্করণ রাতের ম্যাচে, আরেক সংস্করণ পাড়ার মাঠে। একই ছবি বারবার নতুন গল্প নিতে পারে। এতে শিশুরা ভয় পায় না যে ভুল হলে সব শেষ। নতুন পেজ মানেই নতুন সুযোগ।
যারা লুকা মদরিচ রং করার পাতা, লুকা মদরিচ আঁকা বা বিশ্বকাপ ২০২৬ স্টিকার কালারিং পেজ খুঁজছে, তাদের জন্য এই পেজ ফুটবল আর সৃজনশীলতার সুন্দর মিশ্রণ। এখানে আছে পরিচিত ফুটবলারের আকর্ষণ, স্টিকারের সংগ্রহের মজা, রং করার স্বাধীনতা, আঁকার জায়গা আর নিজের গল্প বানানোর সুযোগ। শিশুরা এটি প্রিন্ট করতে পারে, রং করতে পারে, পেইন্ট করতে পারে, পেছনে নতুন দৃশ্য আঁকতে পারে, তারপর ঘরের দেয়াল, খাতা, ফাইল বা নিজের অ্যালবামে রাখতে পারে।
ছবি শেষ হলে কাগজে শুধু একজন বিখ্যাত ক্রোয়েশিয়ান ফুটবলার থাকবে না। সেখানে থাকবে শিশুর নিজের বানানো ফুটবল দুনিয়া। হয়তো বলের গায়ে তারা থাকবে, হয়তো জার্সি হবে ঝলমলে, হয়তো স্টেডিয়ামের দর্শকেরা হাসবে, হয়তো পাসের রঙিন বাঁক পুরো পাতাজুড়ে ঘুরে যাবে। লুকা মদরিচ (Luka Modric) বিশ্বকাপ ২০২৬ স্টিকার রং করার পাতা শুধু প্রথম বাঁশিটা বাজায়। এরপর ম্যাচটা শুরু হয় শিশুর হাতে, তার রঙে, তার আঁকায়, তার মজার কল্পনায়।

